ভিন্নমতের মানুষের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধ করুন: ভিপি নুর

সোমবার, আগস্ট ১৯, ২০১৯

ঢাকা: ভিন্নমতের মানুষের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধ করতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ভিপি নুরুল হক নুর। অভিযোগ করে বলেন, ২০১৮ সালের ৩০ জুন থেকে গত ১৪ আগস্ট পর্যন্ত মোট আট বার ছাত্রলীগের হামলার শিকার হয়েছেন। এ সময় তিনি জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সোমবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান।

হামলাকারীদের বিচারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে নুর বলেন, ‘বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতা-কর্মীদের অযথা হয়রানি বন্ধ করুন এবং যারা হামলার সাথে জড়িত তাদেরকে অতি দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনার নির্দেশ দিন। কারণ অন্যায়ভাবে কাউকে হয়রানি করে তার মুখ বন্ধ রাখা যায় না।’

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে ভিপি নুর বলেন, কিছু দিন আগেও বিবিসি বাংলাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে আপনি নিজেই বলেছেন- সরকারের সমালোচনা করতে বাধা নেই, দেশ ভিন্নমত প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে।

‘তাই আপনার কাছে অনুরোধ- ভিন্নমতের মানুষের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধ করে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে আপনার দলের নেতাকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেন। দেশে শাসন প্রতিষ্ঠায় দলীয় প্রভাবমুক্ত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কার্যকর করুন।’

অন্যায়ের-অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী মানুষদের পাশে দাঁড়াতে ছাত্রসমাজ তথা দেশবাসীর কাছে অনুরোধ করে তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের বিচারের দাবিতে সোচ্চার হোন। আমি কোন অন্যায়- অপরাধ করিনি। শুধুমাত্র অন্যায়-অনিয়মের প্রতিবাদ করার কারণেই আমি ও ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতা-কর্মীরা বার বার ক্ষমতাসীন দলের রোষানলের স্বীকার হয়েছি।’

ক্ষমতাসীন দলের নেতা ছাড়াও সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার লোকদের কাছ থেকেও প্রতিনিয়ত হুমকির সম্মুখীন হচ্ছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন নুর।

ভিপি বলেন, ‘গত ১৪ আগস্ট চর বিশ্বাস থেকে আমার বোনের বাড়ি দশমিনা যাওয়ার পথে উলানিয়া বাজারে পটুয়াখালী-৩ সংসদ সদস্য এস. এম শাহজাদা সাজুর নির্দেশে গলাচিপা উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিন শাহ’র নেতৃত্বে তার ভাই নুরে আলম, লিটু পেদা, তূর্য্যসহ আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও শ্রমিক লীগের প্রায় শতাধিক নেতা-কর্মীরা আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে রড, স্টীলের পাইপ ও চাপাতি নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় প্রায় ২০-২৫ জনকে আহত, ১০টি মটরসাইকেল ভাংচুর, দুটি ডিসএলআর ও ৮৯ হাজার টাকা ছিনতাই হয়।

তিনি আরও বলেন, ‘অমি নিজে, রবিউল, ইব্রাহিম, জাহিদ, রিয়াজসহ পাঁচ জন গুরুতর আহত হই। সন্ত্রাসীরা শুধু হামলা করেই ক্ষান্ত হয়নি আমাকে চিকিৎসার মতো মৌলিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত করেছে। ডাক্তার সিটি স্ক্যান ও ক্রিয়েটিনিন পরীক্ষা করার জন্য বরিশাল মেডিকেলে রেফার করলেও সন্ত্রাসীরা এবং পুলিশ আমাকে জোর করে বাসায় পাঠিয়ে দেয়। এ ঘটনা নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার জন্য আমাকে ও আমার পরিবারকে নিয়মিত হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।’

উল্লেখ্য, গত ১৪ আগস্ট বুধবার পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার উলানিয়া বাজারে স্থানীয় ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের কিছু নেতা-কর্মীদের দ্বারা হামলার শিকার হন ভিপি নুর। এসময় নুর ছাড়া বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের বেশ কয়েকজন নেতা আহত হোন। পরে পুলিশ গিয়ে নুরকে উদ্ধার করে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

ছাত্রসমাজ ও দেশবাসীর উদ্দেশে ডাকসু ভিপি বলেন, আমি আমার প্রাণনাশের শঙ্কাবোধ করছি। আপনাদের কাছে অনুরোধ, আপনারা আমার তথা অন্যায়ের-অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সন্ত্রাসীদের বিচারের দাবিতে সোচ্চার হোন।

‘আমি কোনো অন্যায়-অপরাধ করিনি। শুধু অন্যায়-অনিয়মের প্রতিবাদ করার কারণেই আমি ও ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতাকর্মীরা বারবার ক্ষমতাসীন দলের রোষানলের শিকার হয়েছি। ক্ষমতাসীন দলের নেতা ছাড়াও সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার লোকদের কাছ থেকেও প্রতিনিয়ত হুমকির সম্মুখীন হচ্ছি।’