৩৬টি পাম্প দিয়ে ফেনী নদী থেকে ৭২ কিউসেক পানি তুলছে ভারত

শুক্রবার, অক্টোবর ১১, ২০১৯

ঢাকা : তিস্তা চুক্তি না হলেও ফেনী নদী থেকে ভারত পানি নিতে সমঝোতা চুক্তি করেছে ভারত-বাংলাদেশ। ত্রিপুরাবাসী এতে আনন্দিত হলেও বাংলাদেশ এ চুক্তি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। শুধু ফেনী নদী নয় বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে অন্যান্য চুক্তি নিয়েও সমালোচনা চলছে। সমালোচনায় কারণে বুয়েটের মেধাবী ছাত্রকে প্রাণও দিতে হয়েছে। যখন টক অব দ্যা কাউন্ট্রিতে পরিণত হয়েছে।

বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদন বলা হয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী ফেনী নদী থেকে ১ দশমিক ৮২ কিউসেক পানি তুলে নেবে ভারত। কিন্তু তার আগে থেকেই ভারত সীমান্তবর্তী ওই নদীকে ৩৬টি পাম্প বসিয়ে প্রতিনিদিন অন্তত ৭২ কিউসেক পানি তুলে নিচ্ছে।

সরকারি তথ্যমতে, ফেনী নদীর উৎপত্তি খাগড়াছড়ির পাহাড়ে ভারত-বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায়। উৎপত্তিস্থল থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্ত ঘেঁষে এ নদী ভাটিতে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে। নদীর উজানে সীমান্তবর্তী এলাকায় দেখা যায়, কোনো চুক্তি ছাড়াই নদীতে পাম্প বসিয়ে পানি তোলে ভারত। অথচ অভিযোগ রয়েছে, সীমান্তবর্তী এলাকায় চাইলেই নদীতে পাম্প বসিয়ে পানি তুলতে পারেন না বাংলাদেশের কৃষকরা।

ফেনী নদীর উৎপত্তি খাগড়াছড়ির পাহাড়ি অঞ্চলে। সেখান থেকে নদীটি বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্ত ঘেঁষে এ নদী ভাটিতে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে। কোনো চুক্তি ছাড়াই নদীতে পাম্প বসিয়ে পানি তোলে ভারত। অথচ অভিযোগ রয়েছে, সীমান্তবর্তী এলাকায় চাইলেই নদীতে পাম্প বসিয়ে পানি তুলতে পারেন না বাংলাদেশের কৃষকরা।

খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলায় অবস্থিত ৪৩ বিজিবি ব্যাটলিয়নের অধিনায়ক লেফ. কর্নেল তারেকুল হাকিম জানান, সীমান্ত ৩৬টি পাম্প মেশিন দিয়ে পানি তুলছে ভারত। নো ম্যান্স ল্যান্ড থেকে এগুলো সরিয়ে নিতে বিএসএফ এর সঙ্গে বৈঠকে বারবার তাগাদা দেওয়া হলেও পানি তোলা বন্ধ হয়নি।

পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার (ওয়ারপো) সাবেক মহাপরিচালক ম এনামুল হক বলেন, নদী থেকে খুব সহজেই পানি তোলা যাচ্ছে, ডিপে যাওয়া লাগছে না। এক একটা পাম্প মিনিমাম দুই কিউসেক। যদি ৩৬টা পাম্প হয়ে থাকে তো ৭২ কিউসেক পানি তারা অলরেডি তুলছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের হাইড্রোলজি বিভাগের হিসেবে, বর্ষা মৌসুমে এ নদীর পানিপ্রবাহ থাকে ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার কিউসেক। আর শুষ্ক মৌসুমে থাকে প্রায় ৫০ কিউসেক। তবে ভারতীয় তথ্যে, শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রবাহ থাকে ১০৯ কিউসেক।

এনামুল হক বলেন, ১.৮২ কিউসেক পানি তুলে নেওয়ার যে চুক্তি হয়েছে সেটা তেমন কোনো ক্ষতি করবে না। ১২০ কিউসেক পানি আমাদের ছিল, সেটা এখন ৫০-এ নেমে এসেছে। কিন্তু ১.৮২ কিউসেক যদি হয় একটা পাম্পের জন্য, তাহলে ভারত অবৈধভাবে যে ৩৬টি পাম্প বসিয়ে পানি নিচ্ছে সে বিষয়ে কী ব্যবস্থা।

এ প্রসঙ্গে যৌথ নদী কমিশনের বাংলাদেশের সদস্য কে এম আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এটি চুক্তি বহির্ভুত। সরকারি পর্যায়ে এ ধরনের কোনো চুক্তি বা সিদ্ধান্ত নেই। তবে চুক্তি বহির্ভুত যে নদীগুলো আছে সেখানে এসব হয়ে থাকে। চুক্তির পর সেগুলো যেন আর না হয় সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। আর ভবিষ্যতে সীমান্তবর্তী আরো ৭টি নদীর পানি বণ্টন চুক্তি হতে যাচ্ছে, তখন এগুলোর সমাধান হয়ে যাবে।