ইমরানের ভাষণের পর রাজপথে কাশ্মিরিরা, গোলাগুলি চলছে

শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : একতরফা ও বিতর্কিত ভাবে জম্মু-কাশ্মিরের বিশেষ সাংবিধানিক অধিকার বাতিল করে রাজ্যকে কারাগারে পরিণত করে রেখেছে হিন্দ্যুতবাদী দল বিজেপি শাসিত কেন্দ্রীয় সরকার। এই ইস্যুতে তীব্র সমালোচনা করে চলমান জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যুদ্ধের ইঙ্গিত দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

ইমরান খানের ভাষণের একদিন পর শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাজপথে নেমেছে কাশ্মিরি। ইমরানের ভাষণ শেষ হওয়ার পর রাতেই কয়েক হাজার কাশ্মিরিদের তাদের বাড়ি থেকে বের হয়ে আসে। এসময় তারা ইমরান খানের পক্ষে স্লোগান দেয় এবং স্বাধীনতা দাবি করে।

পরে কাশ্মিরে যেকোনও ধরনের বিক্ষুব্ধ পরিস্থিতি এড়াতে কড়াকড়ি আরোপ করেছে ভারত। এতে জম্মু-কাশ্মির উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। তারা ভারতের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষেও জড়িয়েছে।

শনিবার সকালের দিকে জম্মু-কাশ্মিরের অন্তত দুই জায়গায় বন্দুকযুদ্ধ ও অপর এক স্থানে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত দুই-তিনজনের প্রাণহানি ঘটেছে বলে জানিয়েছে ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

দুই কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, স্পিকার লাগানো পুলিশ ভ্যান থেকে শ্রীনগরে নাগরিকদের চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞার কথা ঘোষণা করা হয়। যে কোনো ধরনের বিক্ষোভ ঠেকাতে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। শ্রীনগরের প্রধান ব্যবসাকেন্দ্রে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে রেখেছে সেনারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘ইমরান খানের ভাষণের পর গত রাতে বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে এটি প্রয়োজন ছিল।’

শুক্রবার (২৭ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের ৭৪তম সাধারণ পরিষদের ভাষণে কাশ্মির প্রসঙ্গে ইমরান বলেন, ‘প্রায় এক লাখ কাশ্মির গত ৩০ বছরে মারা গেছে। কারণ তাদের আত্মপরিচয়ের অধিকার দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়েছিল। ১১ হাজার নারী ধর্ষিতা হয়েছে। বিশ্ব কিছুই করেনি। কারফিউ উঠে গেলে যা হবে তা হচ্ছে, রক্তবন্যা। মানুষ রাস্তায় নেমে আসবে। আর সেনারা কী করবে? তারা তাদের দিকে গুলি ছুড়বে.. আরো মৌলবাদের দিকে ঝুঁকবে কাশ্মিরিরা।’

এসময় বিশ্ব নেতাদের উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে ইমরান খান বলেন, ‘যদি আজকে ইহুদিরা এমন অবরুদ্ধ অবস্থায় জীবনযাপন করতো, তাহলে কি বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া এমনই হতো? যেমন তারা কাশ্মির ইস্যুতে নীরব রয়েছেন।’

কারফিউ প্রত্যাহারের পর কাশ্মিরে গণহত্যারও আশঙ্কা প্রকাশ করেন পাক প্রধানমন্ত্রী। ইমরান খান বলেন, কাশ্মীর ইস্যুটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি বিরোধপূর্ণ বিষয়। গণভোটের মাধ্যমে কাশ্মীরিদের নিজেদের অধিকার বেছে নেয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত ৭০ বছর যাবত তাদের এ অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে।