ব্রিজের অভাবে নৌকায় পারাপার, নদীতে ডুবে নিখোঁজ কলেজছাত্রী

সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯

টাঙ্গাইল : কলেজ ছুটি শেষে পারাপারের সময় মাঝ নদীতে নৌকা ডুবে নিলিমা লস্কর (১৭) নামে এক ছাত্রী নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পরও উদ্ধার হয়নি। নিলিমাকে না পাওয়ার ঘটনায় তার পরিবারে চলছে স্বজনদের আহাজারি। পাশাপাশি কলেজে তার সহপাঠী ও শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যেও চলছে শোকের মাতম।

এই ঘটনায় অন্তত ৮ জন আহত হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় বিপাশা নামে এক ছাত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রবিবার দুপুরে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার নতুন কহেলা কলেজ সংলগ্ন ধলেশ্বরীর শাখা নদীর নাগরপাড়া বাজার এলাকায় এ নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটে।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরি দল নিখোঁজ কলেজছাত্রী নিলিমাকে উদ্ধার করতে পারেনি।

নতুন কহেলা কলেজের অধ্যক্ষ ইমাম হোসেন মো. ফারুক জানান, নিখোঁজ নিলিমা লস্কর এই কলেজের বাণিজ্য বিভাগের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। রবিবার দুপুর ২টার দিকে কলেজ ছুটির পর ছাত্র-ছাত্রীরা ছোট একটি খেয়া নৌকা যোগে নদী পার হতে যাচ্ছিল। নৌকায় অতিরিক্ত ছাত্র-ছাত্রী ও এলাকার লোকজন উঠায় মাঝ নদীতে এসে ডুবে যায়। নৌকা ডুবে যাওয়ার সময় অনেকেই সাঁতার কেটে তীরে উঠতে পারলেও নদীতে স্রোত থাকায় নিলিমা আক্তার নিখোঁজ হয়।

খবর পেয়ে মির্জাপুর থানা পুলিশ, মির্জাপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অফিসের দমকল বাহিনীর সদস্য এবং এক দল ডুবুরি নিখোঁজ নিলিমাকে উদ্ধারের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সোমবার সকাল পর্যন্ত তার সন্ধান মেলেনি।

এ ব্যাপারে নতুন কহেলা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা মো. নাসির উদ্দিন বাবুল বলেন, নদীতে পাকা ব্রিজ না থাকায় জীবনের উপর ঝুঁকি নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীসহ এলাকার লোকজন বর্ষাকালে নৌকা এবং শুকনো মৌসুমে নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করে আসছেন।

কলেজের উত্তর পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ধলেশ্বরী নদীর শাখা নদী নাগরপাড়া বাজার সংলগ্ন একটি পাকা ব্রিজ নির্মাণের জন্য এলাকাবাসী দীর্ঘ দিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু তাদের সে দাবি আজও বাস্তবায়ন হয়নি। নদীতে একটি পাকা ব্রিজ থাকলে হয়তো নৌকা ডুবে ছাত্রী মারা যেত না। ইতোপূর্বে এখানে নৌকা ডুবে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ও এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে এখানে একটি পাকা ব্রিজ নির্মাণের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানান তিনি।

কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি ও টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফজলুর রহমান খান ফারুক নিখোঁজ ছাত্রীকে যে কোন উপায়ে উদ্ধার করার জন্য প্রশাসন এবং কলেজ কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।

মির্জাপুর উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অফিসের স্টেশন অফিসার মো. আরিফুর রহমান জানান, সোমবার ঢাকা থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একদল ডুবুরি আসছেন।