পুঁজিবাজার দরপতনের নেপথ্যে ১৩ বিনিয়োগকারী ও ৪ কোম্পানিকে বিএসইসিতে তলব

শুক্রবার, আগস্ট ৯, ২০১৯

ঢাকা: পুঁজিবাজারে সাম্প্রতিক টানা দরপতনে বিএসইসি সহ সরকারের নীতি নির্ধারকদের মাঝে বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। সরকারের নানা আন্তরিকতার পরও কেন পুঁজিবাজার স্থিতিশীল হচ্ছে না এ প্রশ্ন ছিল সরকারের উধ্বর্তন মহলের। একটি চক্র পুঁজিবাজারকে অস্থিতিশীল ও সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে টানা দরপতন ঘটিয়েছে। এ চক্রটি কারা খুঁজতে শুরু করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। পুঁজিবাজারে চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে ধারাবাহিকভাবে ব্যাপক দরপতন হয়েছে।

এ দরপতনের পেছনের কারণ খতিয়ে দেখতে গত ২১ জুলাই তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এরপর থেকে তদন্ত কমিটি বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে। এর মধ্যে দরপতনের পেছনে অস্বাভাবিক লেনদেনের নেপথ্যে হোতাদের তথ্য এসেছে তদন্ত কমিটির কাছে। নির্ভরযোগ্য সূত্র দৈনিক দেশ প্রতিক্ষণের কাছে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

জানা যায়, দর পতনের কারণ অনুসন্ধানে উভয় স্টক এক্সচেঞ্জের কাছে চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত লেনদেনের হিসাবসহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য চেয়েছে তদন্ত কমিটি। এর মধ্যে রয়েছে, শেয়ার বিক্রির ভিত্তিতে শীর্ষ ৫০ স্টক ব্রোকারের তথ্য এবং তাদের ডিলার হিসাবের মোট সম্পদ মূল্যের হিসাব; তালিকাভুক্ত ব্যাংক ও নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিদ্যমান বিনিয়োগের চিত্র; যেসব ডিলারের বিও হিসাবে ২ কোটি টাকা বা তার বেশি শেয়ার বিক্রি হয়েছে তাদের হিসাব বিবরণীর কপি; স্টক ব্রোকার প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার পোর্টফোলিও’র হিসাব বিবরণী; আর্থিক খতিয়ান; ট্রান্সজেকশন ফি; ব্যাংক হিসাব; মোট অর্থ স্থানান্তর; জমা ও উত্তোলন; মোট শেয়ার বিক্রির পরিমাণ ও মূল্যের হিসাব।

পাশাপাশি তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালক ও প্লেসমেন্ট শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার বিক্রির পরিমাণ, মূল্য ও অর্থ উত্তোলনের হিসাব। এছাড়া অন্যান্যের মধ্যে স্টক এক্সচেঞ্জের মনিটরিং এবং সার্ভিলেন্স বিভাগ থেকে অস্বাভাবিক লেনদেনের প্রতিবেদন, স্টক এক্সচেঞ্জের নিজস্ব বিচারে বাজার নেতিবাচক হওয়ার কারণ, গুজব বা অন্য কোনো তথ্য থাকলে সে সম্পর্কে প্রতিবেদন। মার্কেটকে প্রভাবিত করতে পারে পত্রিকার এমন প্রতিবেদন এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য চেয়েছে তদন্ত কমিটি।

পুঁজিবাজারে দরপতনের নেপথ্যে অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেনকারী শীর্ষ ১৭ প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীকে তলব করেছে বিএসইসি কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটি। তাদেরকে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর শুনানির জন্য ডাকা হয়েছে। এ ব্যাপারে গত সোমবার সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

যাদের বিরুদ্ধে চিঠি পাঠানো হয়েছেও ডাকা হয়েছে এর মধ্যে ১৭ প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীকে। এর মধ্যে প্রাইম ইসলামী সিকিউরিটিজ লিমিটেড, কোয়ান্টা ইক্যুইটিজ লিমিটেড, রেয়ার ইন্টারন্যাশনাল এবং নাহার ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং কোম্পানি। আর শুনানির জন্য ডাকা ব্যক্তিরা হলেন: নারায়ণ চন্দ্র পাল, মিশু পাল, সুজন পাল, আরতি পাল, তাপস পাল ও নারায়ণ চন্দ্র পাল, তাপসী রানী পাল, প্রিতম পাল, নিতু পাল, সুলাইমান রুবেল, নাজমুন নাহার, মোহাম্মদুজ্জামান ও মো. মুহিবুল ইসলাম।

বিএসইসি সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্ট এই ১৭ প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীর নামে শুনানির জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে। গত ৫ আগস্ট বিএসইসি’র এনফোর্সমেন্ট ডিপার্টমেন্ট থেকে ১৭টি মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউজের বিনিয়োগকারীকে চিঠি দিয়ে দেয়া হয়েছে। এদিকে গঠিত তদন্ত কমিটি কর্তৃক ১৭ প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীকে শুনানির খবর পুঁজিবাজারে ছড়িয়ে পড়লে বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।