১০ ধাপ নেমে ভারতের অবস্থান ৬৮তম

বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা সূচকে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে শীর্ষে সিঙ্গাপুর

বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১০, ২০১৯

বিশ্বের সবচেয়ে প্রতিযোগীসক্ষম দেশের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রকে হটিয়ে শীর্ষে উঠে এসেছে সিঙ্গাপুরের নাম। গতকাল প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) এক প্রতিবেদনে আরো দেখা গেছে, উদীয়মান অর্থনীতি ভারতের অবস্থান ১০ ধাপ পিছিয়ে ৬৮তম স্থানে চলে এসেছে। খবর সিএনবিসি ও পিটিআই।

২০১৯ সালের গ্লোবাল কম্পিটিটিভনেস রিপোর্টে ১৪১টি দেশের ১০৩টি প্রধান সূচক পরিমাপ করেছে ডব্লিউইএফ যার মধ্যে রয়েছে মূল্যস্ফীতি, ডিজিটাল দক্ষতা ও বাণিজ্য শুল্ক।

প্রতিষ্ঠান, সামষ্টিক অর্থনীতিক স্থিতিশীলতা এবং স্বাস্থ্যের মতো ১২টি প্রধান ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে ডব্লিউইএফ।

২০১৮ সালের র্যাংকিংয়ে যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষ অবস্থানে থাকলে এবার দ্বিতীয় অবস্থানে অবনয়ন হয়েছে। তবে প্রতিবেদনটিতে এটাও স্বীকার করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র এখনো ‘উদ্ভাবনী ক্ষমতার শক্তিঘর’।

বিভিন্ন সাব-ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ স্কোর করেছে যুক্তরাষ্ট্র; যার মধ্যে রয়েছে দক্ষ কর্মীর সহজলভ্যতা এবং ভেঞ্চার মূলধনের সহজলভ্যতা। এছাড়া ব্যবসায় বৈচিত্র্যের ক্ষেত্রে অন্যান্য দেশের তুলনায় র্যাংকিংয়ে অনেক এগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র।

তবে কয়েকটি ক্যাটাগরিতে তুলনামূলক নিম্ন স্কোর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য শুল্ক, জীবনমান প্রত্যাশার অবনয়ন এবং আমেরিকান জনগোষ্ঠীর নিম্ন ডিজিটাল দক্ষতা দেশটির সার্বিক স্কোরে পতন হয়েছে। ডব্লিউইএফের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জীবনমান প্রত্যাশা চীনের নাগরিকদের চেয়ে কম। চলমান অপিওয়েড সংকটের জেরে প্রত্যাশিত আয়ুষ্কালের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ৩৯তম।

সরকারি খাত, শ্রমশক্তি, বৈচিত্র্য ও অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে বেশ ভালো স্কোর করার মাধ্যমে শীর্ষে চলে এসেছে সিঙ্গাপুর। প্রত্যাশিত আয়ুষ্কালের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে সিঙ্গাপুরের অবস্থান যাদের প্রতিটি নবজাতক শিশুর প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল ৭৪ বছর। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল ৬৬ বছর এবং চীনের ৬৮ বছর।

শীর্ষ পাঁচে থাকা অন্য তিনটি দেশ হচ্ছে হংকং, নেদারল্যান্ডস ও সুইজারল্যান্ড। অব্যাহত রাজনৈতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও ২০১৮ সালের অবস্থান থেকে চার ধাপ এগিয়েছে হংকং। সার্বিকভাবে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে সবচেয়ে প্রতযোগিতামূলক অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তার পরই রয়েছে ইউরোপ ও উত্তর আফ্রিকা।

উদীয়মান অর্থনীতি ভারতের অবস্থান ১০ ধাপ নেমে ৬৮তম স্থানে চলে এসেছে। অন্য দেশগুলো বিভিন্ন সূচকে এগিয়ে গেলেও ভারতের অর্থনীতিতে শ্লথগতি দেখা দেয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের অবস্থানের অবনয়ন হয়েছে। এর আগেরবার ভারতের অবস্থান ছিল ৫৮তম। এবার ব্রিকসভুক্ত অপর দেশ ব্রাজিলের অবস্থান আরো অবনয়ন হয়ে ৭১তম স্থানে নেমে এসেছে।

সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বাজারের আকারের দিক থেকে ভারতের স্কোর বেশ ভালো থাকলেও আর্থিক খাতে দুর্বলতার প্রভাব পড়েছে সূচকে।

করপোরেট গভর্ন্যান্সের দিক থেকে ভারতের অবস্থান ১৫তম এবং শেয়ারহোল্ডার গভর্ন্যান্সে বৈশ্বিকভাবে ভারতের অবস্থান দ্বিতীয়। বাজারের আকার ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান তৃতীয়। তবে প্রত্যাশিত আয়ুষ্কালের দিক থেকে ১৪১টি দেশের মধ্যে ভারতের অবস্থান ১০৯তম, যা আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার রাষ্ট্রগুলোর প্রত্যাশিত গড় আয়ুর চেয়ে কম।