নিজেরাই নিজেদের দুর্নীতির প্রমাণ করছে আওয়ামী লীগ: ফখরুল

শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯

ঢাকা : আওয়ামী লীগ নেতারা নিজেরাই নিজেদের দুর্নীতির প্রমাণ করছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী যুবদল আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এ মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফখরুল বলেন, ‘ধর্মের কল বাতাসে নড়ে। আজকে আওয়ামী লীগের যে দুঃশাসন দুর্নীতি নির্যাতন নিপীড়ন সেটি এখন অন্য কাউকে বলতে হচ্ছে না, নিজে নিজেই বাতাসে কল নড়া শুরু হয়েছে। আপনারা দেখেছেন, গত কয়েকদিন ধরে সারা বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের লোকেরাই যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতারাই নিজেরা নিজেদের দুর্নীতি প্রমাণ করছেন। আওয়ামী লীগ নিজেরাই প্রমাণ করছে, তারা বাংলাদেশের সম্পদ লুট করে নিয়ে যাচ্ছে। আপনারা লক্ষ্য করে দেখবেন, গত ক’দিন আগে ছাত্রলীগ সভাপতি ও সম্পাদক ধরা পড়লো ‘ফেয়ার শেয়ার’ নিতে গিয়ে। সেই শেয়ার আবার এক দুই কোটি টাকা নয়, ৮৬ কোটি টাকা।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘মজার ব্যাপার হলো, যার সঙ্গে কথা হলো অর্থাৎ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর তার কথোপকথন ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে। দেশকে আজ এই অরাজক অবস্থায় নিয়ে এসেছে আওয়ামী লীগ।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর যাদেরকে আমরা সম্মান করি, মাথার উপরে রাখি। অথচ তিনিও (জাবি ভিসি ফারজানা ইসলাম) আজকে ঘুষ ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন! আজকের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে আন্দোলন করছে।

ভর্তি হচ্ছে বিনা পরীক্ষায় অর্থাৎ সেখানেও দুর্নীতি চলছে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক সবাই রাস্তায় নেমে পড়েছে। গোপালগঞ্জ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা-শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছে, তারা বলছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও অনৈতিক কাজের সঙ্গে জড়িত। এদেশের মানুষ তাহলে যাবে কোথায়? ভাইস-চ্যান্সেলরদেরকে কারা নিয়োগ দিয়েছে? এই অবৈধ সরকার বেছে বেছে সবচেয়ে খারাপ লোকদেরকে নিয়ে এই পদে নিয়োগ দিয়েছে।’

ফখরুল বলেন, ‘আজকে ঢাকা শহরে ৬০টি জুয়ার ক্যাসিনো। পত্রিকায় আসছে এর প্রত্যেকটি চালাচ্ছে যুবলীগ আর আওয়ামী লীগের নেতারা। এখন নিজেরাই ধরা পড়েছে, তারা আবার অন্যদের দোষ ধরতে চায়। আজকে প্রমাণিত হয়েছে এই সরকার দুর্নীতিতে মদদ দিচ্ছে। আজকে প্রমাণিত হয়ে গেছে এই সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ। আজকে প্রমাণিত হয়ে গেছে গত ১২ বছরে আওয়ামী লীগ দেশকে লুটপাট করে শ্মশানে পরিণত করেছে।’

ফখরুল আরও বলেন, ‘জনগণ বুঝতে শুরু করেছে এই সরকার যতদিন রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকবে ততদিন দেশে আইন থাকবে না। ন্যায়বিচার থাকবে না। মানুষের জীবনের কোনো নিরাপত্তা থাকবে না। এমন একটি দেশ বানানো হয়েছে একটি ছোট্ট শিশু পর্যন্ত ধর্ষিত হচ্ছে। আজকে হত্যা করা হচ্ছে খুন করা হচ্ছে, তার কোনও বিচার হচ্ছে না। চতুর্দিকে একটা অশান্তি অনিশ্চিয়তায় দেশ ভরে গেছে। মানুষের মনে একটা ভয় সৃষ্টি করেছে সরকার।’

বেগম জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘তিনি এখন হাঁটতে পারেন না। অন্যের সাহায্য নিয়ে তাঁকে উঠে দাঁড়াতে হয়। দেশনেত্রীর স্বাস্থ্যের অবস্থা এমন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অথচ তাঁকে সুচিকিৎসা পর্যন্ত দেয়া হচ্ছে না। বারবার আমরা বলেছি, সুচিকিৎসার জন্য বেগম জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। সরকার তাতে কোনও কর্ণপাত করছে না। আমরা কিন্তু তাদের কাছে দয়া ভিক্ষা চাচ্ছি না। এই মুক্তি বেগম জিয়ার ন্যায্য প্রাপ্য অধিকার।’

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি সাইফুল আলম নীরবের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বিএনপির যুববিষয়ক সম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি রফিকুল আলম মজনু, উত্তরের সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর পাটোয়ারী ও দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা শাহিন প্রমুখ বক্তব্য দেন।