গর্ভাবস্থার বাড়তি ওজন ও ফ্যাট থেকে রক্ষা পেতে

শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৯

স্বাস্থ্য ডেস্ক : মাতৃত্ব প্রতিটি নারীকেই অপার আনন্দের স্বাদ দিতে পারে। কিন্তু মাতৃত্বকালীন সময়ে শরীর নানা পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যায় এবং সেগুলির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াটা মোটেই সহজ কাজ নয়। যেমন ধরুন, প্রেগন্যান্সির সময়ে প্রত্যেকটি মেয়েরই ওজন বাড়ে।

যোগ হয় বাড়তি ফ্যাট। ভ্রূণের বেড়ে ওঠা ও প্রসব প্রক্রিয়া চলাকালীন যে বাড়তি এনার্জিটা লাগে, তা জোগায় এই ফ্যাট। তবে যদি আপনি এই সময়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাওয়াদাওয়া করেন, তা হলে কিন্তু দরকারের চেয়ে বেশি ফ্যাট জমা হবে এবং তার ফলে জেস্টেশনাল ডায়াবেটিসের আশঙ্কা বাড়বে, প্রসবের সময়েও নানা জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই শুরু থেকেই সাবধানে খাওয়াদাওয়া করতে হবে।

যতদিন মা সন্তানকে স্তন্যপান করাচ্ছেন, ততদিন পর্যন্ত কিছুটা এক্সট্রা ফ্যাট শরীরে থাকা দরকার। তবে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে আপনার প্রসব পরবর্তী ডায়েট প্ল্যানটা ঠিক করে নেওয়া উচিত।

নিয়মিত স্তন্যপান ও হিসেবমতো খাওয়াদাওয়া করলেই ওজন ধীরে ধীরে কমতে আরম্ভ করবে। মাস তিনেক পর যদি আপনার চিকিৎসক আপত্তি না করেন, তা হলে হালকা কিছু ব্যায়াম শুরু করতে পারেন। এই সময় ওজন কমার হার একটু কমে যায়, আগের চেহারায় ফিরতে আপনার বছর দেড়-দুইও লাগতে পারে, তাতে ঘাবড়াবেন না। কোনও পরিস্থিতিতেই বোকামি করে ক্র্যাশ ডায়েট ট্রাই করবেন না, তাতে লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হয়।

তবে যেটা করা যায়, সেটা হচ্ছে দিনে কতটা ক্যালোরি খাচ্ছেন, তার হিসেব রাখুন। চেষ্টা করুন প্রতি সপ্তাহে দৈনিক খাদ্যতালিকা থেকে ৩০০ ক্যালোরি বাদ দেওয়ার, সঙ্গে ২০০ ক্যালোরি কমাতে হবে ব্যায়াম করে। টার্গেট রাখুন সপ্তাহে ৫০০ ক্যালোরি বাদ দেওয়ার। তাতে নিশ্চিতভাবেই ওজনও কমবে। যে সব মায়েরা স্তন্যপান করাচ্ছেন, তাঁদেরও শরীরে এর কোনও ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে না। এমন খাবার খান যাতে প্রচুর পরিমাণে স্বাস্থ্যকর ফাইবার আছে, আছে প্রোটিন। প্রোটিন বেশিক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে। প্রসেসড ফুড বা মিষ্টি চলবে না একেবারেই, চলবে না মদ্যপানও।

এবার প্রশ্ন, কোন ধরনের ব্যায়াম করবেন? শুরু করুন হাঁটা দিয়ে। সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করুন, যোগাভ্যাস করা যায়। প্ল্যাঙ্ক বা সাইড প্ল্যাঙ্কও করতে পারেন স্বচ্ছন্দে, তাতে কোর মাসলের শক্তি ফিরে আসবে ধীরে ধীরে। সেই সঙ্গে পর্যাপ্ত ঘুমোনোর অভ্যেসটাও রাখা দরকার। দরকারে পরিবারের অন্যদের দায়িত্বে খানিকক্ষণের জন্য বাচ্চাকে রাখুন, নিজেকে বিশ্রাম দিন। একমাত্র তা হলেই আপনার ওজন দ্রুত কমতে আরম্ভ করবে।