সর্বত্র আজ দুর্নীতি আর দুর্নীতি, জাতির সামনে ‘মহাক্রান্তিকাল’

বুধবার, অক্টোবর ২, ২০১৯

ঢাকা: দুর্নীতি আর দুর্নীতি। চোখের চারপাশে যেদিকেই তাকানো যায় অথবা যেখানে চোখ না পৌঁছায় সেখানেও চলছে দুর্নীতির মহোৎসব। সঙ্গে কালো টাকা, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি আর ডন-মাফিয়াদের দৌরাত্ম্যে গোটা দেশ আজ এক ‘মহাক্রান্তিকাল’ অতিক্রম করছে। সম্প্রতি সরকারের ‘শুদ্ধি অভিযানে’ বেরিয়ে এসেছে রোমহর্ষক অনেক তথ্য ও ব্যক্তির নাম। যাদের অনেকেই স্বপদ থেকে বহিষ্কার এমনকি গ্রেফতারও করা হয়েছে। লক্ষ্যণীয় যে, চলমান এই শুদ্ধি অভিযানে যারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তালিকাভুক্ত হচ্ছেন তাদের প্রায় সবাই সরকার দলীয় লোকজন। গোটা দেশে সরকারের একচ্ছত্র আধিপত্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের দুর্নীতি আর অনিয়ম লাগামহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে।

দুর্নীতির এই মহামারি ঢুকে গেছে দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও। এরইমধ্যে দেশের অন্তত ১১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগে শিক্ষার্থীদের লাগাতার আন্দোলনের মুখে দুদিন আগেই পদত্যাগ করেছেন গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) ভিসি অধ্যাপক খোন্দকার নাসিরউদ্দিন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দের কোটি কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ এসেছে প্রতিষ্ঠানটির ভিসি ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে। গতকাল জাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামকে পদত্যাগের আল্টিমেটামের শেষ দিনে ‘লাল কার্ড’ প্রদর্শন করেছে আন্দোলকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। একইসঙ্গে ধর্মঘটেরও ডাক দেয়া হয়েছে। ডাকসুতে নির্বাচিত ৮ নেতাসহ ছাত্রলীগের ৩৪ নেতার চিরকুটে ভর্তি বিতর্ক ইস্যুতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ভিসি অধ্যাপক আখতারুজ্জামানের নামেও। দুদিন আগেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আইন বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে প্রার্থীর স্ত্রীর সঙ্গে উপ-উপাচার্য ড. চৌধুরী মোহাম্মদ জাকারিয়ার নিয়োগবাণিজ্য সংক্রান্ত ফোনালাপ ফাঁস হয়েছে। ইতোমধ্যে এ খবর গণমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে।

সরকারদলীয় প্রভাবশালীদের দুর্নীতির এসব মহড়া যখন দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও গ্রাস করছে ঠিক এমন সময় উঠে এসেছে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নামটি। বিশ্ববিদ্যালয়টির স্থাপন প্রকল্পের প্রস্তাবিত খরচ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০ থেকে ৫০ টাকা দামের একটি স্টেরাইল হ্যান্ড গ্লোভসের দাম ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার টাকা। ২ হাজার টাকা দামের পিলোর (বালিশ) দর ২৭ হাজার ৭২০ টাকা আর কভার ধরা হয়েছে ২৮ হাজার টাকা। ওই কভারের দাম ৫০০ থেকে ১৫০০ টাকা। এছাড়া ডিসপোজেবল সার্জিক্যাল ক্যাপ ও মাস্ক প্রতিটির মূল্য ধরা হয়েছে ৮০ হাজার টাকা; যার বাজারদর মানভেদে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পের অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনের আর্থসামাজিক অবকাঠামো বিভাগের কাছে পাঠানো হলে খরচের হিসাব দেখে চরম অসন্তোষ ও আপত্তি জানিয়েছে মূল্যায়ন কমিটি। যেখানে প্রকল্পের ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ২ হাজার ৮০০ কোটি ৬২ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। যদিও একনেকে সেটি এখনও অনুমোদন পায়নি। চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) প্রকল্পটি বরাদ্দবিহীন অননুমোদিত নতুন প্রকল্পের তালিকায় রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আর্থসামজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে এই প্রকল্পের মূল্যায়ন কমিটির বৈঠক হয়। পর্যালোচনায় দেখা যায়, বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার জন্য অতিরঞ্জিত ও অস্বাভাবিক দাম প্রস্তাব করা হয়েছে।

