আবরারের মৃত্যুই প্রমাণ করে সরকার ভিন্নমত নিধনের লাইসেন্স দিয়েছে

বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১০, ২০১৯

ঢাকা : কামরুল হাসান অভি, রাবি থেকে: সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে গৃহীত অসম চুক্তির প্রতিবাদ করে স্ট্যাটাস দেয়ার কারণে আবরারকে পৈশাচিক ভাবে পিটিয়ে হত্যা করে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ( বুয়েট) শাখা ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা। তাদের এই হত্যাযজ্ঞ প্রমাণ করে সরকার ছাত্রলীগকে ভিন্নমত নিধনের লাইসেন্স দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষকরা।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, শিক্ষাঙ্গনে দুর্নীতি ও সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি, আবরার হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন তারা। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের সামনে এ কর্মসূচির পালন করে তারা। মানববন্ধনে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সহ-সভাপতি মামুনুর রশিদের সঞ্চালনায় বক্তারা বলেন,আবরারের মৃত্যু শুধু মৃত্যু নয় , এটি একটি জাতিসত্ত্বার মৃত্যু।

তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেয়া স্ট্যাটাস শুধু তার মতামত নয়। এটি দেশের অধিকাংশ মানুষের মতামত। এই মতামত দেয়ার কারণে সরকার দলীয় সন্ত্রাসীরা তাকে হত্যা করেছে। দিনের পর দিন সরকারের ছত্রছায়ায় তারা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশে তারা সব ধরনের অপরাধ কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত।

দেশে কোন বিচার নাই, প্রশাসন নাই, তারাই প্রশাসনের সবকিছু। ছাত্রলীগের উর্ধতন নেতারা কি জুনিয়রদের মানুষ মারার প্রশিক্ষণ দেন? নাহলে তারা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে কীভাবে সন্ত্রাসী হয়ে উঠলো? ছাত্রলীগকে আর নিয়ন্ত্রন করা যাচ্ছে না। এই সন্ত্রাসী সংগঠনটিকে অবিলম্বে নিষিদ্ধ করতে হবে।

আজকে বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে জীবন দিতে হয়। আবার বাংলাদেশে কেউ কেউ জয় হিন্দ স্লোগানের মাধ্যমে ভারতের অঙ্গরাজ্য হিসেবে দেখতে চায়। এ কারণে তারা জয় হিন্দ স্লোগান দিচ্ছেন। তারা মনে মনে শপথ গ্রহণ করেছেন যাতে এই বাংলাদেশ অনতিবিলম্বে ভারতের অংশ হয়।

এ সময় তারা আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন গুলো দূর্নীতিতে ছেয়ে গেছে। দুর্নীতির প্রমাণ হিসেবে ক্যাম্পাসে সৌন্দর্য বর্ধনের নামে আশি লক্ষ টাকার ঘাস লাগানোর নাটক করা হয়েছে। আমরা ধিক্কার জানাই এই মানুষিকতাকে। কোথাও কোথাও কয়েক খানা ইট খাড়া করে দিয়ে ছবি তৈরি করে কোটি কোটি টাকা লোপাট হচ্ছে।

উপ-উপাচার্যের যে অডিও ক্লিপ ফাঁস হয়েছে এতেই প্রমাণ হয় শিক্ষা প্রধানসহ সব জায়গায় আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে নিয়োগ হয়। যারা এই নিয়োগের নামে বাণিজ্যে করছে তাদেরকে পদত্যাগ করতে হবে। তাদেরকে বিচারের কাঠগড়ায় দাড় করানোর জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।

এ সময় আরো বক্তব্য দেন, অধ্যাপক ড. এনামুল হক, অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম ফারুকী, অধ্যাপক ড. আমজাদ হোসেন, অধ্যাপক ড. শামসুল আলম সরকার, অধ্যাপক ড. কে বি এম মাহবুবুর রহমান, অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম প্রমূখ। মানববন্ধনে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের শতাধিক শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।