ছেলে ফারহান, স্ত্রী অঞ্জনাকে হত্যার পর যে কারণে আত্মহত্যা

শুক্রবার, অক্টোবর ১১, ২০১৯

ঢাকা : ১৯৯৫-৯৬ সালের দিকে গার্মেন্টস দিয়ে ব্যবসা শুরু।সাভারের হেমায়েতপুরের রাজফুলবাড়িয়া এলাকায় একটি গার্মেন্টস দেয়। গার্মেন্টসটিতে শুধু পর্দার কাপড় তৈরি হতো। অনেক দিন চালানোর পর সেটিতে বড় অঙ্কের টাকা লোকসান করে। এরপর কিছু দিন বিরতি দিয়ে আবার মিরপুরের পর্বতায় গার্মেন্টসের ব্যবসা শুরু করেন।

এটিতে তার ভাই সহযোগিতা করে। তার ভাইয়েরা সবাই প্রতিষ্ঠিত। এই সময় একটি ভবনের মাত্র দুইটি ফ্লোর নিয়ে গার্মেন্টস ব্যবসা শুরু করে। সেটিতেও লোকসান করে। এরপর সে আশুলিয়া কাজী এসপেরাগাজ নামের একটি হোটেল খুলে। লোকসানের মুখে সেটিও বিক্রি করে দেয়। সর্বশেষ বেকার ছিল। কোন কাজকর্ম করত না।

এটা কোন সিনেমার গল্প নয়। বাস্তব ঘটনা। বলছিলাম মিরপুরের এসএম বায়েজীদের কথা। বয়স ৪৪। থাকতেন রাজধানীর মিরপুরের কাফরুল থানার মিরপুর ১৩ নম্বর সেকশনের ৫ নম্বর সড়কের ১০ নম্বর ছয়তলা বাড়ির তৃতীয় তলায়। স্ত্রী অঞ্জনা আক্তার (৪০) এবং ছেলে মো. ফারহান (১৭)। ফারহান মিরপুর কমার্স কলেজে একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিল।

দারোয়ানের বক্তব্যে যেভাবে দেখছে ঘটনা: সকাল ১১টার দিকেও তিন-চারজন লোক এসেছিলেন পাওনা টাকার জন্য। তারা বলেন, ফোন করলে ধরছেন না। দরজায় অনেকক্ষণ নক করেও কোনো সাড়াশব্দ পাইনি। পরে মনে হলো, গতকাল (বুধবার) তিনি গাজীপুরে গিয়েছিলেন। ভাবলাম, সেখান থেকে ফেরেননি। এর আধাঘণ্টা পর একজন আসলেন। বললেন, তাকে নাকি আগের রাতে মেসেজ দিয়েছেন, আজই শেষ রাত। এ কথা শুনে সেই লোকসহ আমরা তার ফ্ল্যাটে নক করতে থাকি। কিন্তু কেউ দরজা না খোলায় পরে দরজা ভেঙে ফেলি। দরজা ভেঙে দেখা যায়, ছেলে আর স্ত্রী খাটের ওপর পড়ে আছে, বায়োজিদ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছেন। এটা দেখে সঙ্গে সঙ্গে আমরা পুলিশকে খবর দেই। ঘণ্টাখানেকের মধ্যে পুলিশ আসে ঘটনাস্থলে।

নিজের পরিবারের সঙ্গে তার মান অভিমান ছিল। বায়েজীদ প্রেম করে অঞ্জনাকে বিয়ে করে। বিয়ে মেনে নিতে পারেননি বায়েজীদের পিতা-মাতা ও ভাই বোনদের অনেকেই।

এ ব্যাপারে কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিমুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হচ্ছে। পরে মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। আলামত সংগ্রহের জন্য সিআইডি এসেছে। বিস্তারিত কিছুক্ষণ পরে জানাতে পারবো।