দু’জনকেই ১৫০০ কোটি টাকা ঘুষ দেন জি কে শামীম!

রবিবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯

ঢাকা: যুবলীগ নেতা পরিচয়ে ঠিকাদারি চালিয়ে আসা টেন্ডার কিং খ্যাত গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীম সরকারি বড় বড় কাজ হাতিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কোটি কোটি টাকা ঘুষ দিতেন বলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানিতে জানিয়েছেন।

সম্প্রতি দু’জন সাবেক প্রকৌশলীকেই দেড় হাজার কোটি টাকা ঘুষ দিয়েছেন এই ‘ঠিকাদার মোগল’। এর মধ্যে কাজ পেতে গণপূর্ত অধিদফতরের সদ্য সাবেক প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলামকে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা ও গণপূর্তের ঢাকা জোনের আরেক সদ্য সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবদুল হাইকে ৪০০ কোটি টাকা ঘুষ দিয়েছেন জি কে শামীম।

গত শুক্রবার রাজধানীর নিকেতনের বাসা থেকে নগদ ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা ও প্রায় ২০০ কোটি টাকার এফডিআর চেক, লাইসেন্সবিহীন অস্ত্র, মাদকসহ জি কে শামীমকে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে শামীম এই ঘুষ-বাণিজ্যের কথা স্বীকার করে জানান, তিনি প্রতিটি টেন্ডারে ৮ থেকে ১০ শতাংশ কমিশন দিতেন। কখনও কখনও কমিশন দেয়ার পরও বাড়তি ঘুষ দিতে হতো তাকে। তাতে করে কিছু প্রকল্পে লোকসানেও পড়তে হয়।

গতকাল শনিবার অস্ত্র, মাদক ও মুদ্রা পাচারের দায়ে করা ৩টি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।

গোয়েন্দা পুলিশের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, শুধু ওই দুই প্রকৌশলীকেই নয়, কাজ পেতে যুবলীগের অন্তত দু’জন শীর্ষ নেতাকে মোটা অঙ্কের মাসোহারা দিতে হতো শামীমকে। এছাড়াও আরও বেশ কয়েকজন উচ্চ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাও জি কে শামীমের কমিশনভোগী ছিলেন।

জিজ্ঞাসাবাদে শামীম জানিয়েছেন, রাজধানীর বাসাবো ও নিকেতনে অন্তত ৫টি বাড়ি আছে তার। ঢাকায় আছে অনেকগুলো ফ্ল্যাট। গ্রামের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে। তবে বিদেশে সম্পদ রাখার কথা অস্বীকার করলেও ইতোমধ্যে এ বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।

ঠিকাদারি কাজ করতে গিয়ে বিগত দিনে অনেকেই শামীমের শত্রুতে পরিণত হয়। যার কারণে সব সময় তিনি একাধিক অস্ত্রধারী বডিগার্ড নিয়ে চলাফেরা করতেন। এ মুহূর্তে বিভিন্ন প্রকল্পে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার কাজ চলমান আছে শামীমের। তবে সম্প্রতি রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের অধিনে আবাসিক ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগে কালো তালিকাভুক্ত হয় শামীমের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটি।

শামীম জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, ঠিকাদারি কাজ ভাগাতে অনেক সময় পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানকে ব্যবহার করতেন তিনি। এছাড়া সমাজের অনেক প্রভাবশালীর সঙ্গে শামীমের ছবি রয়েছে। নিজের ক্ষমতা দেখাতে এসব ছবিও ব্যবহার করতেন তিনি। একটা সময় টাকা দিয়ে র‌্যাব কর্মকর্তাদেরও ম্যানেজ করে ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকার চেষ্টা চালান শামীম।