সবাই ঐক্যবদ্ধ হোন, খালেদা জিয়ার মুক্তিতে রাজপথ দখলের সময় এসেছে: ফারুক

শুক্রবার, জুলাই ১৯, ২০১৯

ঢাকা : দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও সাবেক বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক বলেছেন, ‘আসুন আমরা সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে রাস্তায় নামি, রাজপথ প্রকম্পিত করি। রাজপথ দখলে নেয়ার সময় এসে গেছে। যতই অত্যাচার হোক যতই নির্যাতন হোক যতই মামলা-হামলা হোক বিএনপির ঐক্য আরও জোরদার হচ্ছে। বিএনপির ভীত আরও শক্তিশালী হচ্ছে।’

কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন বেগবান করতে সহসাই দলটি কঠোর কর্মসূচি দিবে জানিয়ে ফারুক বলেন, ‘১৬ কোটি মানুষের প্রাণের নেত্রীর মুক্তির আন্দোলন বেগবান করতে সহসাই কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। গতকাল বরিশালের মহাসমাবেশে সারা দেশবাসী লক্ষাধিক লোকের সমাগম দেখেছে। আগামীকাল চট্টগ্রামে হবে, ২৫ তারিখ হবে খুলনায়। সেগুলোতেও লক্ষ লক্ষ লোকের সমাগম ঘটবে। আশা করবো সরকার তার আগেই বেগম জিয়ার মুক্তির ব্যবস্থা করবে। তা না হলে সারা দেশে যে তীব্র আন্দোলন গড়ে উঠবে সেই আন্দোলনের তোড়ে অবৈধ সরকারের গদি অবশ্যই নড়ে যাবে।’

শুক্রবার (১৯ জুলাই) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অপরাজেয় বাংলাদেশ নামক একটি সংগঠন আয়োজিত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন নিয়ে নাটকীয়তার প্রতিবাদে এক মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ফারুক বলেন, ‘সারা বাংলাদেশের মানুষ আজ মানবেতর জীবনযাপন করছে। ২০১৪ সালের অবৈধ নির্বাচনের পর থেকে বাংলাদেশে যে দলটি ক্ষমতাসীন সেই দলটির অত্যাচার-নির্যাতনে গুমে, খুনে জর্জরিত বিএনপি এবং দলটির চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। যিনি বাংলাদেশের সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, যিনি বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী, সেই নেত্রী আজ মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় কারাগারে। তাঁর মুক্তির দাবিতে আমরা আজকে রাজপথে দাঁড়িয়েছি।’

এসময় সাবেক বিরোধীদলীয় এই চিফ হুইপ প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘কার কাছে আমরা দাবি করবো? একটি কাল্পনিক ও অসত্য মিথ্যা মামলায় বেগম জিয়ার এতদিন জেলে থাকার কথা নয়। যদি সত্যিকার অর্থেই এই সরকার মানবিক হতো গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার হতো তাহলে দেশনেত্রী এতদিন জেলে থাকার কথা নয়। আমরা বারবার এই সরকারের কাছে দাবি করে আসছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর অত্যাচার করছে। হত্যা-নির্যাতন করছে। ২৫ লক্ষের অধিক মামলা বহন করে আমাদের নেতাকর্মীরা জীবনযাপন করছে। আজকে আমাদের নেত্রী অসুস্থ। তাঁর চিকিৎসার জন্য কেন আপনার (প্রধানমন্ত্রী) কাছে বারবার দাবি জানাতে হবে। আপনি যদি একটি প্রাচীন রাজনৈতিক দলের সভাপতি হয়ে থাকেন মুক্তিযুদ্ধে বেগম খালেদা জিয়ার স্বামীর কথা যদি স্মরণ করতেন তাহলে আজকে তাঁকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে থাকতে হতো না। তাই আজকে আমরা দাবি করছি অবিলম্বে তাঁকে মুক্তি দেয়া হোক। আর সেটি না হলে কোন অঘটনের জন্য আপনাকে (প্রধানমন্ত্রী) দায় নিতে হবে।’

সরকারের সমালোচনা করে ফারুক বলেন, ‘এই সরকারের কাছে দাবি করে কী লাভ? যে সরকার বানভাসি মানুষের পাশে দাঁড়ায় না যে সরকার পৌরসভার কর্মচারীদের বেতন দিতে পারে না একটু বৃষ্টি হলেই চট্টগ্রাম শহর তলিয়ে যায়, যে সরকার এই খবরও রাখে না- তারা আজকে কীকরে বেগম জিয়ার খবর রাখবে?’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘সরকার কোনোভাবেই চায় না বেগম জিয়ার মুক্তি হোক, দেশে গণতান্ত্রিক আন্দোলন হোক। ভোটারবিহীন সরকারের এসব মনে রাখার কথাও না। কারণ এই সরকার চায় কৌশল করে ক্ষমতায় থাকতে। আর সেটিই করে যাচ্ছে তারা।’

আয়োজক সংগঠনের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব খলিলুর রহমান ইব্রাহিমের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন সিরাজীর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, সহ-শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ফরিদা মনি শহীদুল্লাহ, কৃষকদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কে এম রফিকুল ইসলাম রিপন ও এম জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ বক্তব্য দেন।