দক্ষিণাঞ্চলের পেয়ারা বাগানে তৈরি হচ্ছে ইকো রিসোর্ট

শনিবার, জুলাই ২৭, ২০১৯

ঝালকাঠি-স্বরূপকাঠি ও বানারিপাড়া উপজেলার সীমান্তে ৫৫টি গ্রাম নিয়ে পেয়ারা বাগান। আষাঢ়, শ্রাবণ ও ভাদ্র মাসে পেয়ারা বিক্রির জন্য বসে ভাসমান বাজার। প্রতিদিন শত শত নৌকায় পেয়ারা বিক্রি হয়। ট্রাক ও বড় বড় ট্রলার নিয়ে পাইকাররা তা কিনতে আসেন। এমন দৃশ্য দেখতে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন ভ্রমণপিপাসুরা। বিদেশিরাও আসেন মাঝে মাঝে। এ মৌসুমে কিশোর-যুবকদের ভিড় থাকে সবচেয়ে বেশি। তারা পেয়ারা বাগানে নির্বিঘ্নে প্রবেশ করে পেয়ারা ও ডালপালা নষ্ট করে। তাই স্থানীয় শিক্ষিত বেকার যুবকদের উদ্যোগে তৈরি হচ্ছে একাধিক পার্ক।

peyara

peyara

স্থানীয়রা জানান, এ অঞ্চলের ‘সবচেয়ে বড়’ ভাসমান হাট এটি। এছাড়াও পাশের পিরোজপুরের স্বরূপকাঠির (নেছারাবাদ) কুড়িয়ানা, আটঘর, আতা, ঝালকাঠির মাদ্রা। এসবই পিরোজপুরের সন্ধ্যা নদী থেকে বয়ে এসে একই খালপাড়ে মিসেছে। ভীমরুলী ভাসমান হাটে পেয়ারা বোঝাই ডিঙি নৌকাগুলো এপাশ-ওপাশ করে। ভালো দামের আশায় তারা এমন করেন। কারণ খালের দু’পাশে ব্যবসায়ীদের আড়ৎ। তারা কিনবেন। বাংলাদেশের সিংহভাগ পেয়ারা উৎপাদনকারী অঞ্চলের চাষিরা ডিঙিতে বসেই বিক্রি করেন। প্রতিবছর দেশি-বিদেশি পর্যটকরা এখানে ভিড় জমান পেয়ারা মৌসুমে।

peyara

২০১৮ সালে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত হর্ষবর্ধন শ্রীংলা ভাসমান এ পেয়ারা হাট পরিদর্শন করেন। চলতি বছরের ১১ জুলাই পরিদর্শন করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার। এসময় ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী, পুলিশ সুপার ফাতিহা ইয়াসমিন উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শনকালে রবার্ট মিলার মন্তব্য করেন, থাইল্যান্ড-ভিয়েতনামের বিভিন্ন বড় বড় শহরে এমন ভাসমান বাজারের দেখা মেলে। বাংলাদেশের একটি প্রত্যন্ত গ্রামে এ হাট সত্যিই অবাক করার মতো। অর্ধবাংলায় তিনি বলেন, ‘এটি দেখতে সত্যিই চমৎকার!’ অদ্ভুত সুন্দর ভাসমান এ হাট ও তার আশপাশের প্রকৃতি যে কতটা নজরকাড়া, তা এখানে না এলে বোঝার উপায় নেই।

peyara

কির্ত্তীপাশা ইউপি চেয়ারম্যান আ. শুক্কুর মোল্লা জানান, দক্ষিণাঞ্চলের পেয়ারা বাগান ও ভাসমান পেয়ারাহাট হিসেবে ভীমরুলী বিখ্যাত। এখানে স্থানীয় কয়েকজন বেকার ও শিক্ষিত যুবকের উদ্যোগে কয়েকটি পার্ক গড়ে উঠেছে। যা বিনোদনপ্রেমিদের জন্য নতুন মাত্রা যোগ করবে।