‘আমাকে জোরপূর্বক অস্ত্রোপচার করে হিজড়া করা হয়েছে’

বুধবার, জুলাই ৩১, ২০১৯

ঢাকা: তৃতীয় লিঙ্গ বা হিজড়াদের জীবন আসলেই মানবেতর। নেই শিক্ষা, চাকরি কিংবা সামাজিক মর্যাদা। উদ্দেশ্যহীন জীবনে তাদের কেউ জড়িয়ে পড়ছে ছিনতাই আবার কেউ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে, কেউবা যৌন পেশায়। এমন অনেক অভিযোগ রয়েছে হিজড়াদের বিরুদ্ধে।

চলার পথে রাস্তাঘাটে বা পাবলিক বাসে তৃতীয় লিঙ্গের কাউকে দেখলে অনেকে আঁতকে ওঠেন। কারণ কেউই চায়না হিজড়াদের সাথে কোন ঝামেলায় জড়াতে। ঝামেলা এড়াতে অনেকে তাদের চটজলদি টাকা দিয়ে কেটে পড়েন। টাকা দেওয়া-না দেওয়া নিয়ে তৃতীয় লিঙ্গের লোকজনের সঙ্গে কারও কারও রীতিমতো ঝগড়াবিবাদও লেগে যায়। হিজড়াদের ব্যাবহারে বিরক্তি প্রকাশ করেন না এমন লোক পাওয়া খুবই দায়।

বেশির ভাগ ক্ষেত্রে টাকা চেয়ে বা জোর করে টাকা আদায় করতে দেখা যায় তাদের। সাধারন মানুষদের জিম্মি করে জীবিকা নির্বাহ করতে দেখা যায় তৃতীয় লিঙ্গের লোকজনের। এমনকি চাঁদাবাজি ও যৌনাচার করার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। ফলে তৃতীয় লিঙ্গের লোকজনের প্রতি সাধারণ মানুষের অবহেলা ও বৈষম্যও লক্ষণীয়।

‘আমাকে জোরপূর্বক অস্ত্রোপচার করে হিজড়া করা হয়েছে, এমন আভিযোগ করেছেন এক ভুক্তভোগী। তার অভিযোগ সে পুরুষ তার স্ত্রী-সন্তান রয়েছে। একজন তাকে কৌশলে ও জোরপূর্বক অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে হিজড়ায় রূপান্তর করে। আর তার মতো আরও অনেক পুরুষের ভাগ্যেই ঘটেছে একই পরিণতি। তিনি এখন হিজড়াদের রোষানল থেকে বাচতে চান। ফিরে যেতে চান পূর্বের জীবনে।’

এদিকে হিজড়াদের বৈষম্য দূর করতে ও সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে ২০১৩ সালে নভেম্বরে হিজড়া জনগোষ্ঠীকে তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় সরকার। ২০১৪ সালের ২৬ জানুয়ারি হিজড়াদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়ে গেজেট প্রকাশ করা হয়।

কোনো বাড়িতে বা কোনো বাসায় কারো সন্তান ভূমিষ্ঠ হলেই দল বেধে হাজির হয় হিজড়ারা। সেখানে তাদের দাবি থাকে বড় অংকের টাকা। কিন্তু সাধ্য মতো টাকা না পেলে নাজেহাল করে হিজড়াদের দল। অবশেষে তাদের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে পরে টাকা দিতি বাধ্য হয় ভুক্তভোগীরা।

এদিকে কারো সন্তান প্রসবের খবর পেয়ে সেখানে বেশি টাকা দাবি করার বিষয়ে তারা বলেন, হিজড়াদের কারও সন্তান জন্ম হলে সেখান থেকে জোর করে টাকা আদায় করার বিষয়ে হিজড়ারা বলেন, আমরা বেশি টাকা দাবি করলেতো আর কেউ দিয়ে দেয় না। টাকা দাবি করার সময় কে কম করে। আমরা বেশি দাবি করি কিন্তু যা আমাদের দেয়া হয় তার কিছু অংশ সরদারকে দেয়া হয় আর বাকি অংশ দিয়ে আমরা চলি।

দেশের বেসরকারি টিভি চ্যানেলে সংবাদটি প্রকাশিত হয়। সেই আলোকেই আমাদের এই প্রতিবেদনটি করা হয়েছে।