সাভারে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারসহ ৬৬ জনের বিরুদ্ধে আবারও মামলা

শনিবার, জুলাই ২০, ২০১৯

সাভার : সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারসহ ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে ৬৬ জনের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে আশুলিয়া থানায় মোহাম্মদ আলী বাদী হয়ে তার জমিতে কানাডিয়ান কলেজের সাইনবোর্ড ভাংচুরের অভিযোগে মামলাটি করেন।

এ ঘটনায় আওলাদ হোসেন (৪৮) নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাকি আসামী ধরতেও অভিযান চলছে। দেয়াল ভাংচুর, লুটপাট ও মারধরের অভিযোগে এর আগে ১১ জুলাই মামলা করা হয়।

মামলার আসামিরা হলেন- গণবিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দেলোয়ার হোসেন (৫৭), পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মীর মর্তুজা আলী বাবু, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরিচালক সাইফুল ইসলাম শিশির ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবদুস সালামসহ ১৬ জন। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এর আগে দেয়াল ভাংচুর ও লুটপাটের মামলায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ, রেজিস্ট্রার দেলোয়ার হোসেন, পরিচালক সাইফুল ইসলাম শিশির, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মীর মর্তুজা আলী বাবু, আওলাদ হোসেনসহ ৯৬ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়। এ মামলায় বুধবার দুপুরে হাইকোর্ট থেকে এক মাসের অন্তর্বর্তী জামিন নেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীসহ মামলার অন্য আসামিরা। জামিন আদেশের ৩৬ ঘণ্টার ব্যবধানে বৃহস্পতিবার সকালে বিরোধপূর্ণ জমিতে কানাডিয়ান কলেজের সাইনবোর্ড ভাংচুরের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় মোহাম্মদ আলী মামলা করেন। তবে এবার বয়োবৃদ্ধ ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে আসামি করা হয়নি। এ মামলার পর আশুলিয়ার বাইশমাইল টাকশুর এলাকার নিজ বাড়ি থেকে আওলাদকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

মামলার বাদী মোহাম্মদ আলী বলেন, আশুলিয়া থানার পাথালিয়া মৌজার চার দশমিক ২৪ একর জমি তিনি, তাজুল ইসলাম ও আনিছুর রহমান কিনেছেন। জমির সীমানাপ্রাচীরের মধ্যে কানাডিয়ান কলেজের সাইনবোর্ড লাগানো ছিল। সাইনবোর্ডটি মামলার আসামিরা বৃহস্পতিবার সকালে ভাংচুর করেছে।

মামলার পর ওইদিন রাতে পুলিশ টাকশুর এলাকা থেকে আওলাদকে গ্রেফতার করে। তিনি বলেন, এর আগে ১১ জুলাই সীমানাপ্রাচীর ভাংচুর, অনধিকার প্রবেশ, লুটপাটের অভিযোগে মামলা করেন। আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে ওই মামলায় জামিন নিয়ে সাইনবোর্ড ভাংচুর করেছে।

এ ব্যাপারে গণবিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দেলোয়ার হোসেন ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মীর মুর্তুজা আলী জানান, উল্লিখিত জমিতে সীমানাপ্রাচীরসহ গণস্বাস্থ্যের একটি একতলা ভবন ছিল। এ ছাড়া বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য মাটি কাটা হয়েছিল। ভুয়া দলিলের মাধ্যমে ভূমিদস্যু মোহাম্মদ আলী ও তার সহযোগীরা ভাড়াটে ক্যাডার দিয়ে কয়েক মাস আগে জমিটি জবরদখল করে নেয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মামলাও করা হয়। এমনকি গণস্বাস্থ্য মেডিকেল কলেজের আবাসিক নারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের হল থেকে বের করে দেয়া হয়। মোহাম্মদ আলী ও তার সহযোগীরা মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। কানাডিয়ান কলেজের নামে বিরোধপূর্ণ জমিতে সাইনবোর্ড লাগিয়ে এবং তা ভেঙে উল্টো আসামি করে বারবার হয়রানি করছে।

আশুলিয়া থানার এসআই বদরুজ্জামান বলেন, ভাংচুর করার অভিযোগে আওলাদ নামে একজনকে বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামীদের ধরতেও অভিযান চলছে বলেও তিনি জানান।