মূল্যায়ন কমিটি বলছে, বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের জন্য ১২টি চিকিৎসা সরঞ্জামের দাম অতিরঞ্জিত ও যথেচ্ছভাবে প্রাক্কলন করা হয়েছে। সরেজমিন তোপখানা রোডস্থ সার্জিক্যাল মার্কেটে এসব পণ্যমূল্য যাচাই করে দেখা যায় প্রকৃত মূল্যের সাথে প্রস্তাবিত মূল্যের কোনও সম্পর্কই নেই। বিক্রেতারা এসব প্রস্তাবিত পণ্য মূল্য শুনে হতবাক।

যেখানে স্টেরাইল হ্যান্ড গ্লোভস প্রতিটির মূল্য ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার টাকা; যা ভ্যাট, ট্যাক্সসহ বাজারমূল্য প্রতিটির ২০ থেকে সর্বোচ্চ ৫০ টাকা। ৫ এমএলের টেস্ট টিউব গ্লাস মেডের দাম ধরা হয়েছে ৫৬ হাজার টাকা। বাজারমূল্য হলো ১৫ থেকে ৫০ টাকা। ডিসপোজেবল সার্জিক্যাল ক্যাপ ও মাস্ক প্রতিটির দাম ৮৪ হাজার টাকা, বাজারমূল্য সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা। পিলো (অ্যাজ পার স্পেসিফিকেশন) ২৭ হাজার ৭২০ টাকা। বর্তমান বাজারমূল্য সাড়ে ৭০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা। আর পিলো কভার ২৮ হাজার টাকা। বাজারদর ৫০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১৫০০ টাকা বলে বিক্রেতারা বলছেন। তিন পিন বা রাউন্ড প্লাগের মাল্টিপ্লাগ উইথ এক্সটেনশন কর্ডের দাম ৬ হাজার ৩০০ টাকা, বাজারমূল্য ২৫০ থেকে ৫০০ টাকা।

এছাড়াও ক্রম চিকিৎসা সরঞ্জামাদির নাম প্রতিটি পণ্যের প্রস্তাবিত একক মূল্য সম্ভাব্য বাজার মূল্য (সরবরাহকারীর লাভ, ভ্যাট ও ট্যাক্সসহ) ১। স্টেরাইল হ্যান্ড গ্লোভস ৩৫,০০০.০০ টাকা ২০.০০-৫০,০০০ টাকা ২। টেস্ট টিউব-গ্লাস মেও, সাইজ ৫ এমএল ৫৬,০০০,০০ টাকা ১৫.০০, ৫০০০ টাকা ৩। মাল্টিপ্লাগ উইথ এক্সটেনশন কর্ড, ৩ পিন ফ্লাট/ রাউন্ড প্লাগ ৬,৩০০.০০ টাকা ২৫০.০০- ৫০০.০০ টাকা ৪। রাবার কথ, ৫র্৪র্ (উইডথ (ইয়ার্ডস) ১০,০০০.০০ টাকা ৫০০.০০ ৭০০.০০ টাকা ৫। রেক্সিন, ৫র্৪র্ উইডথ (ইয়ার্ডস) ৮৪,০০০.০০ টাকা ৩০০.০০- ৫০০,০০ টাকা ৬। কটন টাওয়েল, সাইজ ২র্২র্ * ৩৬র্ র্ ৫,৮৮০.০০ টাকা ২৫০.০০. ১০০০.০০ টাকা ৭। হোয়াইট গাউন, লেন্থ ৫র্৪র্ ৪৯,০০০.০০ টাকা ১০০.০০-২০০.০০ টাকা ৮। ডিসপোজেবল সার্জিক্যাল ক্যাপ ও মাস্ক ৮৪,০০০.০০ টাকা ১০০০.০০- ২০০০.০০ টাকা ৯। ডিসপোজেবল সু কভার ১৭,৫০০.০০ টাকা ২০.০০, ৫০০০ টাকা ১০। পিলো, অ্যাজ পার স্পেসিফিকেশন ২৭,৭২০.০০ টাকা ৭৫০.০০. ২০০০.০০ টাকা ১১। পিলো কভার, অ্যাজ পার স্পেসিফিকেশন ২৮,০০০.০০ টাকা ৫০০.০০. ১৫০০,০০ টাকা

