ছাত্রদলের কাউন্সিল থেকে শিক্ষা নিয়েই সামনে পথ চলতে চায় বিএনপি

শনিবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৯

ঢাকা: কৌশলে এগোচ্ছে বিএনপি। ছাত্রদলের কাউন্সিল থেকে শিক্ষা নিয়েই সামনে পথ চলতে চায় দলটি। সরকার ও আইনের নানামুখী প্রতিবন্ধকতার বিপরীতে পাল্টা পদক্ষেপ নিয়ে আসার পরিকল্পনা বিএনপির। দলের নীতিনির্ধারকরা আশঙ্কা করছেন, সামনে বিএনপির জাতীয় কাউন্সিলেও বাধা আসতে পারে। এ ছাড়া বিধিনিষেধ আসতে পারে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগীসহ অন্য সংগঠনগুলোতেও। তাই কাউন্সিল ও অন্য সাংগঠনিক কার্যক্রমে একটি ‘বিকল্প ব্যবস্থা’ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। সর্বশেষ বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় বলে জানা গেছে।

জানা যায়, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের গঠনতান্ত্রিক ঝামেলা এড়াতে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এরই অংশ হিসেবে ছাত্রদলের কাউন্সিল করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএনপি নেতাদের সরিয়ে দেওয়া হয়। ভেঙে দেওয়া হয় বিএনপি নেতাদের নিয়ে গঠিত ‘সার্চ কমিটি’। এ ছাড়া সংগঠনের গঠনতন্ত্র মোতাবেক নেতৃত্ব নির্বাচন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়। কাউন্সিলরদের মতামতের ভিত্তিতে ছাত্রদলের ‘সাংগঠনিক অভিভাবক’ও হন তারেক রহমান। তার নেতৃত্বেই ২৭ বছর পর গত বুধবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের বাসভবনে ভোটের মাধ্যমে ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন গতকাল সন্ধ্যায় বলেন, ‘দেশে এমনিতেই গণতন্ত্রের ক্রাইসিস। আমরা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে কাজ করছি। আমাদের একটি সহযোগী সংগঠনে গণতান্ত্রিকভাবে নেতৃত্ব নির্বাচন করতে চাইলাম, তা সরকার বাধাগ্রস্ত করল। এতে কী বোঝা যায়। সরকার চায় না গণতন্ত্র থাকুক। ছাত্রদলের কাউন্সিলে সরকার বাধা দেওয়ায় আমাদের একটি শিক্ষা হয়েছে। ভবিষ্যতে আমাদের দল ও অঙ্গসংগঠনের কাউন্সিল করার ক্ষেত্রে আমরা বিকল্প ব্যবস্থা রাখার পাশাপাশি আরও সতর্ক হব।’
জানা যায়, বিএনপি এবার জাতীয়তাবাদী যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল পুনর্গঠনে হাত দেবে। মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ায় এসব অঙ্গসংগঠনে কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হতে পারে। আবার কেউ কেউ বলছেন, অসম্পূর্ণ কমিটি পূর্ণাঙ্গ হবে। ছাত্রদলের শেষ পর্যন্ত কী হয় তা দেখার অপেক্ষায় ছিল বিএনপি। সুষ্ঠুভাবে নেতৃত্ব নির্বাচন হওয়ায় বাকি অঙ্গসংগঠনগুলোতে কাউন্সিলের মাধ্যমেই নেতৃত্ব নির্বাচনের চিন্তাভাবনা হচ্ছে। এদিকে বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছর বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল করার সম্ভাবনাও কম। নতুন বছরের প্রথম দিকেই বিএনপির কাউন্সিল হতে পারে। দলটি আশা করছে, এর আগেই বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া জামিনে মুক্তিলাভ করবেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য জানান, আগামী দিনে দলের সাংগঠনিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়াসহ আন্দোলন কর্মসূচি সবকিছুই বিএনপি সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করবে। চলতি বছরের মধ্যেই সব অঙ্গসংগঠনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার চিন্তা রয়েছে বিএনপির। এ ছাড়া অসম্পূর্ণ জেলা কমিটিগুলোও সম্পূর্ণ করবে। নতুন বছর কাউন্সিল করতে চায় দলটি। এর মধ্যে বেগম জিয়ার মুক্তি না হলে রাজপথে সরব হবে বিএনপি। একই সঙ্গে নতুন নির্বাচন দাবিতেও রাজপথে শক্ত কর্মসূচি দেওয়া হবে। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় সূত্রমতে, ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকে প্রায় একযুগে বিএনপির সাংগঠনিক জেলা পূর্ণাঙ্গ কমিটি মাত্র ২৫টি। ভাঙাগড়ার কবলে পড়ে অন্তত ১০ জেলায় সম্প্রতি পুনর্গঠন করে আহ্বায়ক কমিটি দেওয়া হয়েছে। ছাত্রদলের কাউন্সিল ইস্যুতে বিএনপির সাংগঠনিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়া বন্ধ ছিল। দলীয় কার্যালয়ের হিসাবমতে, সারা দেশে এখন নতুন করে ৩৭টি জেলায় আহ্বায়ক কমিটি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৫টি জেলায় আংশিক কমিটি। প্রতিটি কমিটি গঠনের পর তিন মাসের সময় বেঁধে দেওয়া হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে অধিকাংশ জেলায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি। এ নিয়ে বিএনপির হাইকমান্ডও ক্ষুব্ধ। জানা গেছে, এখন অসম্পূর্ণ বিএনপির জেলা কমিটি গঠনের কাজও শুরু হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেন, ‘সরকার চাইলে বিএনপির সব সাংগঠনিক কর্মকাে বাধা দিতে পারে। আমাদের কাউন্সিলও আটকে দিতে পারে। ছাত্রদলের কাউন্সিল আইনের দোহাই দিয়ে সরকার আটকে দিয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নেতৃত্ব নির্বাচন হয়েছে। সরকারের অগণতান্ত্রিক হস্তক্ষেপের বিপরীতে আমরাও এখন বিকল্প চিন্তাভাবনা করছি।’ সূত্রমতে, কৌশলী ভূমিকা নিয়ে আগামীতে রাজপথের আন্দোলন-কর্মসূচিও ঘোষণা করবে বিএনপি। এরই মধ্যে বিএনপি কয়েকটি বিভাগে বেগম জিয়ার মুক্তি দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। একই দাবিতে কেন্দ্রীয়ভাবেও ১২ দিনব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছে। বেগম জিয়ার মুক্তি দাবিতে ২৪ সেপ্টেম্বর সিলেটে, ২৬ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহে এবং ২৯ সেপ্টেম্বর রাজশাহীতে সমাবেশ হবে। পর্যায়ক্রমে রংপুর, ফরিদপুরসহ অন্য বিভাগেও সমাবেশ হবে। ডিসেম্বরের মধ্যে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শেষ হবে। এরপর নতুন বছর কাউন্সিল করে বেগম জিয়ার মুক্তিসহ নতুন নির্বাচনের দাবিতে রাজপথে কঠোর কর্মসূচির দিকে যাবে দলটি।

বিএনপির ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ‘আমরা বিভাগীয় সমাবেশ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। গণতান্ত্রিক উপায়ে আমরা সমাবেশ করব। সরকারের সব অপতৎপরতার জবাব দেওয়া হবে। এ ব্যাপারে আমরা সতর্ক।’