ইসরায়েলের সঙ্গে কী সম্পর্ক প্রিয়া সাহার, দেশবিরোধী গোপন এজেন্ডা নয় তো?

বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৫, ২০১৯

ঢাকা : ‘বাংলাদেশে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা মুসলিম মৌলবাদী সংগঠনগুলো সংখ্যালঘুদের জমি ও ঘরবাড়ি দখল করে তাদের ওপর চরম নির্যাতন-নিপীড়ন চালাচ্ছে’- সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে এমন নালিশ করে টক অব দ্য কান্ট্রি এখন হিন্দুনেত্রী প্রিয়া সাহা। গোটা দেশে প্রিয়া সাহার বক্তব্য নিয়ে চলছে নানা তর্ক-বিতর্ক ও আলোচনা-সমালোচনা। কোনও ব্যক্তি কিংবা গোষ্ঠীর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে প্রিয়া সাহা ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশ সম্পর্কে এমন মন্তব্য করেছেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে। তবে তার বক্তব্য যে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে তাতে প্রায় সব মহলই একমত।

এরইমধ্যে গণমাধ্যমে খবর এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজের সঙ্গে বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ খালিদ বিন আহমাদ আল খলিফার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন প্রিয়া সাহা।

দ্য টাইমস অব ইসরায়েল, প্যালেস্টাইন পোস্ট, আলজাজিরা, মরক্কো নিউজ’সহ বিশ্বের শীর্ষ গণমাধ্যমগুলোতে ওই বৈঠকের ছবি প্রকাশিত হওয়ার পর প্রশ্ন উঠেছে ইসরায়েলের সঙ্গে প্রিয়ার সম্পর্ক ও সম্পৃক্ততা নিয়ে।

ছবিতে দেখা যায়, দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী যখন হ্যান্ডসেক করছেন প্রিয়া সাহা তখন পেছনের একটি টেবিলে বসে আছেন।

ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর টুইটারে পোস্ট করা এই মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। এরপরই ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকে প্রিয়া সাহার কী কাজ- এমন প্রশ্ন উঠা শুরু হয়। তবে কি বাংলাদেশবিরোধী নতুন কোনও এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্যই ওই বৈঠকে অংশ নিয়েছেন প্রিয়া?

বিশ্ব গণমাধ্যমগুলোতে ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে প্রিয়া সাহাকে নিয়ে আলাদা করে কোনও কথা বলা না হলেও বাংলাদেশের জন্য এটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। বিশেষত, ট্রাম্পের কাছে প্রিয়ার সংখ্যালঘু নির্যাতনের নালিশের পর। আর বৈঠকে যে প্রিয়া সাহাই ছিলেন তাতেও কোনও সন্দেহ নেই। কারণ, ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করার সময় প্রিয়ার পরনে যে পোশাক ছিল ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকেও একই পোশাকই ছিল।

গত বিভিন্ন ধর্মের ২৭ জন মানুষকে ডেকে তাদের দুর্ভোগের কথা শোনেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেখানে মিয়ানমার, নিউজিল্যান্ড, ইয়েমেন, চীন, তুরস্ক, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, জার্মানি ও বাংলাদেশসহ অন্তত ১৬টি দেশের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সেখানে প্রিয়া সাহা নিজেকে বাংলাদেশি পরিচয় দিয়ে ট্রাম্পকে বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান নিখোঁজ রয়েছেন। দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন। আমরা আমাদের দেশেই থাকতে চাই। এখনও সেখানে ১ কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু রয়েছেন। দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন। আমি আমার ঘরবাড়ি হারিয়েছি। তারা আমার ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে এবং জমিজমাও দখল করেছে। কিন্তু এর কোনো বিচার হয়নি। সব সময় রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা মুসলিম মৌলবাদী সংগঠনগুলো সংখ্যালঘুদের জমি ও ঘরবাড়ি দখল করেছে।’

ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহার এই নালিশের ভিডিও পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে এ নিয়ে নানা মহলে সমালোচনা শুরু হয়।

ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করে নালিশ জানানোর পর ওই দিনই (১৭ জুলাই) ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকে যোগ দেন প্রিয়া সাহা। একই দিনের তার দুই বৈঠকে উপস্থিতি জনমনে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

এদিকে ওয়াশিংটনে আয়োজিত ইসরায়েলের বৈঠকটিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও আয়োজিত ‘ধর্মীয় স্বাধীনতা’ শীর্ষক সম্মেলনের অংশ হিসেবে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে ইরান ও আঞ্চলিক হুমকি নিয়েও আলোচনা হয়।

এখন একটি বিষয় লক্ষ্যণীয়, হোয়াইট হাউজে ট্রাম্প ১৬ দেশের যে ২৭ ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেছিলেন সেটিরও কিন্তু বিষয়বস্তু ছিল ‘ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সহিষ্ণুতা’। পম্পেও আয়োজিত ‘ধর্মীয় স্বাধীনতা’ শীর্ষক সম্মেলনের অংশ হিসেবেই ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দুই বৈঠকেরই গুরুত্বপূর্ণ দিক ‘ধর্ম’।

তবে ট্রাম্পের সঙ্গে বাংলাদেশ সম্পর্কে যে মিথ্যাচার প্রিয়া সাহা করেছেন ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকেও তেমন কিছু করেছেন কিনা তা নিয়েও কিন্তু সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে!