আ.লীগ নেতারা কৌতুক অভিনেতাদের জায়গা দখল করেছেন: আলাল

সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৯

ঢাকা: আওয়ামী লীগ নেতারা কৌতুক অভিনেতাদের জায়গা দখল করে নিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।

সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরাম খাঁ হলে নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরাম আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘মাঝে মধ্যে অমৃত বচন শুনি। এসব কথা শুনলে হাসমত, আনিস যারা এক সময় বাংলাদেশে কৌতুক অভিনেতা ছিলো তাদের কথা কারো মনে পড়বে না। তাদের জায়গা দখল করেছে হাছান মাহামুদ, হানিফ সাহেব, এইচটি ইমাম। সেই জায়গাগুলো মাঝে মাঝে দখল করেন ওবায়দুল কাদের সাহেব। হাছান মাহামুদ, হানিফ সাহেব এইচটি ইমামদের সম্পর্কে সারা বাংলাদেশের মানুষ জানে।’

তিনি বলেন, ‘ওবায়দুল কাদের সাহেবকে আমি বেশি কিছু বলবো না, এ লোকটার জন্য আমার মায়া হয়। তার শরীরের ভেতরে কিছু নেই। তিনি একটা খারাপ রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তিনি অনেক নির্যাতিত হয়েছেন ওয়ান ইলেভেনের সময়। একসময় ছাত্র রাজনীতি করেছেন। তখন ভালোই দেখতাম, তাকে দিয়ে এইসব বলানো হচ্ছে। নিজের পরিবার বলতেও তার নেই।’

আলাল বলেন, ‘এইচ টি ইমাম বলেছেন, আওয়ামী লীগ নীতি আদর্শের দল, বিএনপি কোনো নীতি আদর্শের দল না। কী পরিমাণ নীতিবান এইচটি ইমাম। আজকে হাসিনার ইমাম সেজেছেন, হাসিনার বাবা জাতীয় নেতা যাকে আমরাও সম্মান করি। শেখ মুজিবুর রহমানকে নৃশংসভাবে হত্যার পরে ওই লাশ যখন ৩২ নম্বরের সিঁড়িতে পড়েছিলো, রক্তে ভেসে যাচ্ছিলো ৩২ নম্বর সেই সময় এইচটি ইমাম খন্দকার মোশতাকের মন্ত্রিসভায় শপথ পড়িয়েছিলেন। এই হলো তার নীতি আদর্শ। সেই লোক আমাদেরকে ওয়াজ নসিয়ত করেন আর কিছু না। জাতিকে ছবক দেয়।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘ওবায়দুল কাদের বহু আগে বলেছিলেন কাউয়া লীগ, ওরাতো কাউয়া লীগ না, শকুন, ওরা বাংলাদেশের মানচিত্র ছিঁড়ে খাচ্ছে, আত্মা কুকড়ে কুকড়ে খাচ্ছে। বাংলাদেশের স্বার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ করছে।’

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অস্থিরতার জন্য সরকারকে দায়ী করে আলাল বলেন, ‘ভবিষ্যত প্রজন্মকে ধ্বংস করার জন্য ইচ্ছেকৃতভবে আওয়ামী লীগ একটি পাঁয়তারা শুরু করেছে। যাতে তাদের মত একটা ধামাধরা সরকার ক্ষমতায় থাকতে পারে।’

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয় বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাবি, জাবি, চবি, ইবি, জবি, কুবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের কঠোর সমালোচনা করে আলাল বলেন, ‘সব জায়গায় একই চিত্র দেখছি। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীরা কী শিখবে? জাতিই বা এই সরকার নিয়ে কী গর্ব করবে।’

নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরামের উপদেষ্টা সাঈদ আহমেদ আসলামের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ,ওলামা দল নেতা নেসারুল্লাহ প্রমুখ বক্তৃতা করেন।