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৫৪ ইঞ্চি আকারের একটি সাদা গাউনের দাম ধরা হয়েছে ৪৯ হাজার টাকা, যার বর্তমান বাজারদর সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা। প্রকল্পে ২২ ইঞ্চি বাই ৩৬ ইঞ্চি আকারের কটন টাওয়েলের দাম ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৮৮০ টাকা, যার বাজারমূল্য হলো মানভেদে ২৫০ থেকে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা। ৫৪ ইঞ্চি আকারের একটি রেক্সিনের দাম ধরা হয়েছে ৮৪ হাজার টাকা, যার বাজারদর ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা। ৫৪ ইঞ্চি আকারের রাবার ক্লথ ধরা হয়েছে ১০ হাজার টাকা। বাজারে গিয়ে দাম জানা গেছে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা।

বিশ্ববিদ্যালয়টির স্থাপন প্রকল্পে প্রস্তাবিত খরচ বিশ্লেষণ করে দেয়া যায়, প্যাথলোজি বিভাগের জন্য ৪টি স্ক্যানিং ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপের দাম ডিপিপিতে (পৃষ্ঠা-৬৪) প্রতিটি দেড় লাখ টাকা ধরা হয়েছে। চারটির দাম ৬ লাখ টাকা। ল্যাব. মেডিসিন বিভাগের জন্য চারটি স্ক্যানিং ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ (ডিপিপি-পৃ. ৭০) ৩০ কোটি টাকা। এখানে প্রতিটির দাম সাড়ে ৭ কোটি টাকা। ১১৫ পৃষ্ঠায় এ মেশিনের দাম ৫ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিভাগের এই ধরনের অত্যাধুনিক দামি যন্ত্রপাতি চারটি করে ক্রয় করার যৌক্তিকতা খুঁজে পাচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা।

প্রস্তাবিত খরচে, অধ্যাপকদের জন্য ১২০টি ইউনিট, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকদের জন্য ৪০টি ইউনিট, সহযোগী অধ্যাপকদের জন্য ২৪০টি ইউনিট, সহকারী অধ্যাপকদের জন্য ৩ শ’টি ইউনিট, প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের জন্য ৭০টি ইউনিট, সাব-অ্যাসিসট্যান্টদের জন্য ২৫০টি ইউনিট, সেখানে প্রতিটি আইটেম প্রায় ১০৫০টি করে কেনার প্রস্তাব করা হয়েছে। রিসার্চ সেলের জন্য বরাদ্দ ধরা হয়েছে ২৫ কোটি ৭১ লাখ টাকা। আবার অন্য রিসার্চ ল্যাবের জন্য যন্ত্রপাতির পরিমাণ ধরা হয়েছে প্রায় ৯৮ কোটি টাকা। আসবাবপত্র ও ফার্নিচারের ক্ষেত্রেও প্রাক্কলিত দর একেক জায়গায় একেক রকম ধরা হয়েছে।

সরেজমিনে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়টির ২০তলা ভবনের জন্য ফাউন্ডেশন ধরা হয়েছে ১০তলা। ২৫ কোটি টাকার বেশি কোনও বিনিয়োগ প্রকল্পের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই বাধ্যতামূলক হলেও এই প্রকল্পে তা করা হয়নি বলে সূত্রের দেয়া তথ্যে জানা গেছে।

প্রকল্পটির প্রস্তাবিত খরচ যাচাই-বাছাই করে পরিকল্পনা কমিশন বলছে, একটি বিভাগের ১২টি আইটেমেই প্রস্তাবিত মূল্যের সাথে বাজারমূল্যের পার্থক্য আকাশ-পাতাল। প্রস্তাবিত সব যন্ত্রপাতি বা চিকিৎসাসরঞ্জাম ক্রয় পর্যালোচনা করলে পার্থক্য আরও বাড়ভে। যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

