অনিয়ম-দুর্নীতি রোধে ব্যর্থতায় সরকারের পদত্যাগ করা উচিত: ফখরুল

রবিবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯

ঢাকা: অনিয়ম-দুর্নীতি রোধে ব্যর্থতায় সরকারের পদত্যাগ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ রোববার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে এ মন্তব্য করেন মহাসচিব।

মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান সরকার জুয়ারিদের সরকার। দেশ পরিচালনায় ব্যর্থ হয়ে সরকার জুয়ার আশ্রয় নিয়েছে। অনিয়ম, ব্যর্থতার দায় নিয়ে সরকারকে এখনই পদত্যাগ করা উচিত।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, সরকারের নির্দেশেই সরকারি কর্মচারীরা দুর্নীতি করছে। এই সরকার যেন পাকিস্তানী হানাদারের মত নির্যাতন করছে।

সরকারকে উদ্দেশ্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা চাই এখনও আপনাদের শুভবুদ্ধির উদয় হোক। দেশের মানুষের গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিন এবং খালেদা জিয়ার মুক্তিতে কোনও বাধা হবেন না। তাঁকে আইনগতভাবে মুক্তি দিন। ভোট চুরি করে যে পার্লামেন্ট গঠন করেছেন তা বাতিল করেন। নিরপেক্ষ কমিশনের অধীনে নির্বাচন দিন।’

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, ‘আজকে আওয়ামী লীগের ছোট নেতা, পাতি নেতাদের দাপটে দেশে থাকা যাচ্ছে না। সরকারি কর্মচারীরা চুপচাপ চলে যায় মান-সম্মান, ইজ্জত নিয়ে। যা হুকুম করে তাই করতে হয়। চাঁদা দাও নয়তো যাও। আজকে মাটি কুড়ে বেরিয়ে আসছে সরকারের পাপের ইতিহাস। কেঁচো খুজতে গিয়ে সাপ বের হয়ে আসছে।’

তিনি বলেন, ‘আজকে সকারের লোকেরা ইচ্চামতো মানুষ খুন করে, ক্রস ফায়ার করে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হচ্ছে অবাধে। আমাদের নেতাকর্মীদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়, জিজ্ঞাসা করলে বলা হয় জানি না। নিখুঁতভাবে গুম হয়ে যায় মানুষ। আমাদের এমপিও পর্যন্ত বাদ যায়নি।’

গত এক বছরে বিদেশে ২৭ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে গেছে দাবি করে তিনি আরও বলেন, ‘ক্যাসোনোগুলোতে কাজ করে বিদেশিরা এবং তারাই দেশের টাকা বিদেশে পাচার করছেন।’

খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা একবারও বলি নাই বেগম জিয়াকে দয়া করে ছেড়ে দিন। দেশের একজন নাগরিক হিসেবে তাঁর যেটা প্রাপ্য সে অধিকার থেকে থাকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।’

ফখরুল বলেন, ‘আমরা কোর্টে যাই জামিনের জন্য। বিচারপতি সব বক্তব্য শুনে চলে যান। বলেন, ‘পরে আদেশ দেবো’। যখন উপর থেকে নির্দেশ আসে পরে তিনি আদেশ দেন। এখন দেশে বিচার বিভাগের কোনও স্বাধীনতা নেই। সরকার বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করছে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘অনেকে দোষারোপ করেন পুলিশকে। পুলিশ কী করবে? উপর মহল থেকে যা হুকুম হয়, নির্দেশ হয় পুলিশের তা পালন করতে হয়। তারা হিকুম দিয়েছে ‘দেশে যারা গণতন্ত্র চায়, তাদের মারো’, পুলিশ হুমক মতো মেরেছে। হুকুম দিয়েছে ‘নির্বাচনের সকল কেন্দ্র দখল করো’, পুলিশ করেছে।’

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি আফরোজা আব্বাসের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে মহিলা দলের সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খান প্রমুখ বক্তব্য দেন।