চুল কেটে, জুতার মালা পরিয়ে গাছে বাঁধা হলো গৃহবধূকে

শুক্রবার, আগস্ট ৯, ২০১৯

রংপুর:রংপুরের গঙ্গাচড়ায় এক গৃহবধূকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে চুল কেটে ফেলা হয়েছে। এমনকি তাকে জুতার মালা পরিয়ে গাছে বেঁধে পাশবিক নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলার বেতগাড়ি ইউনিয়নের ছিটমহল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতিতার স্বামী ছয়জনকে আসামি করে গঙ্গাচড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় আব্দুল মোতালেব ও নওরিন নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মামলা সূত্রে জানা যায়, নির্যাতিতা মনিকা বেগমের (৩৮) দেবর আব্দুল মতিনের মেয়ে মৌসুমী বেগমের বিয়ে হয় রংপুর সদর উপজেলার পাগলাপীর এলাকার লিটন মিয়ার সঙ্গে। বিয়ের পর লিটনের সাথে স্ত্রীর বনিবনা না হওয়ায় গত ২১ জুলাই তাদের মধ্যে তালাক হয়।

তালাকের বিষয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বেশ কয়েকদিন ধরে মনোমালিন্য চলছিল। তাদের ধারণা, মনিকা বেগমের ইন্ধনেই তালাক হয়েছে। এ কারণে বুধবার বিকেলে আব্দুল মতিন, তার স্ত্রী, মেয়ে এবং তার ভাই আব্দুল মোতালেবসহ পরিবারের লোকজন এক হয়ে মনিকা বেগমের চুল কেটে, জুতার মালা পরিয়ে গাছের সাথে বেঁধে মারধর করে।

পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য মানিকা বেগমকে উদ্ধার করে। বেতগাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান লিপটন জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা পরস্পর আত্মীয় স্বজন।

এ ঘটনায় ওই গৃহবধূর স্বামী মোকলেছ মিয়া বাদী হয়ে ছয়জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পরপরই এজাহারভুক্ত আসামি আব্দুল মোতালেব ও নওরিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গঙ্গাচড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান জানান, মামলার এজাহারবুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। অন্যান্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।