যেখানে ডিপিপিতে ১২৭ থেকে ১৪৩ পৃষ্ঠায় বিভিন্ন দফতরের জন্য প্রায় ১০৫০টি ওয়াটার ফিল্টার, ১০৫০টি রিভার্স ওসমোসিস, প্রায় ১০৫০টি ডেস্কটপ কম্পিউটার এবং ১০৫০টি ল্যাপটপ, ১০৫০টি কালার প্রিন্টার ও ১০৫০টি সাদা-কালো প্রিন্টার ক্রয়ের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। ওয়াটার ফিল্টার থাকলে রিভার্স ওসমোসিস, ডেস্কটপ থাকলে ল্যাপটপ এবং কালার প্রিন্টার থাকলে সাদা-কালো প্রিন্টার এত বিপুল সংখ্যায় ক্রয়ের যৌক্তিকতা নেই বলেও মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

ব্যয় প্রাক্কলনের ব্যাপারে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, একটি বেসরকারি সংস্থাকে দিয়ে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ডিপিপি প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রাক্কলনের যৌক্তিকতা নিরূপণের জন্য একটি কমিটিও করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পের এই অস্বাভাবিক খরচ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা কমিশনের আর্থসামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) আবুল কালাম আজাদ গণমাধ্যমকে জানান, এরইমধ্যে প্রকল্পটি বাতিল করা হয়েছে। পিইসিতে অনুমোদন পায়নি। এই প্রকল্প প্রস্তাবে কোনও ধরনের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়নি। ব্যয় প্রাক্কলন অসামঞ্জস্যপূর্ণ ও অতিরঞ্জিত।

আবুল কালাম আজাদ আরও জানান, গত ৩০ মে অনুষ্ঠিত যৌক্তিকতা নিরূপণ কমিটির সভায় চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, ঢাকা মেডিকেল কলেজের একজন অধ্যাপক, দু’জন সহযোগী অধ্যাপক, ডিপিপি প্রণয়নকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারীর সাথে ওই মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অফিস সহায়কের স্বাক্ষর পাওয়া গেছে। সরকারি দফতরের ব্যয় প্রাক্কলনের মতো একটি সংবেদনশীল কাজে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি অনভিপ্রেত।

এই ডিপিপিতে ব্যয় প্রাক্কলনকারীরা দেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে অজ্ঞ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই স্থাপন প্রকল্পে অতিরিক্ত খরচের জন্য নতুন নতুন খাত সৃষ্টি করা হয়েছে। প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটিকে ম্যানেজ করে নেয়ায় ব্যয়ের খাতগুলো খুব বেশি প্রশ্নের মুখেও পড়ছে না। কলেকৌশলে সেই ব্যয় সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে অনুমোদনও নেয়া হচ্ছে। অধিকাংশ মন্ত্রণালয় ও সংস্থা উন্নয়ন প্রকল্পের ক্ষেত্রে নীতিমালার কোনও তোয়াক্কা করছে না।

এ ব্যাপারে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও অর্থনীতিবিদ ড. সালেহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘একটি দেশে যখন বিচারহীনতার সংস্কৃতি ঘাড়ে চেপে বসে তখন এমন বিচিত্র ঘটনাই ঘটতে থাকে। এ ধরনের ব্যয় প্রস্তাব শুধু বাতিল করাই নয়, পরিকল্পনা কমিশনের উচিত হবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া। কারণ প্রস্তাব রিজেক্ট হলেই সমস্যার সমাধান হবে না। ব্যয় প্রাক্কলনকারীদের শাস্তির আওতায় আনা জরুরি।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকার দাবি করছে, সারা দেশে উন্নয়নের জোয়ার বয়ে যাচ্ছে। ১ টাকার মালে লাখ টাকা খরচ দেখালে সেই উন্নয়নের সুবিধা কারা ভোগ করবে? নিয়শ্চয়ই সাধারণ জনগণ নয়। যার কারণে সরকারের কতিপয় সুবিধাভোগী রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে। বর্তমান সরকারের দুর্নীতির এই রাম রাজত্ব চলতে থাকলে ধনবৈষম্য, গণতন্ত্রহীতা ও ফ্যাসিবাদী ভাবধারা গোটা দেশকে দ্রুত মহাসংকটে পতিত করবে। রসাতলে যাবে স্বাধীনতা ও মুক্তির স্বপ্নসাধ।