মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নারীদের গণধর্ষণ করা হয়েছে: জাতিসংঘ

শুক্রবার, আগস্ট ২৩, ২০১৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গণহত্যার উদ্দেশ্যেই ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা নারীদের ওপর যৌন সহিংসতা চালিয়েছিল মিয়ানমার সেনাবাহিনী।

বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ প্রকাশিত এক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, মুসলিম রোহিঙ্গা নিধনের উদ্দেশ্যে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে সংস্থার স্বাধীন তদন্ত কমিশন।

একইসঙ্গে, গণহত্যার দায়ে জড়িত থাকার পরও মিয়ানমার সেনা সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে বলেও জানায় জাতিসংঘ।

প্রায় দুই বছর আগে ঠিক এই সময়ে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হত্যা নির্যাতন, ধর্ষণ এবং বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের মুখে রাখাইন থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নেয় ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা।

রোহিঙ্গা গণহত্যার জন্য গত বছর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সেনাপ্রধানসহ দেশটির স্টেট কাউন্সিলর অং সান সুচিকে দায়ী করে তদন্ত প্রতিবেদন দেয় জাতিসংঘের গঠন করা স্বাধীন তদন্ত কমিশন।

এবার সংস্থাটি জানালো, মূলত সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের নির্মূলের উদ্দেশ্যে নারীদের ওপর যৌন সহিংসতা চালিয়েছিল মিয়ানমার সেনাবাহিনী। মিয়ানমারের এই অপরাধের তারা প্রমাণ পেয়েছে বলেও জানায় সংস্থাটি।

স্বাধীন তদন্ত কমিশনের সদস্য রাধিকা কুমারাস্বামী বলেন, এই প্রতিবেদনের গুরত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রোহিঙ্গা নারীদের কাছ থেকে পুরুষদের আলাদা করা হয়। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘরের ভেতর নিয়ে তাদের গণধর্ষণ করে। বিভিন্নভাবে তাদের ওপর যৌন নির্যাতন করা হয়। কক্সবাজার শিবিরে আশ্রয় নেয়া ভুক্তভোগী এমন অনেক নারীর সন্ধান পেয়েছি আমরা।

রাখাইনের আরাকান আর্মি ও মিয়ানমার সেনাবাহিনীর চলমান সংঘর্ষের ঘটনায় বেশ কিছু যৌন সহিংসতার অভিযোগ পাওয়া গেলেও এই অভিযোগগুলো রোহিঙ্গা নারীদের ওপর চালানো নির্যাতন থেকে ভিন্ন বলেও জানান রাধিকা কুমারাস্বামী।

তিনি বলেন, মূলত রোহিঙ্গা নিধনের পাশাপাশি তাদেরকে বাস্তুচ্যুত করার উদ্দেশ্যেই রোহিঙ্গা নারীদের হাতিয়ার হিসেবে বেছে নেয় মিয়ানমার সেনারা।

রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার পরিবেশ সৃষ্টি করতে না পারার পাশাপাশি রোহিঙ্গা গণহত্যায় জড়িত সেনাদের বিচারের মুখোমুখি করতেও মিয়ানমার সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে জানান জাতিসংঘের এই কর্মকর্তা।