আবার জাতীয় ক্রিকেট লিগের টাইটেল স্পন্সর ওয়ালটন

বুধবার, অক্টোবর ৯, ২০১৯

স্পোর্টস ডেস্ক : ঘরোয়া বড় দৈর্ঘ্যের ক্রিকেটে দেশের প্রধানতম টুর্নামেন্ট জাতীয় ক্রিকেট লিগ। দ্বিতীয়বারের মতো জাতীয় ক্রিকেট লিগের তিন বছরের টাইটেল স্পন্সরশিপ বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

বরাবরের মতো এবারও বিসিবি পাশে পেয়েছে তাদের পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে। জাতীয় ক্রিকেট লিগের পরবর্তী তিন আসরের টাইটেল স্পন্সর দেশের স্বানমধন্য ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিকস, অটোমোবাইলস, হোম অ্যাপ্লায়েন্স ও টেলিকমিউনিকেশন পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন গ্রুপ। শেষ তিন আসরেও এ প্রতিযোগিতায় পৃষ্ঠপোষকতা করেছে ওয়ালটন। এর আগে টানা আট বছর সাদা পোশাকের এ প্রতিযোগিতায় টাইটেল স্পন্সর ছিল ওয়ালটন।

এছাড়া লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের গত আট আসরের টাইটেল স্পন্সর ছিল ক্রীড়াবান্ধব প্রতিষ্ঠানটি। ঘরোয়া ক্রিকেটে স্পন্সরশিপ বাদেও বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে (বিসিএল) একটি ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিক ওয়ালটন, যারা বিসিএলের প্রথম ও চতুর্থ আসরে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। উল্লেখ্য, ২১তম, ২২তম ও ২৩তম জাতীয় ক্রিকেট লিগের জন্য দরপত্র আহ্বান করেছিল বিসিবি। দেশের ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থার দরপত্রের আহ্বানে সাড়া দেয় ওয়ালটন। সোমবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে স্পন্সর হিসেবে ওয়ালটনের নাম ঘোষণা করে বিসিবি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন, ওয়ালটন গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক উদয় হাকিম, অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর মিলটন আহমেদ।

বিসিবির প্রধান নির্বাহী সুজন বলেছেন, ‘ওয়ালটন গ্রুপ বাংলাদেশ ক্রিকেটের ডাকে বরাবরই সাড়া দিয়ে থাকে। দেশের বিভিন্ন প্রতিযোগীতায় সব সময় তারা পৃষ্ঠপোষকতায় এগিয়ে আসে। শুধু ঘরোয়া ক্রিকেটে নয়, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সিরিজে ওয়ালটনের স্পন্সরশিপ দেখা যায় সব সময়। দেশের গন্ডি পেরিয়ে যারা বাইরেও পৃষ্ঠপোষকতা করছে। এতে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হচ্ছে। আমরা আশা করবো বিসিবির সঙ্গে ওয়ালটন গ্রুপের যে সম্পর্ক তা সামনেও বজায় থাকবে।’

ওয়ালটন গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক উদয় হাকিম বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সিরিজে পৃষ্ঠপোষকতায় অনেক প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসে। সেখানে সবাই মাইলেজের চিন্তা করে। কিন্তু ঘরোয়া ক্রিকেটে কাউকেই দেখা যায় না। এক্ষেত্রে ওয়ালটন গ্রুপ ব্যতিক্রম। আমরা ঘরোয়া ক্রিকেট প্রোমোট করতে চাই। কারণ ঘরোয়া ক্রিকেটে যদি প্রতিদ্বন্দ্বীতা দেখা যায়, ঘরোয়া ক্রিকেট যদি মানসম্পন্ন হয় তাহলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশ ভালো করবো। পাশাপাশি আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতাও আছে। এ বছর সহ পরবর্তী দুই বছরের জন্য জাতীয় ক্রিকেট লিগের স্পন্সর ওয়ালটন। এজন্য বিসিবিকে ধন্যবাদ। দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি করার পেছনে প্রথম কারণ বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নতির সূচক উর্ধ্বমুখী। আমরা চাই এ ধারা অব্যাহত থাকুক।’

জাতীয় ক্রিকেট লিগে স্পন্সরশিপ বাদেও গত দুই আসরে মাঠের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি করতে প্রতিটি দলের খেলোয়াড়, ম্যাচ অফিসিয়ালকে (আম্পায়ার, রেফারি) জার্সি প্রদান করছে ওয়ালটন। পরবর্তী তিন আসরেও খেলোয়াড় ও ম্যাচ অফিসিয়ালদের জার্সি প্রদান করবে ওয়ালটন। ২১ তম আসরের জন্য ওয়ালটন বিসিবি কে স্পন্সর ফি বাবদ ৮০ লাখ, ২২ তম আসরের জন্য ৮০ লাখ এবং ২৩ তম আসরের জন্যও ৮০ লাখ,অর্থাৎ তিন সিজনের জন্য সর্বমোট ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা প্রদান করবে। সংবাদ সম্মেলন শেষে প্রতিযোগিতার লোগো উন্মোচন করা হয়। আগামী ১০ অক্টোবর থেকে দেশের দশটি মাঠে শুরু হবে জাতীয় লিগের খেলা। প্রথম দুই রাউন্ডে খেলবেন জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা।