ব্যাংকিং খাতের ‘দুর্গতি কাটাতে’ স্বাধীন কমিশন গঠনের দাবি টিআইবির

রবিবার, অক্টোবর ৬, ২০১৯

ঢাকা : একটি খেলাপি প্রতিষ্ঠানের ঋণ-পুনঃতফসিল করতে রূপালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে যে প্রস্তাব দিয়েছে, তাকে ন্যক্কারজনক বলে অভিহিত করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। একইসঙ্গে এই প্রস্তাব নাকচ করে দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেও সংস্থাটি।

এছাড়া রূপালী ব্যাংকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতের দুর্গতি কাটিয়ে উঠতে দ্রুত স্বাধীন কমিশন গঠনেরও দাবি জানিয়েছে টিআইবি। রবিবার (৬ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এই দাবি জানান।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘মাদার টেক্সটাইলের ঋণ পুনঃতফসিলের প্রস্তাব সংক্রান্ত যে খবর বেরিয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, কোম্পানিটি সাতবার পুনঃতফসিলের সুবিধা পেলেও ঋণ পরিশোধের কোনও আগ্রহ দেখায়নি দুই যুগেও। এরপরও রূপালী ব্যাংক পর্ষদ চারশ’ কোটি টাকার সম্পূর্ণ সুদ মওকুফ করে আসল আদায়ে দীর্ঘমেয়াদি (২০৪০ সাল পর্যন্ত) সুযোগ দেওয়ার অভাবনীয় সুপারিশ করেছে।’

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘সংবাদ মাধ্যম থেকে আমরা আরও জানতে পেরেছি, এমন ঋণ পুনঃতফসিলের জন্য ন্যূনতম অর্থ (মোট ঋণের ৫ ভাগ) এককালীন পরিশোধের যে ব্যাংকিং নিয়ম রয়েছে, তাও অগ্রাহ্য করা হয়েছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ যেভাবে বিদ্যমান সব নীতিমালা অগ্রাহ্য করে এই প্রস্তাব দিয়েছে, তাতে প্রমাণিত হয়, তারা কার্যত কায়েমি স্বার্থের কাছে জিম্মি হয়ে গেছে। নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ন্যূনতম পেশাদারিত্ব দেখানোরও সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, সম্প্রতি ব্যাংকিং খাতকে ব্যবহার করে জনগণের আমানতের টাকা যেভাবে লুটপাট করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কোনও বিকল্প থাকতে পারে না।

রূপালী ব্যাংকের প্রস্তাবটি নাকচ করে দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, প্রস্তাব নাকচ করে দেওয়ার মধ্যেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ রাখলেই হবে না। পাশাপাশি এমন বিধিবহির্ভূত প্রস্তাব আসার পেছনের কারণও খতিয়ে দেখতে হবে। একইসঙ্গে পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনও

যোগসাজশের ঘটনা ঘটে থাকলে বা পরিচালনা পরিষদের ওই সুপারিশের পেছনে স্বার্থের দ্বন্দ্ব থাকলে তা চিহ্নিত করে কঠোর প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।’

ইচ্ছাকৃত খেলাপি গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষায় ব্যাংকিং খাতে যে অশুভ আঁতাত চলছে তার রাশ এখনই টেনে ধরার আহ্বান জানিয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতে চাই যে, সরকার পরিস্থিতির গুরুত্ব যথাযথভাবে অনুধাবন করে কাঙ্ক্ষিত সংস্কারের জন্য খাত সংশ্লিষ্ট নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে অতি দ্রুত একটি কমিশন গঠন করবেন।

যারা বাস্তবতার নিরিখে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা পেশ করবেন, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকার কায়েমি স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে তা বাস্তবায়ন করবে।’ ব্যাংকিং খাত সংস্কারে একটি স্বাধীন কমিশন গঠনের কোনও বিকল্প নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।