রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু ২২ আগস্ট

সোমবার, আগস্ট ১৯, ২০১৯

ঢাকা : মিয়ানমারের সদিচ্ছায় আগামী ২২ আগস্ট থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হতে যাচ্ছে। এদিন ৩ হাজার ৪৫০ জন রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে স্থল ও নৌ পথে মিয়ানমার সরকার প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে।

গত জুলাই মাসে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব ইউ মিন্ট থুর নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের ডেলিগেশন টিম উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন শেষে প্রত্যাবাসনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়।

বাংলাদেশের পক্ষেও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সহজ করতে কক্সবাজারে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ে গতকাল রবিবার প্রত্যাবাসন টাক্সফোর্সের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠক সম্পর্কে চট্টগ্রাম বিভাগীয় অতিরিক্ত কমিশনার নুরুল আলম নেজামী বলেন, ‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবারের প্রত্যাবাসন নিয়ে আমরা ইতিমধ্যে প্রস্তুতি শেষ করেছি। সবকিছু ঠিক থাকলে হয়ত এ কার্যক্রম আরো বাড়ানো হবে।’

তবে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া অধিকাংশ রোহিঙ্গা মনে করেন, মিয়ানমার সরকারের পক্ষ থেকে নাগরিকত্বের স্বীকৃতি এবং তাদের উপর সংঘটিত নির্যাতনের বিচারের নিশ্চয়তা না পেলে রোহিঙ্গাদের ফিরে গিয়ে লাভ নেই। এটা না হলে ২২ আগস্টের প্রত্যাবাসনের চেষ্টাও ফলপ্রসূ হবে কী-না এ নিয়ে তাদের মধ্যে সন্দেহ রয়েছে। কারণ গত বছরের ১৫ নভেম্বর উভয় দেশের ব্যাপক প্রস্তুতি থাকার পরও রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো যায়নি। ওই সময় কতিপয় দেশি-বিদেশি এনজিওর গোপন ষড়যন্ত্র ও উস্কানি এবং সন্ত্রাসী রোহিঙ্গাদের বাধার কারণে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া পণ্ড হয়ে যায়।

সূত্র জানায়, উখিয়া-টেকনাফে ৩০টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এগারো লাখের অধিক রোহিঙ্গার বাস। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গারা প্রাণ রক্ষায় এ দেশে পালিয়ে আসেন। তবে নিজ দেশে ফিরে যেতে আগ্রহী এদের অধিকাংশই। ইতিমধ্যে বেশ কিছু রোহিঙ্গা নিজ উদ্যোগে রাখাইনে ফিরেও গেছেন। কিন্তু ক্যাম্পগুলোতে প্রত্যাবাসন বিরোধী উগ্রপন্থী ও উস্কানিদাতাদের নিবৃত করা সম্ভব না হলে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ফের হোঁচট খাওয়ার শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

কুতুপালং ২ নম্বর ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নেতা মহিবুল্লাহ বলেন, ‘তাদের মৌলিক অধিকার পূরণ হলে একজন রোহিঙ্গাও বাংলাদেশে থাকবে না। স্ব-ইচ্ছায় মিয়ানমারে ফেরত যাবে। তবে নাগরিকত্ব দিয়েই রোহিঙ্গাদের গ্রহণ করতে হবে মিয়ানমারকে।’ বালুখালী ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নেতা জবর মুল্লুক জানান, জানমালের নিরাপত্তার অভাবে কেউ ফিরে যাওয়া নিয়ে মুখ খুলে বলতে পারছে না। কারণ ইতিপূর্বে ফিরে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করায় বেশ কয়েক জন রোহিঙ্গা নেতা হত্যার শিকার হয়েছে।

কুতুপালং ক্যাম্পের রোহিঙ্গা মো. ইলিয়াছ ও নুর মোহাম্মদ জানান, ফিরে যেতে আগ্রহী রোহিঙ্গারা হুমকি, খুন ও গুমের শিকার হন। এরপরও হুমকি উপেক্ষা করে নিজ উদ্যোগে অনেক রোহিঙ্গা গোপনে রাখাইনে ফিরে যাচ্ছেন। ক্যাম্পগুলোতে সন্ত্রাসীদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে গত ৯ আগস্টও ২১ রোহিঙ্গা নারী, শিশু ও পুরুষ মিয়ানমার ফিরে গেছে বলে তারা দাবি করেন ।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. আবুল কালাম এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘মিয়ানমার নিয়মিত তাদের নাগরিক রোহিঙ্গাদের তালিকা দিচ্ছে। সম্প্রতি ছাড়পত্র দেওয়া ৩ হাজার ৪৫০ জন রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে যাচ্ছে দেশটি। সবকিছু ঠিক থাকলে সীমান্তের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম মৈত্রী সেতু ও টেকনাফের নাফ নদীর কেরুনতলীর প্রত্যাবাসন ঘাট দিয়ে ঐসব রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে যাবে। রোহিঙ্গাদের জন্য ওখানে একটি কাঠের সেতু এবং আধা সেমিপাকা ৩৩টি ঘরও নির্মাণ করা হয়েছে। রয়েছে ৪টি শৌচাগার। এটি দেখভাল করার জন্য ১৬ আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।’

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘আগামী ২২ আগস্ট রোহিঙ্গা ফেরত দেওয়ার ব্যাপারে আমরা ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের যে কোনো নির্দেশনা পালন করতে আমরা সবসময় প্রস্তুত রয়েছি।’