পাউবো-জনস্বাস্থ্যের জমি জটিলতার আটকে আছে পাবলিক টয়লেট

বুধবার, আগস্ট ২১, ২০১৯

শাহিনুর ইসলাম প্রান্ত, লালমনিরহাট প্রতিনিধি : লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় অবস্থিত দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ। এ ব্যারাজ দেখতে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ভীড় করেন।

কিন্তু পাবলিক টয়লেট না থাকায় মানুষজনকে সমস্যায় পড়তে হয়। ফলে ওই এলাকায় ৩৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে একটি অত্যাধুনিক পাবলিক টয়লেট নির্মাণের উদ্দ্যোগ নেয় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তর। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জমি (স্থান) বরাদ্দ না দেয়ায় এখন পর্যন্ত ওই পাবলিক টয়লেটের নির্মাণ কাজ শুরু করতে পারে নাই জনস্বাস্থ্য বিভাগ।

হাতীবান্ধা উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী প্রকাশ কান্তি রায় জানান, তিস্তা ব্যারাজ এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় দর্শনার্থীদের জন্য একটি পাবলিক টয়লেট তৈরীর পরিকল্পনা গ্রহন করা হয়।

ওই অত্যাধুনিক পাবলিক টয়লেট নির্মানে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৬ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা। যা বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়েছেন রাহেদুজ্জামান নামে এক ঠিকাদার। কিন্তু নির্মানের স্থানটি (জমি) পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)’র আওতায় হওয়ায় নির্মাণ কাজ আটকে যায়।

পরে স্থান বরাদ্দ চেয়ে গত ১৩ জুলাই পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)কে একটি পত্র দেয়া হয়েছে। তারা যে স্থানটি বরাদ্দ দিয়েছেন ওই স্থানে টয়লেটটি নির্মাণ হলে কোনো কাজে আসবে না। ফলে এখন পর্যন্ত নির্মাণ করা শুরু করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য মোতাহার হোসেনকে জানানো হয়েছেন। তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)’র কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলছেন। স্থান বরাদ্দ পাওয়া মাত্রই আমরা নির্মাণ কাজ শুরু করবো।

তিস্তা ব্যারাজ এলাকায় ঘুরতে আসা রংপুর কারমাইকেল কলেজের শিক্ষার্থী সফিয়ার রহমান, রোকেয়া পারভীন জানান, আমরা পরিবারসহ তিস্তা সেচ প্রকল্প দেখতে এসেছি। কিন্তু পাবলিক টয়লেট না থাকায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। দেখছি অনেকেই খোলা স্থানে প্রসাব-পায়খানা করছেন। কিন্তু মহিলাদের প্রচন্ড সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)’র ডালিয়া-দোয়ানী’র নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, জনস্বাস্থ্য বিভাগ যে স্থানটিতে টয়লেট নির্মাণ করতে চাচ্ছেন সেই স্থানটি সংরক্ষিত এলাকা। ফলে ওই স্থানে টয়লেট নির্মাণের জন্য উচ্চ পর্যায়ের অনুমতি লাগবে।

লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রা)’র সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোতাহার হোসেন বলেন, তিস্তা ব্যারাজ এলাকায় টয়লেট না থাকায় দর্শনার্থীদের সমস্যায় পড়তে হয়।

ফলে জনস্বার্থে ওই এলাকায় ৩৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে একটি পাবলিট টয়লেট নির্মানের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সাথে একাধিক বার কথা বলেও এখন পর্যন্ত স্থান বরাদ্দ দেয়নি। বিষয়টি সত্যি দুঃখ জনক।