স্বপ্ন পুরণ হচ্ছে না তারেক রহমানের!

বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯

ঢাকা : দীর্ঘ ২৭ বছর পর কাউন্সিলের মাধ্যমে ছাত্রদলের নেতৃত্ব বাছাই প্রক্রিয়া বিএনপির হেভিওয়েট নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

তৃণমূলের সরাসরি ভোটদানের ব্যাবস্থা করা হলেও সিন্ডিকেট ও ভাইনীতি’তে কতটা সুষ্ঠ ও অবাধ হবে সেটা নিয়েই উৎকন্ঠা ও শংকা দেখা দিয়েছে। প্রার্থীদের যোগ্যতার মাপকাঠিতে সামঞ্জস্যতা থাকলেও ইজম ও সিন্ডিকেটের চাপে অনেকে পিছিয়ে পরেছে।

ভাইতন্ত্রের জোরে কোণঠাসা হয়ে পরেছে সিন্ডিকেট এর বাইরের প্রার্থীগণ। ছাত্রদলের কাউন্সিলে ছাত্রনেতাদের চাইতে বিএনপি নেতাদের দৌড়-ঝাপ এখন বেশি। নিজস্ব বলয়ের নেতা বের করতে ফোনে ভোট চাওয়ার পাশাপাশি অর্থলগ্নিও করছে অনেক নেতা। আবার কোন কোন ক্ষেত্রে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টিও করা হচ্ছে ভোটারদের উপর।

সভাপতি পদে ০৯ জন প্রতিদ্বন্দীতা করলেও আলোচনায় আছে ০৪ জন। এরা হলেন হাফিজুর রহমান হাফিজ,কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, ফজলুর রহমান খোকন ও মোঃ মামুন খান।

হাফিজ’কে নিয়ে একাট্টা দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদলের কর্তৃত্ব ধরে রাখা গুম হওয়া বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী গ্রুপ। তবে এবার ইলিয়াস গ্রুপে অনেকটা বিভক্তির ছাপ স্পষ্ট বলে হাফিজ ততটা শক্ত অবস্হানে নেই।

ইলিয়াস গ্রুপের কুশিলব সাবেক ছাত্রনেতা আব্দুল কাদির ভূইঞা জুয়েল সভাপতি পদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি আল মেহেদী তালুকদারের জন্য চেষ্টা করে ব্যার্থ হওয়ায় উনি চুপচাপ আছেন। অপরদিকে রকিবুল হাসান বকুল ও সাইফুল ইসলাম ফিরোজের মধ্যে দ্বন্দ থাকায় বকুল ভিতরে ভিতরে হাফিজের বিপক্ষে কাজ করছে।

সব মিলিয়ে হাফিজ অনেকটা অস্বস্তির মধ্যেই আছেন। অন্যদিকে কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণের পক্ষে আদা জল খেয়ে মাঠে নেমেছে সাবেক ছাত্রনেতা সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু। যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন না থাকলেও তার পারিবারিক পরিচিতি তাকে বেকায়দায় ফেলেছে। তার পরিবারের প্রতিটি সদস্য আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী ও পদধারী নেতা হওয়ায় ছাত্রদলের সাধারণ নেতৃবৃন্দ তার প্রতি আস্হা রাখতে পারছে না।

ফজলুর রহমান খোকন একসময় টুকু বলয়ে রাজনীতি করলেও এখন টুকু বিরোধী শিবিরে শক্ত প্রার্থী। উত্তরাঞ্চল একজোট হয়ে খোকনের পক্ষে মাঠে নেমেছে। যার নেতৃত্বে রয়েছে স্হায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, আলিমুজ্জামান আলীম সহ উত্তরাঞ্চলীয় নেতৃবৃন্দ। তবে ব্যাতিক্রম সভাপতি পদপ্রার্থী মোঃ মামুন খান। তিনি সিন্ডিকেটের বাইরে শক্ত প্রতিদ্বন্দী না হলেও জনপ্রিয় প্রতিদ্বন্দী।

