স্বামীকে তালাক দিয়ে ভাতিজাকে বিয়ে, অতঃপর পুরুষাঙ্গ কর্তন!

শনিবার, আগস্ট ৩১, ২০১৯

নাটোর : নাটোরের সিংড়া উপজেলার রামানন্দ খাজুরা ইউনিয়নের বেগুনবাড়ি গ্রামের মেয়ে কুলসুম (৩২) কর্তৃক স্বামীর পুরুষাঙ্গ কেটে নেয়ার ঘটনা গণমাধ্যমে প্রচার হওয়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।

স্থানীয় সূত্র জানান, কুলসুমের বর্তমান স্বামী মিটুল (২৮) মূলত তার সাবেক স্বামীর ভাতিজা। ভাতিজা চার বছরের বড় হয়েও চাচীর সঙ্গে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। কেউ না জানলেও প্রেম গভীর হতে থাকে তাদের।

সংসারে বনিবনা না হওয়ার এক পর্যায়ে মিটুলের চাচার সাথে কুলসুমের বৈবাহিক সম্পর্ক তালাকে পরিণত হয়। ঘরে ৫ বছরের একটি ছেলে সন্তান রেখে কুলসুম ঢাকায় গিয়ে গার্মেন্টেস এ চাকরি নেয়। সেখানে কুলসুম বেগম তার সদ্য তালাকপ্রাপ্ত স্বামীর আপন ভাতিজা মিটুলের সাথে চলমান প্রেমের সম্পর্ক আরো গাঢ় করে তোলেন। সম্পর্কের পরিণতি পায় বিয়েতে।

বিয়ের পর মিটুল ও কুলসুম ঢাকাতেই ঘর-সংসার করছিলেন। সম্প্রতি তারা ঈদের ছুটিতে সিংড়ায় গ্রামের বাড়িতে আসেন। বাড়িতে এলে মিটুলের বাড়ির লোকজন, আত্মীয়-স্বজন মিটুলের নতুন সম্পর্ক মেনে না নেওয়ায় কলহের সৃষ্টি হয়। শালিস-বৈঠকে মীমাংসা হওয়ার পর মিটুলের সাথে সংসার করতে থাকেন কুলসুম।

কিছুদিনের মধ্যে কুলসুমের অভিযোগ, সিংড়ায় এসে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন মিটুল। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হয়। এরই এক পর্যায়ে বুধবার রাতে স্বামী ঘুমিয়ে পড়লে ধারালো ব্লেড দিয়ে মিটুলের পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলেন কুলসুম।

প্রথমে মিটুল মান সম্মানের ভয়ে পরিবারের লোকজনের কাছে বিষয়টি গোপন রাখেন। পরে ঘটনাটি জানাজানি হলে পরিবারের লোকজন বৃহস্পতিবার দুপুরে থানায় এসে এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত কুলসুমকে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কুলসুমকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মিটুলকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) ভর্তি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মিটুলের বাবা মোবারক আলী বাদী হয়ে পুত্রবধূর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।