সুন্দর কথার চর্চা করবেন যেভাবে

সোমবার, আগস্ট ১২, ২০১৯

লাইফস্টাইল ডেস্ক : ধর্মের ফলিত রূপ সদাচরণ। সদাচরণ প্রকাশ পায় মূলত সুবচনে। সুন্দর শব্দ, বাক্য ও কথা সহজেই মানুষের মন জয় করে, তাকে উদ্বুদ্ধ করে। কথা যত সুন্দরভাবে বিনয়ের সঙ্গে বলবেন, আপনার কথার শুভ প্রভাব তত বাড়তে থাকবে। সুসম্পর্ক তৈরির পাশাপাশি আপনি হবেন চারপাশের মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।

প্রতিদিন আপনি কী বলছেন তার প্রতি সচেতন হোন। কোন নেতিবাচক শব্দ বা কথা বলে ফেললে উক্ত শব্দ বা কথার ইতিবাচক শব্দ বা কথা দিয়ে বক্তব্য শেষ করতে চেষ্টা করুন। নিয়মিত এ অনুশীলন আপনার ভেতরে সৃষ্টি করবে ইতিবাচক শক্তির অনুরণন, মেধাকে করবে বিকশিত, আপনি পরিণত হবেন এক অনন্য মানুষে।

পবিত্র কোরআনে সুবচন সম্পর্কে বলা হয়েছে, “একটি ভালো কথা এমন একটি ভালো গাছের মতো, যার শিকড় রয়েছে মাটির গভীরে আর শাখা-প্রশাখার বিস্তার দিগন্তব্যাপী, যা সারাবছর ফল দিয়ে যায়”। (সূরা ইব্রাহিম:২৪)

বাইবেলে সুবচন সম্পর্কে বলা হয়েছে “যে রূঢ় কথা বলে সে নিজের সর্বনাসের পথ উন্মোচিত করে”। (বাইবেল: হিতোপদেশ ১৩.৩)

মানুষ নিজের সম্পর্কে প্রতিনিয়ত কিছু নেতিবাচক ধারণা পোষণ করে যা প্রকাশ পায় কথাবার্তায়। কেমন আছেন? এর উত্তরে, এই কোন রকম আছি/ কেটে যাচ্ছে/ মোটামুটি/ আর আমাদের থাকা/ দিনকাল খারাপ, এ প্রশ্নের জবাব এভাবে না দিয়ে এভাবে বলুন, শোকর আলহামদুলিল্লাহ/ থ্যাংকস গড/ স্রস্টাকে ধন্যবাদ, বেশ ভালো আছি।

আমার কোন দোষ নেই, না বলে বলুন, আমি দুঃখিত, ভুল হলে ক্ষমা করবেন। আমি কোন ভুল করিনি, না বলে বলুন, কোন ভুল আমার চোখে পড়েনি। এ কাজ আমি করতে পারবো?/ আমাকে দিয়ে হবে না, না বলে বলুন, অমি চেষ্টা করে দেখতে পারি/ ইনশাআল্লাহ আমি করতে পারবো। উফ! আমি আর পারছি না, না বলে বলুন, আমাকে পারতে হবে। আমি এত বেখেয়ালি! না বলে বলুন, আমি আরও মনোযোগী হবো। ভীষণ ভয় লাগছে/ আমি ভীষণ ভীতু, না বলে বলুন, আমি সাহসী, আমি নির্ভীক। আমি কৈফিয়ত দিতে রাজি নই, না বলে বলুন, এ ব্যাপারে আমার কিছু বলার নেই। কাজের চাপে চোখে অন্ধকার দেখছি/ সর্ষেফুল দেখছি, না বলে বলুন, আলহামদুলিল্লাহ অনেক কাজ করার সুযোগ পেয়েছি।

এ কাজ করতে গিয়ে জীবন শেষ হয়ে যাবে, না বলে বলুন, এ কাজে অনেক কিছু শেখার আছে। আমি একটা গাধা, না বলে বলুন, স্রস্টা আমাকে যে মেধা ও যোগ্যতা দিয়েছেন, তা আর কাউকে দেন নি। আমি বোধহয় পাগল হয়ে যাচ্ছি, না বলে বলুন, আমি অনেকের চেয়ে ভালো আছি।

আমার জীবনটাই বৃথা, না বলে বলুন, আমার জীবনটা অনেক সম্ভাবনাময়। আমি খুব অলস, না বলে বলুন, আমাকে আরো কাজ করতে হবে। আমাকে দিয়ে কিছু হবে না, না বলে বলুন, আমার অনেক কিছু করার আছে। এ ব্যাপারে আমার উপদেশ হচ্ছে…, না বলে বলুন, এ ব্যাপারে আমার অভিমত হচ্ছে…।

আল্লাহ আমার প্রতি নির্দয়, না বলে বলুন, আল্লাহ হয়তো আমাকে পরীক্ষা করছেন। আমি হেরে গেলাম, না বলে বলুন, আমি জয়ী হতাম যদি…। আমি হতাশ, না বলে বলুন, আমি আশাবাদী। আমার পোড়া কপাল, না বলে বলুন, আমিও ভাগ্যবানদের একজন। আমি খুব অসুস্থ, না বলে বলুন, আমি সুস্থ হয়ে উঠছি। আমার একদম সময় নেই, না বলে বলুন, কিছু মনে করবেন না, আমি একটু ব্যস্ত। আমি কারো চেয়ে কম নাকি? না বলে বলুন, আমাকে আরও ভালো হতে হবে। আমি অনেক বেশি জানি, না বলে বলুন, আমার আরও জানার আছে। শান্তিতে একটু ঘুমাতেও পারলাম না, না বলে বলুন, বেশ চমৎকার ঘুম হয়েছে।

আমার সময়ের ঠিক-ঠিকানা নেই, না বলে বলুন, সময় সচেতন হওয়ার চেষ্টা করছি। আমার দেরি হয়েছে, না বলে বলুন, ঠিক সময়ে আসা উচিৎ ছিলো। খেলাম আর কি, না বলে বলুন, শোকর আলহামদুলিল্লাহ বেশ তৃপ্তির সাথে খেয়েছি। আমি আর কোন উপায় দেখছি না, না বলে বলুন, নিশ্চয়ই এর কোন বিকল্প রয়েছে। আমি সব কথা গুলিয়ে ফেলি, না বলে বলুন, গুছিয়ে কথা বলার চেষ্টা করছি। আমার জন্যই এ যাত্রায় বেঁচে গেছ, না বলে বলুন, আল্লাহ তোমাকে রক্ষা করেছেন। আমি সব ভুলে যাই, না বলে বলুন, প্রয়োজনীয় সবই আমার মনে থাকে।

দৈনন্দিন জীবনে মানুষ অসচেতনভাবে উক্ত নেতিবাচক কথা বা শব্দে অভ্যস্থ হয়ে উঠে। ফলে ধীরে ধীরে তার আত্মবিশ্বাসে যেমন ছিঁড় ধরে তেমনি হারিয়ে ফেলে উদ্যমতা। হয়ে উঠে হীনমন্য। তাই বুদ্ধিমান মানুষের উচিৎ এই নেতিবাচকতার বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে ইতিবাচকধারায় ফিরে আসার জন্য সুবচন চর্চা করা।