আর্থিক খাতের আমানত নিয়ে শঙ্কিত সিএসই!

শুক্রবার, আগস্ট ৩০, ২০১৯

ঢাকা : কয়েক বছর ধরেই চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) পরিচালন আয়ের (অপারেটিং ইনকাম) তুলনায় পরিচালন ব্যয় বেশি। সেই ঘাটতি মেটাতে প্রায় প্রতিবছর দ্বারস্থ হতে হয় বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা সিএসইর স্থায়ী আমানত (এফডিআর) থেকে প্রাপ্ত সুদের ওপর।

কিন্তু আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠান পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যানশিয়াল সার্ভিস দেউলিয়া হয়ে যাওয়ায় সিএসইর সেই নিশ্চিন্ত আয়ের আস্থার জায়গাটিতে দুঃশ্চিন্তা ঢুকে গেছে।

ব্যাংক ছাড়াও সিএসইর ৫০০ কোটি টাকার বেশি এফডিআরের একটি অংশ বিনিয়োগ করা আছে লিজিং, ফিন্যান্স কম্পানির মতো নন-ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলোতে। সিএসইর একটি বিশ্বস্ত সূত্রের হিসাবে নন-ব্যাংকিং খাতে প্রায় ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত সিএসই পরিচালনা বোর্ড। এরই মধ্যে নতুন করে কোনো নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী আমানত না রাখা এবং যেগুলোতে আছে সেসব প্রতিষ্ঠানের চুক্তি নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিএসই।

সূত্রটি জানায়, গত জুলাই মাসে সিএসই পরিচালনা বোর্ডে বিভিন্ন ফিন্যান্স ও লিজিং কম্পানিতে সিএসইর এফডিআরের টাকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরিচালক জানান, বেশ কিছু নন-ব্যাংকিং কম্পানিতে এফডিআর করে সিএসই ভালোভাবেই ফেঁসেছে।

কয়েকটি কম্পানি এফডিআরের মেয়াদ শেষে লভ্যাংশ দিলেও মূল টাকা দিতে গড়িমসি করছে। বিলুপ্ত হওয়া পিপলস লিজিংসহ বেশ কয়েকটি নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে অন্তত ৪০ থেকে ৫০ কোটি টাকা দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে। সভায় এই টাকা উদ্ধারে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

সিএসইর সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ৩৪টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সিএসই ৫০৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা এফডিআর হিসেবে আমানত রেখেছে। এসব আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সর্বনিন্ম ৬ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ৯.৭৫ শতাংশ সুদে এই আমানত রাখা হয়।

সদ্য অবসায়ন হওয়া পিপলস লিজিংয়ে রাখা হয়েছিল পাঁচ কোটি টাকা। যদিও এর আগে পিপলস লিজিংয়ে কোনো আমানত ছিল না বলে দাবি করেছেন সিএসই কর্তৃপক্ষ। তবে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিন্যানশিয়াল সার্ভিসে প্রায় ১৪ কোটি টাকা আমানত দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে।

এই প্রতিষ্ঠান থেকে বিভিন্ন সময় দেওয়া চেকও ব্যাংক থেকে বাউন্স করে দেওয়া হয়েছে বলে সিএসই ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান। তবে এর পরেও কম্পানিটির বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আরো কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সিএসইর স্থায়ী আমানত নিয়ে শঙ্কিত সিএসই পরিচালনা বোর্ড। তবে পাওনা টাকা উদ্ধারে মামলায় যেতে চায় না সিএসই বোর্ড। কারণ এতে সময়ক্ষেপণ হবে বলে তাঁদের অভিমত। বরং চাপ প্রয়োগ করে যতটা সম্ভব নিজেদের টাকা ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে আগ্রহী সিএসই।

এ বিষয় জানতে চাইলে সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. গোলাম ফারুক বলেন, ‘যেসব নন-ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানে এফডিআর চলমান আছে সেগুলো পরিবর্তনের সুযোগ নেই। তবে নতুন করে আমরা কোনো নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আমানত রাখব না এমন একটি সিদ্ধান্ত হয়েছে।’ পিপলস লিজিংয়ে আমানত রাখা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আগে এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সিএসইর আমানত থাকলেও পিপলস লিজিং দেউলিয়া হওয়ার অনেক আগেই সিএসই সেখান থেকে সব অর্থ তুলে নিয়েছে।’

একই প্রসঙ্গে কথা হয় সিএসইর শেয়ারহোল্ডার পরিচালক মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘অস্বীকার করার উপায় নেই যে সিএসই এফডিআরের আয়ের ওপর টিকে আছে। সেই টাকা ঝুঁকিতে ফেলতে দেওয়া যায় না। একটি প্রতিষ্ঠানে সিএসইর স্থায়ী আমানতের টাকা নিয়ে কিছু সমস্যা আছে।

সেটা উদ্ধারের জন্য আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে।’ তিনি বলেন, ‘এফডিআরের টাকা প্রতিষ্ঠানের আমানত। এই টাকাকে কোনোভাবেই ঝুঁকিতে ফেলা যাবে না। এ জন্য সিএসই ইন্টারেস্ট রেট কম হলেও ভালো ব্যাংকে টাকা রাখার পক্ষে।’