ফ্যাসিবাদী আ’লীগ সরকার জনআতঙ্কে ভুগছে: ফখরুল

শনিবার, জুলাই ২০, ২০১৯

ঢাকা : বর্তমান ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকার এখন জনআতঙ্কে ভুগছে, জনসমাগম দেখলেই জনবিস্ফোরণের আশঙ্কায় শিউরে উঠছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শনিবার (২০ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বর্তমান ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকার এখন জনআতঙ্কে ভুগছে, জনসমাগম দেখলেই জনবিস্ফোরণের আশঙ্কায় শিউরে উঠছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি দেশের সর্ববৃহৎ জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল, এই দলটির উদ্যোগে সবসময়ই গণতান্ত্রিক আচার-আচরণ অনুসরণের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে সভা-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। অথচ গণধিকৃত আওয়ামী লীগ সরকার বরাবরই বিএনপির শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশগুলোকে পন্ড করতে প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করে আসছে।

তিনি বলেন, গত ১৮ জুলাই বরিশালে বিএনপি’র উদ্যোগে বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে, কিন্তু সেখানে সরকার নানাভাবে বিএনপি নেতাকর্মীদেরকে হয়রানি করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় সরকার চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশকে বানচাল করার সুপরিকল্পিত অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট বিভাগের বিভিন্ন জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদেরকে ভীত সন্ত্রস্ত রাখতে গ্রেফতারসহ নানামূখী হয়রানী করছে। জনগণ নয় বরং আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন যন্ত্রকে কব্জায় নিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় টিকে থাকতে চায় বর্তমান শাসকগোষ্ঠী। তারা বিএনপিসহ দেশের সকল বিরোধী দলগুলোর মূলোৎপাটনের মাধ্যমে নব্য বাকশালী শাসন বলবৎ রেখে জনগণকে শাসন ও শোষণ করতে চায়। দেশব্যাপী জনগণের মধ্যে আতংক সৃষ্টির জন্য হত্যা, গুপ্তহত্যা, গুম, অপহরণসহ নারী-শিশুদের উপর নির্যাতনের মতো ভয়ংকর মানবতাবিরোধী ঘটনা সংঘটনের পাশাপাশি বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা জনগণকে সাথে নিয়ে যাতে বর্তমান দু:শাসানের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে না পারে সেজন্য তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে গ্রেফতারের মাধ্যমে কারাগারে বন্দী করে রাখার মতো অপকৌশলের আশ্রয় নিয়েছে ভোটারবিহীন সরকার।

তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বলতে যা বোঝায় তা এখন নিঃশেষ করে দেয়া হয়েছে বলেই আওয়ামী সরকার ফ্যাসিবাদী কায়দায় দেশ শাসনে মাতোয়ার হয়ে উঠেছে।

মানবতাবিরোধী সকল কর্মকাণ্ডে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকার দলীয় সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করা হচ্ছে। ভোট ছাড়াই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা জবরদখলকারী বর্তমান গণবিচ্ছিন্ন সরকার তাদের বেসামাল অবস্থাকে সন্ত্রাসী কায়দায় সামাল দেয়ার জন্যই বিএনপির নেতাকর্মীদেরকে কারাগারে আটকিয়ে রাখার কুমতলব গ্রহণ করেছে। কিন্তু জালিম সরকারের এসব অন্যায় ও কুমতলব তছনছ করে সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার ‘গণতন্ত্রের মা’ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করার মাধ্যমে দেশে হারানো গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে জনগণ এখন রাস্তায় নামার প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

শুক্রবার ফেনী থেকে ফেনী জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক গাজী হাবিব উল্লাহ মানিক, জেলা যুবদল সভাপতি জাকির হোসেন জসিম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি সাইদুর রহমান জুয়েল, সদর উপজেলা যুবদলের আহবায়ক আতিকুর রহমান মামুন, দাগণভূঁইয়া উপজেলা যুবদলের সভাপতি হাসানুজ্জামান শাহাদাৎ, ফেনী পৌর যুবদলের সমন্বয়ক জাহিদ হোসেন বাবলু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি শরীফুল ইসলাম এবং ফেনী পৌর যুবদল নেতা কাজী সোহাগকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে গ্রেফতারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে গণমাধ্যমে বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ফেনী জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত বানোয়াট মামলা প্রত্যাহারসহ অবিলম্বে তাদের নি:শর্ত মুক্তির জোর দাবি জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।