আবরার হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিল আসামি ইফতি

শুক্রবার, অক্টোবর ১১, ২০১৯

ঢাকা : ডেকে আনা হলো রুমে। রুমে ঢুকিয়েই মার। চড়, ক্রিকেটের স্ট্যাম্প ও স্কিপিং রোপ দিয়ে চলতে থাকল অত্যাচার। এক পর্যায়ে ভেঙে গেল স্ট্যাম্প। ঢলে পড়লেন আববার। তাকে আবার টেনে দাঁড় করানো হলো।

আবার নতুন স্ট্যাম্প দিয়ে মারা হলো। স্কিপিং রোপ দিয়ে মাথায় মারা হলো। মেঝে থেকে উঠে দাঁড়াতে পারছিলেন না আবরার। কয়েকজন মিলে ধরে আবরারকে টেনে তুলে আবার মারতে শুরু করলেন। এরপর চিরতরে ঢলে পড়লেন আবরার, আর উঠলেন না।

বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে আবরারকে পেটানোতে সরাসরি যুক্ত বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতা ইফতি মোশাররফ সকালের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এভাবেই উঠে আসে হত্যাকাণ্ডের বীভৎস বিবরণ। স্ট্যাম্প হাতে আবরারকে পেটানোতে অগ্রগামী ছিলেন অনিক সরকার এবং জিয়ন। ইফতি এসেছিলেন রাত দশটার দিকে। তিনি এসে মেঝেতে পড়ে থাকা আবরারকে টেনে তুলে মারেন। এসময় শুরু হয় স্কিপিং রোপ দিয়ে মার। মারছিলেন মুজাহিদ।

রাত এগারোটার দিকে অনিক সরকার আবারও নতুম স্ট্যাম্প দিয়ে আবরারকে ভয়াবহভাবে পেটান। এরপরই বমি করে চিরঘুমে ঢলে পড়ে আবরার। এসময় তামিম বাইকে করে বুয়েটের মেডিকেল সেন্টারের ডাক্তারকে ডেকে আনেন। ডাক্তার আবরারকে পরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রসঙ্গত, বুয়েটের তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদকে রবিবার রাতে তাকে শেরেবাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে ২০১১ নম্বর কক্ষে বেধড়ক পেটান বুয়েট ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এতে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে রাজধানীর চকবাজার থানায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন