কাশ্মীর নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে বৈঠক, রাশিয়ার প্রস্তাবে বিস্মিত দিল্লি

শনিবার, আগস্ট ১৭, ২০১৯

নিউজ ডেস্ক: শুক্রবার কাশ্মীর ইস্যুতে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে রাশিয়ার অবস্থানে বিস্মিত নয়াদিল্লি। রাশিয়া কাশ্মীর সংকট সমাধানে জাতিসংঘের চার্টার ও রেজুলেশন অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। মস্কো আশা প্রকাশ করেছে, ভারত ও পাকিস্তান দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় সংকটটির সমাধান করবে। ডেকান হেরাল্ড, আনন্দবাজার
ডেকান হেরাল্ড এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, রুশ প্রতিনিধি হিসেবে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে অংশ গ্রহণকারী কূটনীতিক দিমিত্রি পলিয়ানস্কি টুইটারে লিখেছেন, রাশিয়া সব সময়েই ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের পক্ষে জোর দিয়ে আসছে।
রুশ কূটনীতিক আরও লিখেছেন, আমরা আশা করি কাশ্মীর বিরোধ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপায়ে দ্বিপক্ষীয়ভাবে সমাধান হবে। যার ভিত্তি হবে ১৯৭২ সালের সিমলা চুক্তি ও ১৯৯৯ সালের লাহোর ঘোষণা এবং জাতিসংঘের চার্টার, জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট রেজুলেশন এবং ভারত ও পাকিস্তানের দ্বিপক্ষীয় চুক্তি।
সম্প্রতি পাকিস্তানের পররাষ্ট্রন্ত্রী শাহ মেহমুদ কোরেশির সঙ্গে আলোচনায় রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছিলেন, ভারত-পাকিস্তানের বিরোধ সমাধানে দ্বিপক্ষীয় রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপায়ের চেয়ে কোনও বিকল্প নেই।
ভারত অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন ও বিশেষ অধিকার বাতিলের পর শুক্রবার চীনের অনুরোধে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসে। ১৯৬৫ সালের পর কাশ্মীর ইস্যুতে এই প্রথমবারের মতো বৈঠক করলো জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। বৈঠকে ছিলো না ভারত ও পাকিস্তান। এই বৈঠকে যোগ দিয়েছে শুধু পাঁচ স্থায়ী ও ১০টি অস্থায়ী সদস্য। ৯০ মিনিটের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে চীন কাশ্মীর পরিস্থিতি উদ্বেগজনক বললেও নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষ থেকে কোনও বিবৃতি দিতে সম্মত হয়নি সদস্য রাষ্ট্রগুলো।
বৈঠক শেষে জাতিসংঘে চীনের স্থায়ী প্রতিনিধি ঝ্যাং জুন বলেন, ‘নিরাপত্তা পরিষদ মনে করছে, ভারত ও পাকিস্তানকে কাশ্মীর নিয়ে একতরফা পদক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।’ কাশ্মীর পরিস্থিতিকে ‘গুরুতর ও বিপজ্জনক’ বলেন তিনি।
ইমরান খানকে ভারতের সঙ্গে আলোচনার পরামর্শ ট্রাম্পের :
শুক্রবার নিরাপত্তা পরিষদের ওই বৈঠকের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে কাশ্মীর নিয়ে আলোচনা করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। হোয়াইট হাউস বলেছে, টেলিআলাপে ভারত-পাক দ্বিপাক্ষিক আলোচনার ভিত্তিতে উত্তেজনা প্রশমনে গুরুত্ব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। আর নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক শেষে ভারত আবারো বলেছে, ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের বিষয়টি সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ।