রাজীবের মৃত্যু: ১০ লাখ টাকা দেওয়ার নির্দেশ স্বজন পরিবহনকে

রবিবার, অক্টোবর ১৩, ২০১৯

ঢাকা : রাজধানীর কারওয়ান বাজারে দুই বাসের রেষারেষিতে হাত হারানোর পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া রাজীব হোসেনের দুই ভাইকে এক মাসের মধ্যে ১০ লাখ টাকা দিতে স্বজন পরিবহনকে নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ।

রোববার (১৩ অক্টোবর) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে স্বজন পরিবহনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী শফিকুল ইসলাম বাবুল। রাজীবের পরিবারের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।

আদালত স্বজন পরিবহনের আইনজীবীকে বলেন, ‘আগে এক মাসের মধ্যে ১০ লাখ টাকা রাজিবের দুই ভাইকে দিয়ে আসেন। তারপর হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপনাদের করা লিভ টু আপিলের শুনানি হবে।’

এরপর আদালত হাইকোর্টের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে স্বজন পরিবহনের করা লিভ টু আপিল শুনানির জন্য আগামী ১৭ নভেম্বর দিন ধার্য করেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৩ এপ্রিল রাজধানীর কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারার কাছে বিআরটিসি ও স্বজন পরিবহনের দুই বাসের রেষারেষিতে হাত হারান রাজীব। দুই বাসের চাপায় তার ডান হাত কনুইয়ের ওপর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই তাকে পান্থপথের শমরিতা হাসপাতালে নেয়া হয়।

পরদিন ৪ এপ্রিল রাজীবের চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।

তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজীবের অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডি‌ক‌্যাল কলেজে স্থানান্তর করা হয়। ১৩ দিন চিকিৎসার পর ১৬ এপ্রিল মধ্যরাতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন রাজীব। পরে রাজীবের পরিবারকে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বাঁশবাড়ি গ্রামের রাজীব তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় মা এবং অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় বাবাকে হারান। ঢাকার মতিঝিলে খালার বাসায় থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করে ভর্তি হন স্নাতকে।