প্রার্থীতা নিয়ে নানা নাটকীয়তার পর নির্বাচনের অন্তিম মূহুর্তে তার প্রার্থীতার বৈধতা দেওয়া হয়। তিনি ছাত্রদলের সকল সদস্যদের পরিচয় নিশ্চিতের দাবীতে অনশনে বসে সাড়া দেশে আলোড়ন তুলেছিলেন। পাশাপাশি সামর্থ না থাকলেও গুম খুন হওয়া পরিবারের পাশে দাড়ানোর জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন।

অপরদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে ১৯ জন প্রতিদ্বন্দীতা করলেও আলোচনায় আছেন ইকবাল হোসেন শ্যামল, শাহ্ নেওয়াজ, আবু তাহের, আমিনুর রহমান আমিন, সাইফ মাহমুদ জুয়েল, মোঃ জাকির হোসেন।

ইকবাল হোসেন শ্যামল সদ্য বিদায়ী ছাত্রনেতা আকরামুল হাসান মিন্টুর আস্থাভাজন হওয়ায় সবচেয়ে আলোচিত। যেহেতু বেশিরভাগ কাউন্সিলরদের কমিটি রাজীব-আকরামের হাতে করা তাই আকরামের হস্তক্ষেপ শ্যামলকে জুনিয়র হওয়া সত্বেও অনেকটা এগিয়ে দিয়েছে।

তবে ভোটারদের মধ্যে শংকাও কাজ করছে। কেন্দ্রীয় কমিটি জুনিয়র দিয়ে হলে কাউন্সিলরদের ভবিষ্যত রাজনীতি অনিশ্চয়তায় পরবে তাই কাউন্সিলরগণ বিষয়টি ভিন্নভাবেও ভাবছেন। শাহ্ নেওয়াজের জন্য রীতিমত যুদ্ধে নেমে পরেছে মোঃ শাজাহান, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী,শফিউল বারী বাবু, তাবিথ আউয়াল সহ নোয়াখালী অঞ্চলের হাফডজন নেতা।

আবু তাহেরের পক্ষে প্রভাবশালী কোন নেতা না নামলেও তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে বেশ আলোচনায় রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ওয়ান ইলেভেন এ সংস্কারপন্থীদের প্রতিহত করে বর্তমান সকল প্রাথীদের মধ্যে একমাত্র তিনি’ই তৎকালীন দুইটি মামলার আসামী ছিলেন।

এছাড়াও তিনি খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবীতে মিছিল করতে গিয়ে গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘদিন কারাবন্দী ছিলেন।তার অতীত ত্যাগ ও অভিজ্ঞতা ভোটারদের মধ্যে তাকে নিয়ে একটা আগ্রহ তৈরি করেছে। তারপক্ষে কাজ করছেন সদ্য সাবেক ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান আসাদ। আমিনুর রহমান আমিনকে নিয়ে ভোটের মাঠে লড়াই করছেন সাবেক ছাত্রনেতা রকিবুল ইসলাম বকুল। খুলনা বিভাগের সন্তান নিজ অঞ্চলে দারুণ সাড়া ফেলেছেন।

দক্ষিণাঞ্চলের সন্তান হিসেবে সাইফ মাহমুদ জুয়েল বেশ সুবিধাজনক অবস্হান তৈরি করেছেন। তার পক্ষে কাজ করছেন গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এম মোরশেদ আলম। অপর প্রার্থী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি জাকিরের পক্ষে আটঘাট বেধে নেমেছে ছাত্রদলের সদ্য সাবেক সভাপতি রাজিব আহসান ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশিদ হাবীব।

এত এত তদবীর এর ভিড়ে বেশ অস্বস্তিতে পরেছে কাউন্সিলরেরা। তবে তাদের দাবী যেহেতু তারেক রহমান তাদের হাতে সঠিক নেতৃত্ব নির্বাচনের সুযোগ দিয়েছেন, কাজেই উনারা সকল চাপ উপেক্ষা করে যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচিত করবেন।