কুড়িগ্রামে মোবাইল কোর্টে ৮ পরিবহণে এক লক্ষ টাকা জরিমানা আদায়

সোমবার, আগস্ট ১৯, ২০১৯

মিজান খন্দকার, কুড়িগ্রাম থেকে : কুড়িগ্রামে ঈদ উদযাপন শেষ করে ঢাকা ফিরতে শুরু করেছে ঢাকাবাসী মানুষজন। ট্রেনে করে ফিরছেন অল্পসংখ্যক, অধিকাংশজনই ফিরছেন বাসে। আর এ সুযোগটাই লুফে নিয়েছে পরিবহণ ব্যবসায়ীরা। বাসের যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করছে অতিরিক্ত ভাড়া।

নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুণ/তিনগুণ ভাড়া আদায় করছে যানবাহন কর্তৃপক্ষ। বাস মালিক-শ্রমিকদের কাছে এক প্রকার জিম্মি হয়ে পড়েছে ভুক্তভোগী সাধারণ যাত্রীরা। টিকিট নেই, এই অযুহাতে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ৩০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছে পরিবহণ প্রতিষ্ঠানগুলো।

এ হিসাবে দিনে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা বাড়তি আদায় করছে দূরপাল্লার প্রায় দুই শতাধিক বাস। গত এক সপ্তাহে যার পরিমাণ দাড়ায় ২ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা। যাত্রীদের এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত দু’দিনে দূর পাল্লার ৮টি বাসে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৯৬ হাজার ৩শ’ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। প্রশাসনের এ ধরণের পদক্ষেপে খুশি যাত্রীসহ উৎসুখ জনতা।

রোববার দিবাগত রাতে কুড়িগ্রাম শহরের জেলা পরিষদ সুপার মার্কেট ও ঘোষপাড়া এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিট্রেট ও সহকারি কমিশনার সুদীপ্ত কুমার সিংহ, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিন্টু বিকাশ চাকমা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাসিবুল হাসান মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। অভিযান পরিচালনাকালে পুলিশ, বিআরটিএ পরিদর্শক মাহবুবার রহমান, কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি এডভোকেট আহসান হাবীব নীলু, স্যানিটারী ইন্সপেক্টর জহুরুল ইসলামসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকা, চট্রগ্রাম, সিলেট, বরিশালসহ বিভিন্ন রুটে দিনে-রাতে মিলিয়ে প্রায় দেড়শ’টি দূরপাল্লার বাস যাতায়াত করে। ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত আরো অর্ধ শতাধিক বহির্জেলার দূরপাল্লার যানবাহন যাত্রী পরিবহন করছে। প্রতিদিন গড়ে ২শ’টি যাত্রীবাহী বাসে ৪০জন যাত্রী হিসেবে ৮ হাজার যাত্রী ঈদের ছুটি শেষে নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরছে।

এসময় যানবাহনগুলো থেকে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে প্রতিটি টিকিটে কমপক্ষে বাড়তি ৫শ’ টাকা করে আদায় করছে। এই হিসেবে দিনে ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় হচ্ছে কমপক্ষে ৪০ লক্ষ টাকা। এই হিসেবে ঈদের পরদিন থেকে রোববার পর্যন্ত এক সপ্তাহে বাসের কাউন্টারগুলো বাড়তি ভাড়া হিসেবে প্রায় ২ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা লুটে নিয়েছে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাসিবুল হাসান জানান, দূরপাল্লার যাত্রীবাহি বাসে অভিযান চালিয়ে দেখা যায় টিকিট প্রতি অতিরিক্ত ৫শ’ থেকে ৮শ’ টাকা আদায় করা হয়েছে। এজন্য ৮টি বাসে জরিমানা আদায় করা হয় ৯৫ হাজার টাকা এবং এই বাসের দুই ড্রাইভারকে ত্রুটিপূর্ণ লাইসেন্সের কারণে আরো ১ হাজার ৩শ’ টাকা জরিমানা করা হয়।

জেলা মটর মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান বকসী জানান, কুড়িগ্রাম থেকে প্রতিদিন প্রায় দেড় শতাধিক দূরপাল্লার বাস যাত্রী পরিবহন করছে। ঈদ উপলক্ষে বাইরে থেকে আরও অনেক বাস যাতায়াত করছে। এসব দূরপাল্লার যাত্রীবাহি বাসের কমপক্ষে ৬০ শতাংশের রুট পারমিট নেই।

জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মজিদুল ইসলাম সরদার মোবাইল কোর্টে হাজির হয়ে এ জরিমানার ব্যাপারে আপত্তি তুলে বলেন, বাসগুলো যাত্রী বোঝাই হয়ে ঢাকায় গেলেও ফিরতি পথে আসতে হয় যাত্রীশূন্যভাবে। এ কারণে লোকসান ঠেকাতে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। তাই বিষয়টি বিবেচনা করার আহ্বান জানান।

দূর পাল্লার বাসের যাত্রী জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি একেএম সামিউল হক নান্টু জানান, ‘এনা’ পরিবহনে এসি বাসে টিকিট মূল্য ১ হাজার ৪শ’ টাকা হলেও তার কাছ থেকে ২ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে। সিনিয়র তথ্য অফিসার নুরন্নবী খন্দকার বাবলা একই অভিযোগ করে বলেন, তার দুটি টিকেটে অতিরিক্ত ১ হাজার ২শ’ টাকা দিতে হয়েছে। অপর যাত্রী ভুরুঙ্গামারী প্রেসক্লাবের সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম জানান, ঢাকাগামী বিআরটিসি বাসের একটি টিকিটে অতিরিক্ত ৭শ’ টাকা আদায় করা হয়।

মোবাইল কোর্টের নির্বাহী ম্যাজিট্রেট ও সহকারি কমিশনার সুদীপ্ত কুমার সিংহ জানান, যাত্রীদের কাছে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক মোছা: সুলতানা পারভীন’র নির্দেশে শহরের জেলা পরিষদ মার্কেট ও ঘোষপাড়ায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। এছাড়াও বিভিন্ন কাউন্টারে-কাউন্টারে গিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করার জন্য সতর্ক করে দেয়া হয়েছে।