ছাত্রদলের কাউন্সিলে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির নেতাদের পক্ষপতিত্বের অভিযোগ

মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক: ছাত্রদলের কাউন্সিল যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে উত্তেজনা। এই অবস্থায় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সমন্বয়ে গঠিত যাচাই-বাছাই কমিটি, আপিল কমিটি ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির বিরুদ্ধে পক্ষপতিত্বের অভিযোগ উঠেছে।

এসব কমিটির নেতারা নিরপেক্ষ না থেকে পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে নানাভাবে ভোট চাচ্ছেন। তাদের এই ধরনের ভূমিকায় গত শনিবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

দায়িত্বপ্রাপ্ত সাবেক ছাত্রদল নেতারা কে কোন প্রার্থীর পক্ষে ভোট প্রার্থনায় নেমেছেন তাদের নাম ধরে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা হয়। এ সময় লন্ডন থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্কাইপে যুক্ত থেকে স্থায়ী কমিটির নেতাদের আলোচনা শুনেছেন। ওইদিনই স্কাইপে তারেক রহমান কয়েকজন ছাত্রনেতাকে সতর্ক করেন।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, ছাত্রদলের কাউন্সিলকে ঘিরে বিএনপির সিনিয়র বেশ কয়েকজন নেতা বেশ তৎপর। তারা পছন্দের প্রার্থীকে আঞ্চলিক লেবাস দেওয়ারও চেষ্টা করছেন- এ বিষয়টিও তারেক রহমানকে জানানো হয়েছে। এই অবস্থায় আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ছাত্রদলের কাউন্সিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপির হাইকমান্ড।

এদিকে শেষ মুহূর্তের প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীরা। তারা কাউন্সিলদের কাছে যাচ্ছেন, দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি।

নির্বাচনী তফসীল অনুযায়ী, আগামী ১২ সেপ্টেম্বর মধ্যরাত পর্যন্ত প্রার্থীরা প্রচার চালাতে পারবেন। ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে ২টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোটে অংশ নেবেন সংগঠনটির সারা দেশের ১১৬টি ইউনিটের ৫৬৬ জন কাউন্সিলর।

নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘আগামী ১২ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর ছাত্রদলের নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সকাল ১০টা হতে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কাউন্সিলর কার্ড বিতরণ করা হবে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীগণ ১৩ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টায় গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয় থেকে তাদের কার্ড সংগ্রহ করতে পারবেন।’

এদিকে প্রার্থীদের পক্ষে অবস্থানের অভিযোগ পেয়ে বেশ কয়েকজন সাবেক ছাত্রনেতাকে সতর্ক করেছে বিএনপি হাই কমান্ড। শনিবার কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের নিয়ে গঠিত নির্বাচন পরিচালনা, বাছাই ও আপিল কমিটির বৈঠকে এসব নেতাদের সতর্ক করা হয়। বৈঠকে স্কাইপিতে লন্ডন থেকে যুক্ত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

একই দিন এ নিয়ে বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও দীর্ঘ আলোচনা হয়। সূত্র জানায়, বৈঠকে ছাত্রদলের কোনো কোনো সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীর পক্ষে সাবেক বেশ কয়েকজন নেতা সরাসরি পক্ষে নেমে ভোট চাইছেন এমন অভিযোগ পাওয়ার ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান নীতিনির্ধরকরা। এ সময়ও স্কাইপিতে লন্ডন থেকে যুক্ত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।

এমন প্রেক্ষাপটে গতকাল রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সাবেক নেতারা জানান, নির্বাচন পরিচালনা, যাচাই-বাছাই ও আপিল কমিটি অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, কিছু প্রার্থী বা তাদের সমর্থকগণ নির্বাচনী প্রচারণায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশেষ করে ফেসবুকে সাবেক কোনো কোনো ছাত্রনেতার নাম ও বিভিন্ন প্রোগ্রামের পুরনো ছবি ব্যবহার করে নিজেদের অনুকূলে প্রচারণা চালাচ্ছেন- এর ফলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে। যা কোনোভাবেই কাম্য নয়, বরং অত্যন্ত দুঃখজনক।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আমরা অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করতে চাই যে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, স্বচ্ছ, সুন্দর কাউন্সিল অনুষ্ঠানের স্বার্থে আমাদের অবস্থান নির্মোহ ও পক্ষপাতহীন এবং কোনোক্রমেই কোনো বিশেষ প্রার্থীর প্রতি আমাদের কোনো অনুরাগ বা আনুকূল্য নেই। আমরা সব প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের সতর্ক করে বলতে চাই কোনো মহল যেন ছাত্রদলের কাউন্সিল সংশ্লিষ্ট কমিটিভুক্ত সাবেক কোনো ছাত্র নেতার নাম কোনোক্রমেই ব্যবহার না করেন। এর অন্যথা হলে দায়ীদের ব্যাপারে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে।