আবরার হত্যাকাণ্ড নিয়ে যা বললেন ড. কামাল

বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১০, ২০১৯

ঢাকা : মতপ্রকাশের কারণে এভাবে পিটিয়ে হত্যা করা সংবিধানের ওপরে আঘাত মন্তব্য করে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, সংবিধানে আমাদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে। যে কেউ তার মত প্রকাশ করতেই পারেন। সে জন্য পিটিয়ে হত্যা করা জঘন্যতম অপরাধ।

বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে মাওলানা আকরাম খাঁ হলে গণফোরাম আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার বিচারের দাবিতে ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষিতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে গণফোরাম।

আবরার হত্যার উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত দাবি করে ড. কামাল হোসেন বলেন, তদন্ত করে সত্যিকারের ঘটনা উদ্ঘাটন করতে হবে। এটা কোন দলীয় বক্তব্য নয়। ১৬ কোটি মানুষের একজন হিসেবে আমি এই দাবি জানাচ্ছি।

এসময় এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, লেজুড়বৃত্তি ছাত্র রাজনীতি আমরা কোনদিনই চাই না। তবে স্বাধীন ছাত্র রাজনীতি থাকতে পারে।

আবরার হত্যাকাণ্ডে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চান কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল হোসেন বলেন, বিচার বিভাগীয় হতে পারে সাথে অন্যরাও থাকতে পারেন।

দেশের বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতিতে আপনারদলের সংসদ সদস্য পদত্যাগ করবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেটা দলীয় ফোরামে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এসময় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী।

তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মী এমন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে যে, তারা আজ ফ্র্যাঙ্ককেন স্টাইলের মতো আচরণ করছে। হলে হলে টর্চার সেল। বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইডেন মহিলা কলেজ, ঢাকা কলেজের হল গুলোতে রয়েছ টর্চার সেল। টার্গেটে থাকা শিক্ষার্থীকে টর্চার করার আগে দেয়া হয় বিরোধী কোন সংগঠনের তকমা। এটা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক, রাজনৈতিক ভন্ডামী ও কৌশলী প্রতারণা ।

এসময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক আবু সায়ীদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য মেজবাহ উদ্দিন, মহসীন রশিদ, মোকাববির খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিন আহমেদ আফসারি, মোস্তাক আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক লতিফুল বারি হামিম প্রমুখ।