চলতি বছরেই ২৮ বাংলাদেশিকে হত্যা করেছে বিএসএফ

সোমবার, অক্টোবর ১৪, ২০১৯

ঢাকা : থামছে না সীমান্তে হত্যা। বার বার ভারতের প্রতিশ্রুতি সত্বেও সীমান্তে একপেশে এই হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে প্রতিবেশি ভারতের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী-বিএসএফ। চলতি বছরের শুরুতেই বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশিদের নিহত হবার ঘটনা বেড়েছে। চলতি বছরের এই ৯ মাসে (সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত ২৮ বাংলাদেশিকে হত্যা করা হয়েছে।

বিএসএফ-এর দিক থেকে চোরাকারবালি রোধ ও আত্নরক্ষার্থে গুলি চালানোর কথা বলা হলেও বাংলাদেশের বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তারা সেটিকে ‘অযৌক্তিক’ বলে বর্ণনা করছেন। তাদের দাবি- চোরাকারবালিতে দুই দেশের মানুষই জড়িত, কিন্তু নিহত হয় কেবল বাংলাদেশি।

সর্বশেষ রবিবার (১২ অক্টোবর) ভোরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের মাসুদপুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে জোহরুল ইসলাম নামে এক বাংলাদেশি রাখাল নিহত হয়েছেন। নিহত জহরুল ইসলাম শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের তারাপুর ঠুটাপাড়া গ্রামের আবদুল কাদিরের ছেলে।

তবে গত বৃহস্পতিবার তিন র‍্যাব সদস্য ও তাদের দুই নারী সোর্সকে গণপিটুনির ঘটনার আলোচনায় আসে। ওই দিন সকালে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার আশাবাড়ী সীমান্ত থেকে তিন র‍্যাব সদস্য ও তাদের দুই নারী সোর্সকে আটক করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। বেধরক মারপিটের পর বাংলাদেশি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিবি) সঙ্গে এক পতাকা বৈঠকের পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় ১০ ঘণ্টা আটকে রাখার পর তাদের ফেরত দেয় বিএসএফ।

বাংলাদেশের মানবাধিকার সংগঠন অধিকার তাদের ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এ বছর জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর এ ৯ মাসে বিএসএফের হাতে ২৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন, অপহরণের শিকার হয়েছেন আরও ১৭ জন।

সংস্থাটি বলছে, প্রতিটি ঘটনাতেই নিরস্ত্র বাংলাদেশিরা নিহত হয়েছেন। বিএসএফের গুলিতে যখনই কোনও বাংলাদেশি নিহত হয় তখন বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তাকে গরু চোরাচালানকারী হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা দেখা যায়। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকার অনেক মানুষের ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে।

সংগঠনটির অভিযোগ- গরু চোরাচালানের সাথে ভারতীয়রা জড়িত থাকলেও গুলিতে কেবল বাংলাদেশিরাই নিহত হচ্ছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, আত্মরক্ষার জন্য বিএসএফ-র দিক থেকে যে ব্যাখ্যা দেয়া হয় সেটি যৌক্তিক নয়। সীমান্তে প্রাণঘাতি অস্ত্র ব্যবহার সম্পর্কে বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও বিএসএফ সেটিকে মোটেই গুরুত্ব দিচ্ছে না। বিশ্বাসযোগ্য অজুহাত ছাড়া তারা প্রায়ই বলে আত্নরক্ষার্থে তাদের গুলি করতে হয়।

বেসামরিক মানুষকে মোকাবেলার জন্য যদি গুলি করতেও হয় তাহলে এমন জায়গায় সেটি করতে হবে যাতে প্রাণহানি না হয় বলেও মন্তব্য তাদের।