‘শোভন-রাব্বানীর অপসারণ দুর্নীতিবাজদের দ্বন্দ্বের ফসল’

মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৯

ঢাকা : চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহারসহ নানা অভিযোগে ছাত্রলীগ থেকে রেজওয়ানুল হক শোভন ও গোলাম রাব্বানীর অপসারণকে ‘দুর্নীতিবাজদের দ্বন্দ্বের ফসল’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

মঙ্গলবার(১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের ফুটপাতে কারাবন্দি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে তাঁতীদলের মানববন্ধনে তিনি এমন অভিযোগ করেন।

আমির খসরু বলেন, মাঝে মধ্যে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কিছু মামলা হয়। এই যে ছাত্রলীগের দু’জনকে অপসারণ করা হয়েছে এটা দুর্নীতিবাজদের মধ্যে যে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব রয়েছে তারই ফসল। অথচ দুর্নীতির কোনও বিচার বাংলাদেশে এখন হচ্ছে না।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রের সব জায়গায় আজ দুর্নীতিবাজরা জেঁকে বসে আছে। দুর্নীতিবাজরা আজ জোট বেঁধেছে। এই দুর্নীতিবাজদের কারণে ‘গণতন্ত্রের মা’ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজ কারাগারে।

আমির খসরু বলেন, ‘অনেকেই প্রশ্ন করেন এত নির্যাতনের পর বিএনপি কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবে। তবে আমার প্রশ্ন যারা রাতের আঁধারে মানুষের ভোট চুরি জোর করে দক্ষতা দখল করে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে সরকারে আছে, সেই আওয়ামী লীগ কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবে। এই দলটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কি? তারা তো জনগণের মুখোমুখি হতে পারছেনা।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আমির খসরু বলেন, সুশৃঙ্খলভাবে ঐক্যবদ্ধ থেকেই প্রতিপক্ষকে পরাজিত করা সহজ। বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। বিগত দিনে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন। আবারো গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নেতৃত্ব দেয়ার কারণে বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার তাকে কারাগারে আটকে রেখেছে।

তিনি বলেন, আমাদের চলার পথ গণতন্ত্র। নির্ভরশীলতা হচ্ছে দেশের জনগণ। নানা নির্যাতন অত্যাচারের কারনে বিএনপি আজ খাঁটি সোনায় পরিনত হয়েছে। এই দলের নেতা খালেদা জিয়া হচ্ছেন গণতন্ত্রের মা। তাকে আজ কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। কারণ, তিনি দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা, তিনি বাইরে থাকলে আওয়ামী লীগের পক্ষে ভোট চুরি করে জোর করে ক্ষমতায় যেতে পারতো না।

দক্ষিণ আফ্রিকার নেলসন ম্যান্ডেলার উদাহরণ টেনে খসরু বলেন, তাকে যেমন আটকে রাখা সম্ভব হয়নি, খালেদা জিয়াকেও আটকে রাখতে পারবে না এই আওয়ামী স্বৈরাচারী সরকার। দেশের মানুষের মধ্যে আগুন জ্বলছে। তারা তাদের বাকস্বাধীনতা, ভোটাধিকার ফিরে পেতে রাজপথে নামবে। দেশের রাষ্ট্রীয় সব প্রতিষ্ঠান দলীয় করণ করে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে।

আমির খসরু বলেন, দেশে যে পরিবেশ এই আওয়ামী লীগ সরকার তৈরি করেছে, তার জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। তাদের নানা অপকর্মের কারণে আইনের মুখোমুখি হতে হবে।

বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, ‘আমাদের চলার পথ হচ্ছে গণতন্ত্র। আমাদের নির্ভরশীলতা হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের মন্ত্রী মধ্যে। আমাদের নির্ভরশীলতা কোন সরকারি সংস্থার উপন্যাস উপর নয়। বিএনপি’র নির্ভরশীলতা হচ্ছে এদেশের মানুষের উপর। এটাই হচ্ছে রাজনৈতিক দলের শক্তি। বিএনপি আজ অনেক বেশি শক্তিশালী। গুম খুন হত্যা মিথ্যা মামলার শিকার হয়েও জ্বলে পুড়ে খাঁটি সোনায় পরিণত হয়েছে এই বিএনপি।’

আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ্য করে বলেন, এই দল পুরোপুরি রাষ্ট্রীয় সংস্থা নির্ভর দল হয়ে গেছে। রাগ মানুষের কাছে ফিরে যেতে পারবে না। ফিরে যাওয়া কঠিন হবে এদের জন্য। মানুষের মনে তো আগুন জ্বলছে, আন্দোলন চলছে মনেরাজনীতিবিএনপির জনপ্রিয়তার কারণে আজকে তারা রাজনৈতিকভাবে সম্মুখীন হতে পারছে না। জনগণের সামনে আসতে পারতাম। দেশের প্রতিটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আজকে বাংলাদেশ কোন প্রতিষ্ঠান রাখে নাই। প্রত্যেকটা প্রতিষ্ঠান একটা একটা করে ধ্বংস করা হয়েছে।

আয়োজক সংগঠনের আহ্বায়ক আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে মানবন্ধনে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল,বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা, অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, আবদুস সালাম আজাদ,তাঁতী দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যক্ষ বাহাউদ্দিন বাহার,যুগ্ম-আহ্বায়ক ড.কাজী মনিরুজ্জামান মনির প্রমুখ।