ইজিবাইক থেকে নামিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা!

শনিবার, জুলাই ২০, ২০১৯

মাদারীপুর : মাদারীপুরে দশম শ্রেণির মাদরাসাছাত্রী দিপ্তী আক্তারকে ধর্ষণ শেষে হত্যার করে লাশের সঙ্গে ইট বেঁধে পুকুরে ফেলে রাখার মামলায় প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে মাদারীপুর র‌্যাব ক্যাম্পের সদস্যো।

শনিবার (২০ জুলাই) মাদারীপুর র‌্যাব ক্যাম্পে র‌্যাব-৮ এর কমান্ডিং অফিসার আতিকা ইসলাম সকাল সাড়ে ১০টায় প্রেস ব্রিফিং করে সাংবাদিকদের এ কথা জানান। গ্রেফতারকৃত আসামি মো. সাজ্জাদ হোসেন খানের স্বীকারোক্তি উল্লেখ করে দিপ্তীর হত্যার ঘটনা বর্ণনা করেন আতিকা ইসলাম।

র‌্যাব-৮ বরিশাল ক্যাম্পের সিও এডিশনাল ডিআইজি আতিকা ইসলাম জানান, দীপ্তি গত বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) বৃষ্টির মধ্যে শহরের ইটেরপুল থেকে চরমুগরিয়ার উদ্দেশে একটি ইজিবাইকে ওঠেন। ইজিবাইকে আর কোনও যাত্রী না থাকায় চালক সাজ্জাদ হোসেন খান চরমুগরিয়ার দিকে না গিয়ে বাসায় একটু কাজ আছে বলে দীপ্তিকে নিজের বাড়ির দিকে নিয়ে যায়। তার স্ত্রী ও সন্তান শ্বশুর বাড়ি থাকার সুযোগে সে দীপ্তিকে জোর করে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে দীপ্তিকে হত্যা করে ইটের সঙ্গে বেঁধে পাশের একটি পরিত্যক্ত ডোবায় ফেলে দেয়। দুইদিন পর লাশটি ভেসে উঠলে উৎসুক জনতার মত সাজ্জাদ হোসেন খানও দেখতে যায়।

সাজ্জাদ মাদারীপুর পৌরসভার পূর্ব খাগদী এলাকার মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে। এর আগে ১৯৯২ সালে ৭ বছরের শিশুকে গলাকেটে হত্যার মামলায় ১৮ বছর কারাভোগ করেন সাজ্জাদ।

১৩ জুলাই নিহতের লাশ পুকুরে ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে। পরে লাশের শরীরের বিভিন্ন চিহ্ন দেখে দিপ্তীর লাশ শনাক্ত করে পরিবার।

১৪ জুলাই নিহত দিপ্তীর পরিবার সদর মডেল থানায় ধর্ষণ শেষে হত্যা করা হয়েছে এ মর্মে একটি মামলা করে। লাশ উদ্ধারের সূত্র ধরে তদন্তে নামে র‌্যাব। পরবর্তীতে ধর্ষণ ও হত্যার কাজে ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার ও সাজ্জাদকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় দোষ স্বীকার করেছে বলেও জানিয়েছে র‌্যাব। পরে শনিবার দুপুরে সাজ্জাদকে সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়।