ফোনালাপ কেলেঙ্কারি, মার্কিন বিশেষ দূতের পদত্যাগ

শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ফোনালাপ কেলেঙ্কারিতে পদত্যাগ করেছেন ইউক্রেনে নিযুক্ত মার্কিন বিশেষ দূত কার্ট ভলকার। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেন্সকির এক ফোনালাপের তথ্য ধামাচাপা দেয়ার অভিযোগ ওঠার পর সরে দাঁড়ালেন ভলকার।

তার পদত্যাগের খবরটি প্রথম প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির সংবাদপত্র দ্য স্টেট প্রেস। এরপর শুক্রবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিষয়টি প্রকাশ পায়।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম বলছে, হুইসেলব্লোয়ার (গোপন অভিযোগপত্র) ওই ফোনালাপের তথ্য প্রকাশের পর বিতর্কের মুখে পড়েছেন ভলকার। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের ২৫ জুলাই ট্রাম্প ও ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেন্সকির মাঝে ৩০ মিনিট ব্যাপ্তি এক ফোনালাপ হয়। কিন্তু, পরবর্তীতে ওই ফোনালাপের তথ্য ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা।

এমনকি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের কাছে ট্রাম্পের দাবির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে ভলকার ইউক্রেনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করেন বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়।

হুইসেলব্লোয়ারের অভিযোগ মতে, ওই ফোনালাপে ট্রাম্প তার প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেন ও তার ছেলের বিরুদ্ধে একটি দুর্নীতির তদন্ত শুরু করতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে চাপ প্রয়োগ করেন বলে স্পষ্ট হয়।

ইউক্রেনের একটি গ্যাস কোম্পানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন বাইডেনের ছেলে হান্টার। ২০১৬ সালে হান্টারসহ ওই গ্যাস কোম্পানির কয়েক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একটি অপরাধের অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়। জো বাইডেন সে সময় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে ইউক্রেনের ওপর চাপ প্রয়োগ করে ছেলের বিরুদ্ধে তদন্ত বন্ধ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। যদিও এ অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।

কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বীকে ঘায়েল করতেই বাইডেন ও তার ছেলের বিরুদ্ধে ট্রাম্প নতুন করে তদন্ত শুরু করতে নবনির্বাচিত ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টকে চাপ দেন বলে ফোনালাপে বোঝা যায়।

এ ঘটনায় বিদেশি শক্তি ব্যবহারের মধ্য দিয়ে ট্রাম্প মূলত আসন্ন নির্বাচনকেই প্রভাবিত করতে চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে সর্বমহলে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে তদন্তও শুরু হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণ হলে অভিশংসনের মুখে পড়তে হতে পারেন ট্রাম্প।