অভিনব কায়দায় দিনে ২ হাজার লিটার তেল চুরি!

বুধবার, অক্টোবর ১৬, ২০১৯

ঢাকা : সরকারি মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) অভিযানে অভিনব কায়দায় হাজার হাজার লিটার জ্বালানি তেল চুরির প্রমাণ মিলিছে। লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে পেট্রল পাম্পগুলো।

বুধবার বিএসটিআইয়ের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

বিএসটিআইয়ের এ অভিযানে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মো. রেজাউল করিমের নেতৃত্বে পরিদর্শক মো. লিয়াকত হোসেন ও মো. বিল্লাল হোসেন অংশ নেন।

ইতিমধ্যে তেল কম দেয়ার অভিযোগে চার পেট্রল পাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে একটিকে সিলগালা করে দেয়া হয়েছে।

মিরপুর-২ এর শাহআলীবাগ এলাকার পেট্রল পাম্প মেসার্স স্যাম অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি প্রতিদিন গড়ে আনুমানিক ৩৬ হাজার লিটার পেট্রল, অকটেন ও ডিজেল বিক্রি করে।

স্যাম অ্যাসোসিয়েটসের চারটি ডিজেল ডিসপেন্সিং ইউনিটে যথাক্রমে প্রতি ১০ লিটারে ৫৪০ মিলিলিটার, ৫৩০ মিলিলিটার, ৫২০ মিলিলিটার ও ৫০০ মিলিলিটার তেল কম; দুটি অকটেন ডিসপেন্সিং ইউনিটে যথাক্রমে প্রতি ১০ লিটারে ৪৪০ মিলিলিটার ও ৪১০ মিলিলিটার অকটেন কম এবং দুটি পেট্রল ডিসপেন্সিং ইউনিটে যথাক্রমে প্রতি ১০ লিটারে ৪৬০ মিলিলিটার ও ৪৭০ মিলিলিটার পেট্রল কম দেয়া হয়।

এ হিসাবে প্রতিষ্ঠানটি দিনে গড়ে প্রায় দুই হাজার লিটার তেল কম দেয়।

অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মঙ্গলবার ‘ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন-২০১৮’ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের এবং প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দেয়া হয়।

উত্তরার আজমপুর এলাকার মেসার্স কসমো ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড সার্ভিস সেন্টারের দুটি অকটেন ডিসপেন্সিং ইউনিটে প্রতি ১০ লিটারে ১৪০ মিলিলিটার অকটেন ও চারটি ডিজেল ডিসপেন্সিং ইউনিটে প্রতি ১০ লিটারে ১৫০ মিলিলিটার, ১২০ মিলিলিটার, ১৯০ মিলিলিটার ও ২০০ মিলিলিটার ডিজেল কম প্রদান করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি দুটি সুপারটেক ও দুটি হাইটেক ডিসপেন্সিং ইউনিটে বিএসটিআইটিআই সিলবিহীন অবৈধভাবে ব্যবহার করে আসছে।

উত্তরা তুরাগ এলাকার মেসার্স লতিফ অ্যান্ড কোং ফিলিং স্টেশন অকটেন ইউনিটে প্রতি ১০ লিটারে ৩১০ মিলিলিটার এবং দুটি ডিজেল ইউনিটে প্রতি ১০ লিটারে ১৬০ মিলিলিটার ও ১৭০ মিলিলিটার তেল কম দেয় বলে প্রমাণ পায় বিএসটিআই।

গাজীপুরের চন্দ্রা এলাকার মেসার্স মুন স্টার ফিলিং স্টেশনের একটি অকটেন ও একটি ডিজেল ইউনিটে প্রতি ১০ লিটারে ৬০ মিলিলিটার ও ৭০ মিলিলিটার তেল কম দেয় এবং চারটি গিলবার্কো ডিসপেন্সিং ইউনিট বিএসটিআইয়ের সিলবিহীন অবৈধভাবে ব্যবহার করে আসছে।

বিএসটিআই অভিযান পরিচালনা করে এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।