রাজনীতিতে ইতিহাস গড়তে চান ‘স্কুটিগার্ল’ ডালিয়া

সোমবার, সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৯

ঢাকা : বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কোথাও গেলে তার গাড়িবহরের সঙ্গে সব সময় স্কুটি নিয়ে থাকতেন ডালিয়া রহমান। তিনি সদ্য বিলুপ্ত কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ বেসরকারি বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।

এবার ছাত্রদলের ৬ষ্ঠ কাউন্সিলে একমাত্র নারী প্রার্থী তিনি। এজন্য তিনি ভোটের জন্য ছুটছেন সারা দেশের কাউন্সিলরদের কাছে। তার সাথে যখন বাংলাদেশ জার্নালের কথা হয় তখন ফরিদপুরে প্রচারণা শেষ করে মানিকগঞ্জের পথে ছুটছেন ডালিয়া।

দীর্ঘ ২৭ বছর পর প্রত্যক্ষ ভোটে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদল শীর্ষ নেতৃত্ব বেছে নেবে। সর্বশেষ ১৯৯২ সালে ছাত্রদলের পঞ্চম কাউন্সিলে সরাসরি ভোটে বিএনপির বর্তমান সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও গুম হওয়া সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৯ সালে ভোট হচ্ছে। এই ভোটে এবার সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ডালিয়া রহমান।

২০০৬ সালে কুমিল্লার বরুড়া শহীদ স্মৃতি সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সদস্য হয়ে ছাত্র রাজনীতি শুরু করেন ডালিয়া রহমান। বর্তমান তিনি ইন্টারন্যাশনাল প্রোগ্রাম অব ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনে এলএলবি করছেন। পাশাপাশি নর্দান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে (ঢাকা) এলএলবি সম্পন্ন করে এলএলএম করছেন।

জাতীয়তাবাদের রাজনৈতিক শিক্ষা পরিবার থেকে পেয়েছে বলে জানান ডালিয়া রহমান। তিনি বলেন, রাজনীতি করার জন্য আমার পরিবার আমাকে অনেক বেশি সার্পোট দেয়।

নিজেকে নারী প্রার্থী বলতে নারাজ ডালিয়া রহমান বলেন, আমি মনে করি যে, আমি একজন প্রার্থী। আর আমি তৃণমূল থেকে অনেক বেশি সাড়া পাচ্ছি। তবে এটা নারী হিসেবে নয়, একজন পরীক্ষিত ত্যাগী ও যোগ্য কর্মী হিসেবে তারা আমাকে সমর্থন করছে। তাই আমার ও তৃণমূলের ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিশ্বাস, আমি পারবো। সুতরাং সব মিলে আমি আশাবাদী।

কাউন্সিলের বিষয়ে ছাত্রদলের এই সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী বলেন, কাউন্সিলের মাধ্যমে নেতা নির্বাচিত করার যে সিদ্ধান্ত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিয়েছেন, এটা খুবই সময় উপযোগী সিদ্ধান্ত। কারণ এর কোনো বিকল্প নেই। তবে আমি কাউন্সিল পাবো- এটা আমার কখনো মনে হয়নি। আর ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে কোনো নারী কখনো প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেনি। তাই আমার মনে হচ্ছে যে- আমি ইতিহাস গড়বো। আমি ইতিহাস গড়বো, ইনশাল্লাহ।

ছাত্রদলকে নিয়ে নিজের প্রত্যাশার বিষয়ে ডালিয়া বলেন, সংগঠনের যদি পদ বাণিজ্য হয়েও থাকে তাহলে বাণিজ্য বন্ধ করবো, কাউন্সিলের মাধ্যমে তৃণমূলকে শক্তি করতে চাই, সংগঠনকে ঢেলে সাজাতে চাই এবং কেন্দ্রীয়ভাবে যে কাউন্সিল শুরু হয়েছে- এটা আমি ইউনিয়ন পর্যন্ত নিতে চাই। আর সংগঠনকে শক্তিশালী করে আন্দোলনের মাধ্যমে মাকে (বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া) মুক্ত করে আনতে চাই।

আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর ছাত্রদলের কাউন্সিলের বিষয়ে ডালিয়া রহমান বলেন, আমার প্রত্যাশা, কাউন্সিল সুষ্ঠু ও পরিছন্ন এবং ঝামেলা মুক্ত হবে। আর তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আগ্রহ নিয়ে আছে তারা ভোট দেবে। তাই একটি সুষ্ঠু ভোট ও কাউন্সিল হবে। কাউন্সিলে জয়-পরাজয় তো থাকবেই বলেন ডালিয়া।

প্রসঙ্গত, আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল ১০ থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত সারা দেশের ১১৭টি ইউনিটের ৫৮০ জন্য ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে নতুন নেতা নির্বাচন করবেন।

এবার সভাপতি পদে লড়ছেন, কাজী রওনকুল ইসলাম, মো. ফজলুর রহমান, মোহাম্মদ মামুন বিল্লাহ(ওরফে মামুন খান), মাহমুদুল হাসান, হাফিজুর রহমান, রিয়াদ মো. তানভীর রেজা, মো. এরশাদ খান, এস এম সাজিদ হাসান ও এ বি এম মাহমুদ আলম সরদার।

সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন, মো. জুয়েল হাওলাদার, মো. জাকিরুল ইসলাম, মো. কারিমুল হাই, মাজেদুল ইসলাম, ডালিয়া রহমান, মো. আমিনুর রহমান, শেখ আবু তাহের, শাহ নাওয়াজ, সাদিকুর রহমান, কে এম সাখাওয়াত হোসাইন, সিরাজুল ইসলাম, মো. ইকবাল হোসেন, মো. হাসান, মুন্সি আনিসুর রহমান, মো. মিজানুর রহমান, শেখ মো. মশিউর রহমান, মোস্তাফিজুর রহমান, সোহেল রানা ও কাজী মাজহারুল ইসলাম।