ডিভোর্স বিষয়ে সিদ্ধান্ত স্বামীকে কীভাবে জানাবেন?

বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৯

বিনোদন ডেস্ক : স্বাভাবিকভাবেই ডিভোর্সের মতো চরম সিদ্ধান্ত নেওয়া যে কোনো দম্পতির পক্ষেই কঠিন। কিন্তু তার চেয়েও কঠিন হলো একতরফা ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তা অপরপক্ষকে জানানো। বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত কেউ রাতারাতি নেন না, বহু তিক্ততা, বহু চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু স্বামীকে অথবা স্ত্রীকে জানাবেন কিভাবে? সেই কথাটা জানানোর আগে কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন?

আগে নিজে নিশ্চিত হোন
স্বামীর সঙ্গে কথা বলার আগে নিজের মন থেকে নিশ্চিত হয়ে নিন যে আপনি বিচ্ছেদের পথেই হাঁটতে চান। ভয় দেখানোর জন্য, বা কথার কথা হিসেবে ডিভোর্সের প্রসঙ্গ তুলবেন না। তাতে সম্পর্কের ভিতটা আরও দুর্বল হয়ে যাবে।

শান্তভাবে প্রসঙ্গ তুলুন
কোনওরকম ভূমিকা না করে সরাসরি ডিভোর্সের কথা তোলা ঠিক নয়, বিশেষ করে আপনার স্বামী যদি এরকম একটা পরিস্থিতির জন্য আদৌ প্রস্তুত না থাকেন, তবে তো নয়ই! নিজেকে ওঁর জায়গায় রেখে পরিস্থিতি বিচার করুন। আপনি যদি নিশ্চিত হয়ে থাকেন ডিভোর্স ছাড়া অন্য পথ নেই, তা হলে বেশ কয়েক সপ্তাহ আগে থেকে সম্পর্কের গতিপথ, ভবিষ্যৎ নিয়ে ওঁর সঙ্গে কথা বলুন, দরকারে কাউন্সেলরের কাছেও যান। এতে পরিস্থিতি সম্পর্কে তারও একটা ধারণা জন্মাবে।

দোষারোপ করবেন না
হয়তো আপনার স্বামীর দোষেই সম্পর্কটা টিকছে না, কিন্তু ডিভোর্স নিয়ে কথা বলার সময় পুরোনো তিক্ততা টেনে এনে দোষারোপ বা অভিযোগ করবেন না। শান্তভাবে কথা বলুন, নিজের সম্ভ্রম বজায় রাখুন।

মিশ্র ইঙ্গিত নয়
হয়তো ডিভোর্সের সিদ্ধান্তটা নিয়েই ফেলেছেন, কিন্তু আপনি জানেন মনে মনে আপনি এখনও ওঁকে ভালোবাসেন। এরকম ক্ষেত্রে ডিভোর্সের কথা তোলাটা কঠিন হতে পারে। আবেগ বর্জন করুন। এমন কোনও ইঙ্গিত দেবেন না যাতে ওঁর মনে হতে পারে যে ডিভোর্স নিয়ে আপনি তেমন সিরিয়াস নন।

রাগ আর প্রতিরোধের জন্য প্রস্তুত থাকুন
আপনি ডিভোর্সের কথা বললেন আর আপনার স্বামী অমনি দুঃখে গলে গেলেন, আপনার হাতেপায়ে ধরে অনুরোধ করতে লাগলেন এমন সিদ্ধান্ত না নিতে- ছবিটা এমন নাও হতে পারে। বহু পুরুষই এমন একটা কথা শুনে প্রচণ্ড রেগে যেতে পারেন। সম্পর্কের উপর তাঁর নিজের নিয়ন্ত্রণ নেই, এ কথা ভেবে সে ক্রোধ মাত্রাছাড়াও হতে পারে। আপনার স্বামীর মধ্যে যদি রাগের প্রবণতা বেশি থাকে, তা হলে প্রস্তুত থাকুন, নিজের নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখুন।

আইনি জটিলতায় এখনই ঢুকবেন না
প্রথমবার ডিভোর্সের কথা বলা মানে তক্ষুনি সংসারের সব দায়দায়িত্বের চুলচেরা ভাগযোগ করে ফেলা নয়। এ সব সূক্ষ্ম আইনি ভাগ করার পরে অনেক সময় পাবেন। এই মুহূর্তে বাগবিতণ্ডা যতটা সম্ভব কম করে ব্যাপারটা যতটা সম্ভব শান্তিপূর্ণ করে তোলাই আপনার উদ্দেশ্য হওয়া উচিত!