১ কোটি মার্কিন ডলার পাচার, আত্মসাৎ ২৩৮ কোটি টাকা

সোমবার, সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক: টেরাকোটা টাইলস রপ্তানির নামে ব্যাংক থেকে ২৩৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং এক কোটি ৭ লাখ ৫২ হাজার মার্কিন ডলার পাচারের অভিযোগে এসবি গ্রুপের চেয়ারম্যান শাজাহান বাবলুর নামে মুদ্রা পাচার প্রতিরোধ আইনে মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে এসবি গ্রুপের দুই কর্মকর্তাকে।

গতকাল রোববার মতিঝিল থানায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পক্ষ থেকে এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইমের বিশেষ পুলিশ সুপার মোস্তফা কামাল বলেন, ‘টেরাকোটা টাইলস বিদেশে রপ্তানির নামে ১৮৮টি রপ্তানি বিলের মাধ্যমে প্রায় ২৩৮ কোটি ৭৪ লাখ টাকা আত্মসাত করেছে এসবি গ্রুপ। পাশাপাশি তারা বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সহযোগীতায় ১ কোটি ৭ লাখ ৫২ হাজার মার্কিন ডলার পাচারের প্রমাণও মিলেছে। বিপুল পরিমান অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের দায়ে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যানের নামে মামলা করা হয়েছে। এই মামলায় এসবি গ্রুপের কমার্শিয়াল অফিসার ইমরান মীল (৩৭) এবং ইউসুফ হোসেন রোবেল (৪২) কে গতকাল রোববার সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাজধানীর শান্তিনগর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে বর্তমানে তারা দুজনই সিআইডির রিমান্ডে রয়েছে।’

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেরাকোটা টাইলস রপ্তানীর বিপরীতে শাজাহান বাবলু ব্যাংক থেকে রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনা ও প্রমোশনের নিমিত্তে বিদেশে অবস্থিত অফিসের সারঞ্জামাদি ও সাজসজ্জার কথা বলে সিঙ্গাপুরের প্রতিষ্ঠান পুন্ন গোল্ড অ্যান্ড ডায়ামন্ড পিটিই লিমিটেডের নামে আরএইচবি ব্যাংক বিরহাটের সিঙ্গাপুরের প্রধান শাখার অ্যাকাউন্টে ১ লাখ ২৫ হাজার মার্কিন ডলার এবং পুন্ন সুপারমার্কেট পিটিই লিমিটেডের সিঙ্গাপুর শাখার নামে ওভারসিস-চাইনিজ ব্যাংকিং কোওপারেশন লিমিটেডের সিঙ্গাপুর শাখার অ্যকাউন্টে ১ লাখ ২৫ হাজার মার্কিন ডলারসহ সর্বমোট ২ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার ব্যাংক কর্মকর্তাদের সহায়তায় বিদেশে পাচার করেছেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শাহজাহান বাবলু বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি ছাড়া বিদেশে পাঁচটি ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানের নামে মূলধন বিনিয়োগের আড়ালে অর্থ পাচার করেছেন। তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এসবি এক্সিম বাংলাদেশ রপ্তানী না করেই ১৮৮ টি রপ্তানী বিলের মধ্যে ৬৫টি রপ্তানী বিল বাবদ ১ কোটি ৫ লাখ ২ হাজার টাকা আবুধাবি কমার্শিয়াল ব্যাংক দুবাই শাখার মাধ্যমে বাংলাদেশে আনেন। ব্যাবসায়িক সহযোগী ও ব্যাংকের সহযোগীতায় অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ তিনি দেশে আনেন বলেও সিআইডির অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।