যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতৃত্বে আসছে নতুন মুখ

বুধবার, অক্টোবর ১৬, ২০১৯

ঢাকা: আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে এখন মূল আলোচনার বিষয় হচ্ছে জাতীয় ও সহযোগী এবং ভাতৃপ্রতিম সংগঠনের সম্মেলন। আগামী ২০ ও ২১ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনের আগে নভেম্বরে শ্রমিক লীগ, কৃষক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও যুবলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

এসব সম্মেলনের মধ্যে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের পাশাপাশি যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেক লীগের সম্মেলন নিয়ে বেশ আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে নেতাকর্মীদের মধ্যে। এরই মধ্যে আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল নেতা বলেছেন, চলমান শুদ্ধি অভিযানের মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সম্মেলনের মাধ্যমে সৎ যোগ্য ও পরিচ্ছন্ন নেতৃত্বের হাতে সংগঠনের দায়িত্ব দেওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ত্যাগী নিবেদিত ও পরিচ্ছন্ন নেতৃত্বের মাধ্যমে এসব সংগঠনের পুরানো ভাবমূর্তি পূণরুদ্ধারের সূচনা করার চিন্তা নিয়ে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এজন্য আওয়ামী লীগ সভাপতি নিজেই এবার এসব সংগঠনের নেতৃত্ব নির্বাচনের বিষয়ে সার্বিক খোঁজ খবর নিচ্ছেন। কিছু নেতাকে নিয়ে নতুন করে হিসাব নিকাশ করা চলছে দলের মধ্যে।

গত ১৪ অক্টোবর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সহযোগী সংগঠনের সম্মেলনের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত জানানো হয়, বাংলাদেশ কৃষক লীগের সম্মেলন আগামী ৬ নভেম্বর সকাল ১১টায় ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রথম অধিবেশন এবং ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে দ্বিতীয় অধিবেশন, জাতীয় শ্রমিক লীগের সম্মেলন আগামী ৯ নভেম্বর সকাল প্রথম ও দ্বিতীয় অথিবেশন একই স্থানে। বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন ১৬ নভেম্বর ও ২৩ নভেম্বর বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সম্মেলন প্রথম ও দ্বিতীয় অধিবেশন একই স্থানে অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও আগামী ২৯ নভেম্বর সকাল ১০টায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, এবারের সম্মেলনে চেয়ারম্যান পদে আলোচিত প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন যুবলীগের অন্যতম প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ মারুফ, যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মণির ছেলে শেখ ফজলে শামস পরশ, যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মির্জা আজম ও প্রেসিডিয়াম শহীদ সেরনিয়াবাত।

অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে যুবলীগের বর্তমান কমিটির দুজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের সুব্রত পাল ও মহিউদ্দীন আহমেদ মহি নাম আলোচনায় রয়েছে। এছাড়া সাবেক ছাত্রনেতাদের মধ্যে বাহাদুর বেপারী ও ইসহাক আলী খান পান্নার নামও আলোচনায় শোনা যাচ্ছে। যদিও চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এদিকে আওয়ামী লীগের অরেক সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নিয়ে বৃহৎ আকারে সমালোচনা না হলেও সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের বিষয়ে এরই মধ্যে নানা ধরনের নেতিবাচক খবর পাওয়া গেছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এই সংগঠনের কিছু নেতার নানা ধরনের কর্মকাণ্ডের তথ্য এসেছে বলে দলটির দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন।

সূত্র জানায়, এবারের সম্মেলনে সংগঠন থেকে বাদ পড়তে যাচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওছার ও সাধারণ সম্পাদক পংকজ দেবনাথ এমপি। তাদের স্থলে বর্তমান কমিটি নেতাদের মধ্য থেকে ক্লিন ইমেজের দুই নেতা দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন। একজন অপেক্ষাকৃত সিনিয়র নেতাকে সভাপতি ও একজন জুনিয়রকে দেখা যেতে পারে আওয়ামী লীগের এই সহযোগী সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে। ইতোমধ্যেই আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ঘনিষ্ঠ নেতাদের এমনটিই আভাষ দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

আগামী ১৬ নভেম্বর শনিবার সকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের তৃতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সর্বশেষ ২০১২ সালের ১১ জুলাই সংগঠনটির ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে মোল্লা কাওছার সভাপতি এবং পংকজ দেবনাথ সাধারণ সম্পাদক হন। সম্প্রতি রাজধানীর ক্যাসিনো কারবারে ওয়ার্ন্ডার্স ক্লাবের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকার অভিযোগে বিভিন্ন গণমাধ্যমের শিরোনামে আসেন মোল্লা কাওছার। সে কারণে তাকে আর স্বেচ্ছাসেবক লীগে রাখা হবে না এমনটিই ধারণা করছেন আওয়ামী লীগের নেতারা। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক পংকজ দেবনাথ এবারও স্বেচ্ছাস্বেবক লীগের সভাপতি প্রার্থী। তবে তিনি সেই ২০০৩ সাল থেকে সংগঠনটির নেতৃত্বে থাকায় তাকেও এবার অব্যাহতি দেওয়া হবে বলে আওয়ামী লীগের নেতারা জানিয়েছেন। স্বেচ্ছাসেবক লীগ থেকে এবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে আনা হতে পারে বরিশাল-৪ আসনের এই সংসদ সদস্যকে।

আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বে ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা প্রাধান্য পেলেও স্বেচ্ছাসেক লীগে সংগঠনটির বর্তমান কমিটির নেতাদের মধ্য থেকেই সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন করা হবে। কারন, সংগঠনটির বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে যেমন প্রবীণ ও অভিজ্ঞ নেতৃবৃন্দ রয়েছেন, তেমটি সদ্য সাবেক ছাত্রনেতারাও রয়েছেন।

জানা গেছে, এবারের সম্মেলনে সভাপতি হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগের বর্তমান কমিটির সহ সভাপতি মতিউর রহমান মতি, চট্টগ্রামের নুরুল ইসলাম নুরু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী মেসবাউল হোসেন সাচ্চু প্রমুখ। এরা প্রত্যেকেই দীর্ঘদিন স্বেচ্ছাসেবক লীগের রাজনীতিতে সক্রিয়। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের হাইকমার আলোচনায় স্বেচ্ছাসেবক লীগের বর্তমান কমিটির পরিচ্ছন্ন তরুণ নেতা হিসেবে বিশেষ করে সাধারণ সম্পাদক পদে যে কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে; তারা হলেন সাংগঠনিক সম্পাদক খায়রুল হাসান জুয়েল, শেখ সোহেল রানা টিপু ও সাজ্জাদ সাকিব বাদশা। এরা তিনজনই ১/১১ এর সময় ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে শেখ হাসিনার মুক্তি আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। এদের মধ্যে তৎকালীন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক খায়রুল হাসান জুয়েল শেখ হাসিনার মুক্তি আন্দোলনে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার হাতে আটক হয়ে টর্চার সেলে বন্দী ছিলেন। পরবর্তীতে ওই জরুরী অবস্থায় রাজনীতি করার করণে ১ বছর কারাবরণও করেন জুয়েল।

স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলনের বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম বলেন, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি, নেতৃত্বের দক্ষতা, রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা এবং সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে জনপ্রিয়তা রয়েছে এমন প্রার্থীরাই সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বে আসবে বলে আমি ধারণা করি। তিনি বলেন, নেতা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সভাপতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। বিতর্কিত কাউকে নেতৃত্বে আনা হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।