ব্যান্ডেজ পেটে রেখেই সেলাই, মৃত্যুর মুখে গৃহবধূ

বুধবার, আগস্ট ২১, ২০১৯

সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জ শহরের কমিউনিটি হাসপাতালে অপারেশন (সিজার) করে পেটের ভিতরে গজ ব্যান্ডেজ রেখেই সেলাই করার অভিযোগ উঠেছে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডাঃ কমল কান্তি দাসের বিরুদ্ধে।

অপারেশন করার পর মেয়ে সন্তান জন্ম হয় গৃহবধূ মোছাঃ নূপুর খাতুনের। কিন্তু সিজার শেষে পেটের ভিতরে গজ ব্যান্ডেজ রেখেই সেলাই করে ঐ ডাক্তার। পেটের ভিতর গজ ব্যান্ডেজ নিয়ে নিদারুন যন্ত্রণায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে গৃহবধু মোছাঃ নূপুর খাতুন।

নূপুর খাতুন রায়পুর মহল্লার নুরাল শেখের মেয়ে ও সদর উপজেলার বহুলী ইউনিয়নের চাঁদপাল গ্রামের শহীদুল ইসলামের স্ত্রী।

মঙ্গলবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ পৌরসভার রায়পুর পশ্চিমপাড়া গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা যায়। এসময় গৃহবধুর পিতা নুরাল শেখ অভিযোগ করে বলেন, গত ৮ মে ২০১৯ইং তারিখে কমিউনিটি হাসপাতালে আমার মেয়ের সিজার করেন ডা. কমল কান্তি দাস। মেয়ের সিজারের বিল করেন ১৩ হাজার টাকা। আমি কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করে ৮হাজার টাকা পরিশোধ করি।

কিছুদিন পর আমার মেয়ে ব্যাথা সইতে না পেরে বিভিন্ন স্থানে ডাক্তারের সরনাপন্ন হয়। তারপরও রোগ নির্নয় হচ্ছে না। একাধিক বার পরিক্ষা নিরিক্ষা করার পর ধরা পড়ে পেটের ভিতর কিছু একটা আছে। পরে বেসরকারী আভিসিনা হাসপাতালে চলতি মাসে প্রথম দিকে আবারো অপারেশন করানো হয়। অপারেশন শেষে নুপুরের পেট থেকে গজ ব্যান্ডেজ বের করা হয়। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন বেসরকারী আভিসিনা হাসপাতালে ডা. আশরাফুল ইসলাম।
গৃহবধু নুপুর বলেন, আমার স্বাভাবিক জীবন ছিল, ওই কমিউনিটি হাসপাতালের চিকিৎসক আমার স্বাভাবিক জীবন নষ্ট করে দিয়েছে, আমি সুস্থ হতে চাই।

শুধু তাই নয়। বর্তমানে বাবার বাড়িতে বিনা চিকিৎসায় বিছানায় শুয়ে কাতরাচ্ছেন নুপুর।

এ বিষয়ে ডাঃ কমল কান্তি দাস সকল অভিযোগ স্বীকার করে জানান, কাজ করতে গেলে একটু ভুল হতেই পারে। তবে এ ঘটনা নিয়ে শহরের বড় বড় প্রভাবশালী লোক সমাধানের চেষ্টা করছে বলে তিনি জানান।

এব্যাপারে সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. জাহিদুল ইসলাম জানান, এধরণের অভিযোগ এখনো আমার কাছে আসেনি অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, যেহেতু রোগীর অবস্থা ভাল না, তাই তাড়াতাড়ি রোগীকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করানোর পরামর্শ দেন।