লেখক হতে চাইলে মেনে চলুন ৭ টিপস

মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৫, ২০১৯

লাইফস্টাইল ডেস্ক : আপনি হয়তো প্রতিদিনই কিছু না কিছ লেখেন। কিন্তু আপনি যদি সত্যিকার অর্থেই বড় লেখক হতে চান, কিংবা লেখক হিসাবে নাম করতে চান তবে আপনাকে কিছু নির্দেশনা মানতে হবে।

দ্য ইকনোমিস্ট সাময়িকীর ভাষা গুরু হিসেবে পরিচিত লেন গ্রিন, যিনি সাবেক আর্টস সম্পাদক এবং কলামিস্ট, তিনি ভাল লেখক হওয়ার সাতটি টিপস দিয়েছেন। সেগুলো উদিয়মান লেখকদের জন্য তুলে ধরা হেলা:

১. উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে শুরু করুন

আপনি যে বিষয়ে যুক্তি দিতে চান বা যে বিষয়টি নিয়ে গল্পটি বলতে চান তার মোদ্দা কথাটি আপাতত ভুলে যান। শুরু করুন কোন একটি বর্ণনা বা উদাহরণ দিয়ে যা পাঠককে আপনার লেখা পড়তে সঠিক মেজাজটি এনে দেবে। ‘অনেক বছর পর, যখন তাকে ফায়ারিং স্কোয়াডের মুখে পড়তে হলো….’এভাবে নিজের বিখ্যাত উপন্যাস ‘ওয়ান হান্ড্রেড ইয়ারস অব সলিটিউড’(নিঃসঙ্গতার একশ বছর) শুরু করেছিলেন লেখক গ্র্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ। ফায়ারিং স্কোয়াডের মুখে কে রয়েছে এবং কেনই বা রয়েছে? এর চেয়ে শক্তিশালী কোন জিজ্ঞাসা দিয়ে কোন রচনা শুরু করা সম্ভব নয়।

২. বাক্য সংক্ষিপ্ত রাখুন

লেখাকে ছোট এবং মধুর করুন। এটা কাজে দেয়। সংক্ষিপ্ত বাক্যে লিখলে তা আসলে পাঠকের মেধাকে ছোট করা বোঝায় না। তবে এটা করাটা অতটা সোজাও নয়। কিন্তু এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটা কোন স্টাইল নয়, কিন্তু মানুষের জৈবিক বৈশিষ্ট্য মাত্র: কারণ এভাবেই আমাদের মস্তিষ্ক কাজ করে।

দীর্ঘ একটি বাক্য, বিশেষ করে যেসব বাক্যে একাধিক অধীনস্থ বাক্যাংশ থাকে, সে ধরনের বাক্য বুঝতে হলে পাঠককে ব্যাকরণের পাশাপাশি মূল বিষয়টিকে মাথায় একসাথে রাখতে হয়। যা অনেক বেশি কঠিন এবং পাঠককে আপনার লেখার ব্যাকরণ নিয়ে ব্যস্ত রাখারও কোন মানে হয় না। এর চেয়ে বরং লেখার মূল বিষয় বস্তুর উপরই গুরুত্ব দেয়া উচিত।

৩. একই সাথে, বিভিন্ন দৈর্ঘ্যের বাক্যও লিখতে হবে

ভাল লেখার আলাদা ছন্দ থাকে। আপনি হয়তো শুনে থাকবেন: ‘সব কিছুরই পরিমিতি বোধ থাকা উচিত, এমনকি পরিমিতিরও পরিমিতি বোধ থাকা জরুরি।’

যেখানে ছোট ছোট বাক্যে লেখাটাই সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা উচিত, তবে সব বাক্যই যদি ছোট লেখা হয় এবং আর কোন ধরনের বাক্য যদি না থাকে তাহলে তা আপনার লেখাকে রসহীন করে তুলবে। তাই একটা লেখায় সব ধরণের বাক্যই থাকতে হবে।

৪. সঠিক শব্দ ব্যবহার করুন

সঠিক শব্দের ব্যবহার পাঠককে দেখা, গন্ধ নেয়া, স্বাদ নেয়া কিংবা পায়ের আঙুল দিয়ে স্পর্শ করার মতো অনুভূতি দেয়। এটা পাঠককে এমন কিছু দেয় যা দিয়ে তারা তাদের মনের চোখ দিয়ে এক ধরণের ছবি আঁকে। এই ছবি এবং শব্দ মিলে, আপনার বার্তাকে স্মরণীয় এবং আকর্ষণীয় করে তুলবে পাঠকের কাছে।

৫. বিমূর্ত শব্দ এড়িয়ে চলুন

লেখার সময় শব্দ চয়নের দিকে খেয়াল রাখুন। এটি আপনার লেখাকে ক্লাসিক করে তুলতে পারে। অর্থাৎ পুরনো, অব্যবহৃত আর জটিল শব্দ বাদ দিয়ে সহজবোধ্য শব্দ দিয়ে বাক তৈরি করলে পাঠক সহজেই বুঝতে পারে। প্রাতিষ্ঠানিক, আমলাতান্ত্রিক এবং অন্যান্য প্রাচীন লেখায় এসব শব্দের প্রাচুর্য দেখা যায়। এর পরিবর্তে স্পষ্টভাবে কল্পনা করা যায় এবং নির্দিষ্টভাবে বিষয়বস্তুকে তুলে ধরে এমন শব্দ বাছাই করা উচিত।

৬. নিজের লেখাটি জোরে জোরে পড়ুন

যা লিখছেন তা পড়ুন- সম্ভব হলে কাউকে পড়ে শোনান। শুধু নিজে নিজে লেখা, পুনরায় লেখা এবং সম্পাদনাই যথেষ্ট নয়, বরং জোরে জোরে পড়ুন।

যখন আপনি পড়বেন তখন আপনি বুঝতে পারবেন যে, লেখার সময় আসলে আপনি কোন ধরনের শব্দটি ভুলে গেছেন বা মিস করেছেন। যদি এটা বলতে কষ্ট হয়, তাহলে এটা পড়তেও কষ্ট হবে। এছাড়া কোথায় ছন্দপতন হয়েছে সেটিও আপনি সহজেই ধরে ফেলতে পারবেন।

৭. দৃঢ়ভাবে শেষ করুন

শেষের জন্য আপনার জানা সবচেয়ে শক্তিশালী শব্দ বা বাক্য গুচ্ছ ব্যবহার করুন। আপনি কি ধরণের শব্দ বাছাই করছেন সেদিকে খেয়াল রাখুন। এমনকি শক্তিশালী বা জোর রয়েছে এমন সিলেবল দিয়ে শেষ করার চেষ্টা করুন। কেননা কোনো গল্প বা রচনার শেষের শব্দগুলোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র: বিবিসি বাংলা