শেখ হাসিনার অ্যাকশন শুরু হয়ে গেছে: ওবায়দুল কাদের

সোমবার, অক্টোবর ১৪, ২০১৯

ঢাকা: সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজদের হুঁশিয়ার জানিয়ে আওয়ামী লিগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, শেখ হাসিনার অ্যাকশন শুরু হয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দলের মধ্যে শুদ্ধি অভিযান চলছে । মাদক, জুয়া, টেণ্ডারবাজি, দুর্নীতিসহ সবধরণের অপকর্মের বিরুদ্ধে এই শুদ্ধি অভিযান। সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ-টেন্ডারবাজরা সাবধান। প্রথমে ঘর থেকে শুরু করা হয়েছে। এ অভিযান শুধু ঢাকা সিটিতেই নয়, সারা বাংলাদেশে চলবে। এই অ্যাকশনের টার্গেট থেকে কোনো অপকর্মকারী রেহাই পাবে না। আজ রোববার দুপুরে আওয়ামী লীগের রাজশাহী বিভাগীয় প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন,খারাপ লোকের আমাদের দরকার নেই। ক্লিন ইমেজের পার্টি দরকার, আগামী জাতীয় কাউন্সিলকে সামনে রেখে আমরা আমাদের দলকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নতুন মডেলে ঢেলে সাজাতে চাই। আমরা ক্লিন ইমেজের নেতৃত্ব গড়ে তুলতে চাই সারাদেশে। খারাপ ইমেজের লোক, যাদের ভাবমূর্তি নেই, এই সব লোকদের দলে টেনে পাল্লা ভারি করে কোনো লাভ নেই। দুষ্টু গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভাল। আমার দুষ্টু গরুর দরকার নেই।

মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটির সম্মেলন করার তাগিদ দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, জাতীয় কাউন্সিলের আগেই তৃণমূলের মেয়াদ উত্তীর্ণ সকল কমিটি করতে হবে। এ নিয়ে কারও গাফিলতি সহ্য করা হবে না। তিনি বলেন, যারা পদ পেয়ে ছাড়তে চান না তারা মনে রাখবেন আওয়ামী লীগে শেখ হাসিনা ছাড়া আমরা কেউই অপরিহার্য নয়। কোনো পদ কারও কাছে লীজ দেওয়া হয়নি। পরিষ্কার বলে দিতে চাই, আজকে প্রভাব খাটাবেন, জোর করে পদ দখল করে রাখবেন, মনে হয় যেন মৃত্যুর আগে পদ ছাড়বেন না। এ রকম লোকও আছেন। আমরা স্মার্ট আওয়ামী লীগ চাই। আরও আধুনিক আওয়ামী লীগ চাই, বিশুদ্ধ আওয়ামী লীগ চাই। দূষিত রক্ত চাই না। দূষিত রক্ত বের করে দিয়ে আবার আওয়ামী লীগের সকল পর্যায়ে বিশুদ্ধ রক্ত সঞ্চালন করতে হবে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য প্রফেসর ড. সাইদুর রহমান খান, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা এবং সদস্য মেরিনা জাহান।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর পরিচালনায় সভায় পরারাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু এমপি, পাবনার এমপি গোলাম ফারুক প্রিন্স, রাজশাহীর এমপি এনামুল হক, আয়েন উদ্দিনসহ বিভাগের অন্যান্য আসনের এমপিরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ ছাত্র রাজনীতি বন্ধের পক্ষে নয়। তিনি বলেন, যারা ছাত্র রাজনীতির নামে অপকর্ম করবে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। রাজনীতিবীদদের অধিকাংশেরই হাতে খড়ি ছাত্র রাজনীতি থেকে। কাজেই মাথা ব্যাথা হলে মাথা কেটে ফেলা সমাধান নয়।

সকালে একদিনের সরকারি সফরে আসেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। রাজশাহী সার্কিট হাউজে তাকে দেয়া গার্ড অফ অনার দেয়া হয়। পরে দুপুর ১২টায় তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

যুবলীগের চেয়ারম্যান প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, চেয়ারম্যান নজরদারিতে আছে কিনা তা পরে জানা যাবে। তিনি আত্মগোপনে নেই। তবে যুবলীগের নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে। তারা নজরদারিতে আছেন।