প্রেমিকার নামে গোপন অ্যাকাউন্ট

বিতর্কিত ইউএনও আসিফ ইমতিয়াজকে স্ট্যান্ডরিলিজ

শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৯

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বিতর্কিত ইউএনও আসিফ ইমতিয়াজকে বদলিপূর্বক স্ট্যান্ডরিলিজ করা হয়েছে। আগামী রোববারের মধ্যে বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান না করলে তিনি স্ট্যান্ডরিলিজ হয়েছেন বলে গণ্য হবেন।

গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে তাকে ওএসডি করার কথা থাকলেও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগে সহকারী নিয়ন্ত্রক হিসেবে বদলি করা হয়। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রসঙ্গত, ‘প্রেমিকার নামে ইউএনওর গোপন অ্যাকাউন্ট’ শিরোনামে বৃহস্পতিবার প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের টনক নড়ে।

এর আগে ভুক্তভোগী নারীর লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির প্রতিবেদন সম্প্রতি মাঠ প্রশাসন থেকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়। বিলম্বে হলেও এ সংক্রান্ত নথিটি সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে বুধবার সদয় সিদ্ধান্তের জন্য উপস্থাপন করা হয়। নিয়মানুযায়ী বিভাগীয় মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নথিটি এখন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর কথা।

সূত্রমতে, জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি ২টি অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে। একটি হল, প্রেমিকার সম্মতি ছাড়াই গোপনে ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলে অস্বাভাবিক টাকা লেনদেন। এছাড়া বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অভিযোগকারী নারীর সঙ্গে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে সময় কাটানো।

এদিকে এ বিষয়ে গতকাল যুগান্তর ও যমুনা টিভিতে তথ্যসমৃদ্ধ সংবাদ প্রকাশিত হলে সারাদেশে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

গত মাসে জামালপুর জেলার ডিসি আহমেদ কবীর এর বিরুদ্ধে অফিসের নারী কর্মীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর এবার তাহিরপুর ইউএনও আসিফ ইমতিয়াজের এই ঘটনা আগুনে ঘি ঢালার অবস্থা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সবার ধারণা ছিল, অভিযুক্ত ইউএনও আসিফ ইমতিয়াজকে ওএসডি করা হবে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে তাকে ঢাকায় বদলি করায় অনেকে ক্ষোভ অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

তারা বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন ছাড়াও ইউএনও’র ফোনালাপের যে রেকর্ড সর্বত্র ভাইরাল হয়েছে তাতে তাকে ন্যূনপক্ষে ওএসডি করা উচিত ছিল।

এদিকে এ বিষয়ে ভুক্তভোগী নারী বৃহস্পতিবার বলেন, ‘আসিফ ইমতিয়াজকে ঢাকায় একটি মন্ত্রণালয়ে বদলি করায় তিনি মানসিকভাবে আরও ভেঙে পড়েছেন। কেননা, তিনি যদি এখনও কোনো কর্মস্থলে বহাল থাকেন তাহলে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তদন্ত ও প্রশাসনিক শাস্তির প্রক্রিয়া পদে পদে বাধাগ্রস্ত করবেন। এমন আশঙ্কা ছাড়াও ভুক্তভোগী নিজেকে নিরাপদ মনে করছেন না বলে দাবি করেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করাসহ আসিফ ইমতিয়াজের প্রাপ্য শাস্তি চান।

ভুক্তভোগীর নারীর সঙ্গে পরিচয়ের সময় আসিফ ইমতিয়াজ চট্টগ্রামে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এলএ শাখায় ভ‚মি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা (এলএও) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। প্রাথমিক পরিচয়ের সূত্র ধরে তিনি তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন।

এক পর্যায়ে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ফ্ল্যাট ও আবাসিক হোটেল ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। ততদিনে গোপনে বিয়েবহির্ভূত বিষয়টি অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি ঘনীভূত হয়ে ওঠে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিয়ে করতে না চাইলে বিপত্তি ঘটে। ভুক্তভোগী নারী প্রতিকার চেয়ে গত ৫ মে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন।

এরপর মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সুনামগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হারুন অর রশিদকে প্রধান করে ১ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, আয়বহির্ভূত লাখ লাখ টাকা ব্যাংকে রাখার জন্য তিনি তার প্রেমিকার নামে চট্টগ্রামের কদমতলী এলাকায় একটি বেসরকারি ব্যাংকের স্থানীয় শাখায় হিসাব খোলেন। যার নম্বর ২০৪৩৩০০০৩৫৬। ঋণ নিয়ে দেয়ার কথা বলে ভোটার আইডি কার্ডসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ফটোকপি ব্যবহার করে হিসাবটি খোলা হয়। ওই সময় জমি অধিগ্রহণের বিপুল পরিমাণ ঘুষ কমিশনের কিছু অর্থ ওই অ্যাকাউন্টে লেনদেন করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে তদন্ত কমিটি।

তদন্ত কমিটি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যুগান্তরের কাছে এ বিষয়ে পরিচয় গোপন রাখার শর্তে অনেক তথ্য দিলেও বাস্তবে তদন্ত প্রতিবেদনে বিষয়টির গভীরে যাননি।